আশীষ কুমার কানুনগো...মহান এক শিক্ষক
ডা. ফারহানা মোবিন
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলা  ১৪০৮ সালের  আমি। আমি  ছোটবেলা  থেকেই  শিল্প  সাহিত্য  ও  সংস্কৃতির  সাথে  জড়িত । ছোট্ট  বেলায় আমি  গান গাইতাম। কবিতা  আবৃত্তি  করতাম। আমাদের  শিক্ষক  আশীষ  কুমার  কানুনগো ছিলেন  ভীষণ  ভালো  মানুষ। আমার  আব্বু  মারা  যায়  ১৯৯৮ সালে।

স্যার আমাদের  তিন  ভাই  বোন  কে জড়িয়ে  রেখেছিলেন  মমতার  আচলে। আর তার স্ত্রীর কথা  না বললেই  নয়। তিনিও  আমাদের  কে  ভালোবাসতেন  নিজের  সন্তানের  মতো।  পূজার  নাড়ু, পিঠা ..........পরম  মমতায় সংরক্ষণ  করতেন  আমার  জন্য। আমি তখন  ঢাকায়  মেডিকেল কলেজে   পড়তাম । ছুটি  তে কখন  বাসায়  যাবো ,  তিনি  পথ চেয়ে  থাকতেন। স্যার এর হাতে  পৌছে  দিতেন  আমার কাছে ।উনার নাড়ু,  পিঠা, মুড়ি, মুড়কি  পেয়ে  আমার  চোখে  পানি  এসে  যেত।

উনার  মেয়ে  ছিল না। আমাদের  কে ভালোবাসতেন  নিজের  মেয়ের  মতো। দিন  কারো জন্য  অপেক্ষা  করে না। কিন্তু  মানুষের  প্রকৃত  ভালোবাসা  আর  আঘাত  গুলো  থেকে  যায়  মনের  মাঝে।

আমাদের  সংগঠনের অনুষ্ঠান  নিয়মিত  হতো। আমরা  ছিলাম  একটি পরিবার। 

স্যার  ছিলেন  আমাদের  পিতার  মতো। 

আমি চোখ  বন্ধ  করলেই  দেখতে পাই,  আমরা সবাই  স্যারের বাসায়  গান এর রিহার্সেল করছি। স্টেজে  কে কোথায়  বসবো , কে কিভাবে  গাইবো, তার প্রস্তুতি। আর আমি  উপস্থাপনা করতাম  অধিকাংশ  সময়ে।

স্যার আপনি  আমাদের  শিখিয়েছেন  অনেক  কিছু।

তিনি  সব সময়  বলতেন,  " শোনো ভালো  একজন  শিল্পী  কে সবকিছুর  আগে  হতে হবে  একজন  বড়  মাপের মানুষ।"

আমি  এখন  আর  গান  গাইতে  পারি না। কবিতা  আবৃত্তি  করি না। কিন্তু  স্টেজ  আর  মাইক্রোফোন  দেখলেই  আমার  বুকের  ভেতর  ঝর বয়ে  যায়।

২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৬:৫০:৩৮