জঙ্গি বিরোধী অভিযানের তালিকার নিখোঁজরা কোথায়?
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
হোলি আর্টিজান বেকারির জঙ্গি হামলার সঙ্গে জড়িতদের প্রায় সবাই ছিল বাড়ি থেকে ‘নিখোঁজ'৷ সেই সন্দেহের জায়গা থেকে দীর্ঘদির ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী৷ তাদের সর্বশেষ অবস্থা কী? কোথায় আছে তারা? গত জুলাইয়ে হোলি আর্টিজানে হামলার পর, র‌্যাব মোট ২৬২ জন নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করে৷ এরা কে, কী কারণে নিখোঁজ তা নিশ্চিত করে বলা না হলেও, এক ধরনের সন্দেহ থেকেই ওই তালিকা প্রকাশ করা হয়৷ কিন্তু পরে ওই তালিকা সংশোধন করে ৭০ জনের একটি চূড়ান্ত তালিকা ছবিসহ প্রকাশ করা হয়৷ সর্বশেষ এই তালিকায় ৬৮ জনের নাম পাওয়া যায়, যাদের মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র একজনের গ্রেপ্তার হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে৷ তার নাম শেখ ইফতিসাম আহমেদ সানি৷ এছাড়া নব্য জেএমবি নেতা তামিম চৌধুরী নারায়ণগঞ্জে জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে৷ এখানে প্রশ্ন হলো, তাহলে বাকিরা কোথায়? তারা দেশে আছে না বিদেশে?

গোয়েন্দাদের কাছ থেকে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে থেকে জানা যায় যে, এই নিখোঁজদের একটি অংশ সিরিয়ায় অথবা অন্য কোনো মুসলিম দেশে রয়েছে৷ তালিকায় এক ব্যক্তির নাম-ঠিকানা দেওয়া হয়েছে তার পরিবারবর্গের সাথে৷ ওই ব্যক্তি নাকি সপরিবারে সিরিয়া চলে গেছে জঙ্গি দলে যোগ দিতে৷ সেখান থেকেই তারা ঢাকায় তাদের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছে বলে খবর৷

জানা গেছে, তালিকায় না থাকলেও আরো বেশ কিছু জঙ্গি ধরা পড়েছে অথবা নিহত হয়েছে, যাদের একটি অংশ বাড়ি থেকে নিখোঁজ ছিল৷ ২৪ মার্চ ঢাকার বিমানবন্দরে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত আয়াদ হাসান তার চাচাত ভাই রাফিদ হাসানকে নিয়ে গত ৯ আগস্ট থেকে নিখোঁজ ছিল৷ পুলিশের ধারণা, রাফিদ সীতাকুণ্ডে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে নিহত হয়৷ এছাড়া চেকপোস্টে হামলার সঙ্গে জড়িত আরো এক যুবক অমিও নাকি নিখোঁজ ছিল৷ পুলিশ অবশ্য তাকে ইতিমধ্যেই আটক করেছে৷

এদিকে দু'বছর আগে সিলেটে ফেঞ্চুগঞ্জের মাইজগাঁও গ্রামের একই পরিবারের ১২ জন সদস্য নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা৷ কারণ ঐ পরিবারের এক নবীন সদস্যের আগ্নেয়াস্ত্র হাতে একটি ছবি  আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে এসেছে৷ পুলিশ এরইমধ্যে তাদের বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে৷ শুধু তাই নয়, পরিবারের সব সদস্যদের ছবিও সংগ্রহ করেছে পুলিশ৷

নিখোঁজদের তালিকা প্রকাশের পর গত সেপ্টেম্বরে পুলিশের আইজি শহীদুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘‘এদের মধ্যে অন্তত ৪০ জন জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছে বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে৷'' এই খবর কীভাবে পাওয়া গেল জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘আমরা নিখোঁজদের পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করেছি৷ অনেক পরিবারই জানিয়েছে যে, নিখোঁজ ব্যক্তি ফোনে জঙ্গি সংগঠনে যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিজের মুখেই তাদের জানিয়েছে৷ এরপর তারা সশরীরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না রাখলেও বিভিন্ন সময় ফোন করে তাদের জানিয়েছে যে, তারা ভালো আছে৷''

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, ‘নিখোঁজদের মধ্যে একটি অংশ ফিরে এসেছে৷' এদের সঙ্গে পুলিশ নিয়মিত কথা বলছে এবং নজরদারিতে রেখেছে বলে জানা গেছে৷ তবে নিরাপত্তাসহ নানা কারণে তাদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না৷ ওই সূত্র জানায়, ‘সব মিলিয়ে তালিকার অন্তত ২০ জন জঙ্গি হয় ধরা পড়েছে অথবা নিহত হয়েছে৷'

নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ (অব.) ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যারা জঙ্গি দলে যোগ দেয়, তাদের অধিকাংশই হিজরত করে বা বাড়ি ছেড়ে চলে যায়৷ এটা তাদের একটি কৌশল৷ কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যেসব পরিবার বুঝতে পারছে যে তাদের সন্তান বা পরিবারের সদস্য জঙ্গি দলে যোগ দিয়েছে, তারা সামাজিক কারণে তা প্রকাশ করতে চায় না৷ প্রথমে যে তালিকা র‌্যাব করেছিল, তা নিখোঁজদের পরিবারের জিডি-র ভিত্তিতে করেছিল৷''

তিনি বলেন, ‘‘তবে জঙ্গিবিরোধী অভিযানকে আরো কার্যকর করতে আগের তালিকায় কারা, কোথায় আছে – সে তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন এবং তালিকা ‘আপডেট' করা প্রয়োজন৷ কারণ এদের ‘ট্র্যাক' করতে হলে ‘আপডেট' করতে হবে৷''

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তালিকার কারা, কী অবস্থানে আছে তা তো সংবাদমাধ্যমেই প্রকাশ হয়েছে বা হচ্ছে৷ আমাদের পক্ষে এই মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়৷ তবে তালিকা আমাদের নিজেদের কাজের জন্য প্রতিনিয়তই ‘আপডেট' হচ্ছে৷'' -ডয়েচেভেলে

 

২০ এপ্রিল, ২০১৭ ০৯:৩২:০২