'যাত্রায় অশ্লীলতার জন্য শিল্পীরা নয়, স্থানীয় প্রভাবশালীরা দায়ী'
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
এটি একটি লোকনৃত্যের দৃশ্য.. কিন্তু যাত্রাঅনুষ্ঠানে যেসব নৃত্যগীত প্রদর্শিত হয় সেগুলোর বিরুদ্ধে অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছিলো। যাত্রাশিল্পীরা বলছেন অশ্লীল নৃত্যগীত তারাও বন্ধ চান
নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশে যাত্রা প্রদর্শন এখন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছেন, ফলে কাজ নেই দলগুলোর তাতে বন্ধ হয়ে গেছে শিল্পী কুশলীদের আয় রোজগার । অথচ বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবেই জড়িয়ে ছিলো যাত্রাপালা। রাতভর মানুষ আগ্রহ নিয়ে উপভোগ করতো গ্রামগঞ্জের মানুষ।

শিল্পীরা চান এবারের ঈদকে সামনে রেখে এখনই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হোক, সুযোগ হোক যাত্রাপালা মঞ্চায়নের।

ঈদের সময়টায় যাত্রাদলগুলো দেশজুড়ে মেলাসহ নানা আয়োজনে যাত্রা প্রদর্শনের সুযোগ পেতো।

এবারের ঈদে সেটিও তারা পাচ্ছেননা বলেন জানিয়েছেন 'জাগো বাংলাদেশ যাত্রা ফেডারেশনে'র সাধারণ সম্পাদক আরিশা অরিন।

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, " টেলিভিশন মিডিয়ায় যারা কাজ করছেন তারা ঈদের অনেক আগে থেকেই কাজ শুরু করে। অথচ যাত্রা শিল্পকে নিয়ে কারো মাথাব্যাথা নেই। তিন বছর ধরে যাত্রা সম্পূর্ণ বন্ধ আছে। কোনভাবেই মঞ্চায়ন করা হচ্ছেনা। ঈদ উপলক্ষে সেভাবে কোন উদ্যোগ নেই"।

যাত্রা শিল্পে অশ্লীলতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "যাত্রাপালায় কিন্তু বিন্দুমাত্রা অশ্লীলতা নেই। তবে যাত্রা শুরুর আগে কোন কোন এলাকায় আয়োজক কমিটি যাত্রামঞ্চ অশালীণ নৃত্যগীতের আয়োজন করে থাকে। এ ধরনের কাজে এক ধরনের বিকৃত রুচি মালিকদেরও সম্পৃক্ত হতে দেখা যায়"।

তিনি বলেন, "যাত্রার নামে অশ্লীলতা চলে স্থানীয় প্রভাবশালী, রাজনৈতিক গডফাদার আর দুর্নীতিবাজ প্রশাসনিক কর্মকর্তার কারনে। আমরা যাত্রাশিল্পীরা এসব অপকর্মের ঘোর বিরোধী"।

যাত্রা বন্ধ থাকায় শিল্পীরা বিকল্প কি করছেন ? জবাবে তিনি বলেন, "আসলে সবাই মানবেতর জীবন যাপন করেছেন আর অনেকে পেশা পরিবর্তন করেছেন। এ শিল্পের সবাই শিক্ষিত নন, বরং অনেকেই স্বশিক্ষিত। তাই অনেকে বাচাঁর তাগিদে অন্য কাজ বেছে নিচ্ছে"।

তিনি বলেন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই যাত্রা আগের অবস্থানে ফিরবেনা। এ শিল্পের নীতিমালা আছে কিন্তু এর সঠিক প্রয়োগ কোথাও নেই।

২১ জুন, ২০১৭ ১১:০৯:১৪