নবযাত্রা ও জয়যাত্রা বাংলাদেশকে কী সুবিধা দেবে?
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
নৌ-বাহিনীর দু'টি সামমেরিনের নাম ‘নবযাত্রা' এবং ‘জয়যাত্রা'৷ চীন থেকে আনা এই সাবমেরিন দু'টি তৈরি হয় ১৯৯০ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে৷ বিশ্লেষকরা বলছেন, ‘‘এগুলো বাংলাদেশের কৌশলগত শক্তি বাড়িয়ে দিয়েছে৷'' প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রবিবার সাবমেরিন দু'টির কমিশনিং করেন চট্টগ্রামের নৌ-জেটিতে৷ সাবমেরিন কেনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘‘আমরা কারো সঙ্গে কখনো কোনো যুদ্ধে লিপ্ত হতে চাই না৷ কিন্তু কেউ যদি আক্রমণ করে, তাহলে যেন তার সমুচিত জবাব দিতে পারি, সে প্রস্তুতি আমাদের থাকবে৷ সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা যা যা করণীয় তা করে যাচ্ছি৷'' শুধু তাই নয়, নৌ-বাহিনীকে ২০৩০ সালের মধ্যে একটি কার্যকর ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী৷

বাংলাদেশের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত সংবাদ সংস্থা বাসস এবং আইএসপিআর থেকে এই সাবমেরিন দু'টির ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে৷ ৭৬ মিটার লম্বা সাবমেরিন দু'টির প্রতিটির ওজন এক হাজার ৬০৯ টন৷ এছাড়া এদের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১৭ নটিক্যাল মাইল৷

আইএসপিআর থেকে জানানো হয়, ‘‘চীন থেকে কেনা ০৩৫ জি ক্লাসের এ দু'টি সাবমেরিনে আছে নানা সুবিধা৷ শত্রুপক্ষের যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনে আক্রমণ করার সক্ষমতা রয়েছে টর্পেডো ও মাইনে সুসজ্জিত এই সাবমেরিনগুলোর৷ ডিজেল ইলেক্ট্রিক সাবমেরিন দু'টির প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৭৬ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৬ মিটার৷ নৌ-বাহিনীতে এগুলো যুক্ত হওয়ার ফলে বঙ্গোপসাগরের বিস্তৃত সাগর এলাকা নিরবচ্ছিন্নভাবে পাহারা দেওয়া ও আঘাত করার সক্ষমতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে৷''

এই সাবমেরিন দু'টি চীন থেকে গত ২২ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে আসে৷ এর আগে ১৪ নভেম্বর সাবমেরিন দু'টি হস্তান্তরের আগে চীন ও বাংলাদেশের নৌ-বাহিনীর অফিসার ও নাবিকদের যৌথ তত্ত্বাবধানে বাস্তব প্রশিক্ষণ ও ‘সি ট্রায়াল' সফলভাবে সম্পন্ন করে বলে জানায় আইএসপিআর৷ এই সাবমেরিন দু'টি কিনতে ২০১৪ সালে ২০৬ কোটি ডলারে চীনের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ৷

এ অঞ্চলে মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের কোনো সাবমেরিন নেই৷ তবে ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইরান ও ইন্দোনেশিয়ার আছে৷ নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল আব্দুর রশীদ ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘কার আছে, কার নাই এটা মুখ্য নয়৷ তাছাড়া বাংলাদেশ কারুর সঙ্গে যুদ্ধের মানসিকতা নিয়েও সাবমেরিন কেনেনি৷ বাংলাদেশ চায় তার নৌ-সীমা নিরাপদ রাখতে৷ আর এটা সত্য যে, সাবমেরিন সংযোজনের মাধ্যমে বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী ত্রিমাত্রিকতার দিকে যাত্রা শুরু করলো৷''

তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশের এখন যা সমুদ্রসীমা এবং সমুদ্র সম্পদ, তার পাহারায় সাবমেরিনের প্রয়োজন আছে৷ শত্রু এবং জরদস্যুরা যখন জানবে বাংলাদেশের সাবমেরিন সক্ষমতা সম্পর্কে তখন তারা অনেক কিছু থেকেই নিবৃত হবে৷''

চীন থেকে আনা এই সাবমেরিন পুরনো – এমন সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এটা ঠিক যে এই দু'টি সাবমেরিন নব্বইয়ের দশকে বানানো হয়েছে৷ কিন্তু তার মানে এই নয় যে, এগুলো পুরনো৷ কারণ এই সাবমেরিন দু'টো নবায়ন করা হয়েছে, নতুন শক্তি দেয়া হয়েছে৷''

রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এগুলো কনভেনশনাল সাবমেরিন এবং এই সাবমেরিনের ফলে বাংলাদেশ কৌশলগত সুবিধা পাবে৷ এছাড়া এই সাবমেরিনগুলোকে পুরনো বলার সুযোগ নেই৷ কারণ এর চেয়ে আরো আগের সাবমেরিন এখনও ব্যবহার হচ্ছে৷''

বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য সাবমেরিন বিলাসিতা কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এটা রাজনৈতিক প্রশ্ন৷ এর জবাব আমি দেবো না৷ তবে একটা উদাহরণ দেই৷ সিঙ্গাপুরের মতো দেশ এখন সাবমেরিন অপারেট করে৷ ফলে মালয়েশিয়া এখন সিঙ্গাপুরকে সমীহ করে চলে৷''

তিনি আরো জানান, ‘‘কনভেনশনাল সাবমেরিন তৈরিতে জার্মানির দক্ষতা আছে৷ বাংলাদেশ চাইলে ভবিষ্যতে সেখান থেকেও এ ধরনের সাবমেরিন নিতে পারে৷''

প্রসঙ্গত, সামরিক সরঞ্জাম কেনায় বাংলাদেশ এখন চীনের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্ভরশীল৷ এর আগে ২০১৪ সালে চীন থেকে ‘আলী হায়দার' ও ‘আবু বকর'  নামে দু'টি যুদ্ধ জাহাজ কেনে বাংলাদেশ৷ ‘জিয়াংহু-৩' ক্লাসের মিসাইল ফ্রিগেট দু'টি দৈর্ঘ্যে ১০৩.২২ মিটার এবং প্রস্থে ১০.৮৩ মিটার৷ জাহাজ দু'টি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৬ নটিক্যাল মাইল বেগে চলতে সক্ষম৷ শুধু তাই নয়, আধুনিক ক্ষমতাসম্পন্ন ওই দু'টি যুদ্ধ জাহাজ বিমান বিধ্বংসী কামান, জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল এবং সমুদ্র তলদেশে সাবমেরিনের অবস্থান শনাক্তকরাসহ সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হানতে সক্ষম৷

 

১৪ মার্চ, ২০১৭ ০৭:০০:৩৮