ওবায়দুল কাদের কি কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন?
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
সদ্য শেষ হওয়া সম্মেলনে নতুন কমিটি পেয়েছে আওয়ামী লীগ৷ সভাপতি শেখ হাসিনা থাকলেও সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ওবায়দুল কাদের৷ ক্ষমতাসীন দলের নতুন সাধারণ সম্পাদক কি বড় কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন? নতুন সাধারণ সম্পাদক আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বা দেশের রাজনীতিতে কতটুকু ভুমিকা রাখতে পারবেন? ডয়চে ভেলের এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্লেষকরা বলছেন, নতুন সাধারণ সম্পাদক রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিবর্তন আনতে পারবেন না৷ তবে ‘মাঠ-ঘাটের নেতা' ওবায়দুল কাদেরকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে নির্বাচনের কথা ভেবে৷ সৈয়দ আশরাফ কর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন৷ ওবায়দুল কাদের কর্মীদের সংগঠিত করতে পারবেন৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘তাঁরা এই সম্মেলনের মাধ্যমে কী ধরনের কর্মসূচি নিয়েছে সেটা দেখতে পারলে ভালো হতো৷ তবে আমার মনে হয়, রাজনীতিতে খুব একটা পরিবর্তন হবে না৷ তাঁরা যেভাবে কাজ করে এসেছে সেভাবেই কাজ করবেন৷ দুই বছর পর নির্বাচন৷ এই সময়টা তাঁরা কিভাবে ক্ষমতায় আসবে সেটা নিয়েই কাজ করবে৷ যিনি সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তাঁর ব্যাপারে অভিযোগ আছে তিনি নিষ্ক্রিয় ছিলেন৷ সভাপতিকে বলে বলে তাকে সক্রিয় করতে হয়েছে৷ আর ওবায়দুল কাদের নিজে থেকেই সক্রিয়৷ তিনি কাজ-পাগল মানুষ৷ নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজও তিনি দৌড়ে দৌড়ে করেন৷ ফলে তিনি যে দলের জন্য ভূমিকা রাখবেন সেটা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই৷''

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. শাহাদুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ আরো বেশি সংগঠিত হতে চেষ্টা করবে৷ সামনের নির্বাচনে তারা একটা ইতিবাচক ভুমিকা রাখার চেষ্টা করবে৷ নতুন সাধারণ সম্পাদকের প্রচুর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে৷ আওয়ামী লীগ সরকারের জনমত বাড়াতে তিনি একটা ভূমিকা রাখার চেষ্টা করবেন৷ এছাড়া তোফায়েল-আমুদের বাদ দেয়া হয়েছে, কারণ, তারা গায়ের জোরে রাজনীতি করতে চান৷ ওবায়দুল কাদের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ব্যাপারে যথেষ্ট সচেতন৷ আমরা আশা করি তিনি আরো গঠনতান্ত্রিকভাবে আওয়ামী লীগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন৷''

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলছেন, কেন্দ্রের সঙ্গে মাঠের নেতাদের যোগাযোগ কমে গেছে৷ বলা যায়, এক ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছে৷ এমন কথা অনেক দিন ধরেই দলীয় সভানেত্রীর কাছে বলা হচ্ছে৷ সাধারণ সম্পাদকই মূলত এই সম্পর্ক দেখভাল করেন৷ এ কারণে হয়তো ওবায়দুল কাদেরকে দায়ীত্ব দেওয়া হয়েছে৷ তিনি কমবেশি সব পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন৷ নির্বাচনের আরো দুই বছর বাকি আছে৷ এই সময়ের মধ্যে সব জেলা সফর, প্রার্থী মনোনয়নসহ নানা কাজ রয়ে গেছে৷ ওবায়দুল কাদেরকে এ কাজগুলোই করতে হবে৷ তা ছাড়া বিগত উপজেলা, ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন পরিচালনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন৷ এই নির্বাচনগুলোয় আওয়ামী লীগ ব্যাপকভাবে জয়লাভ করেছে৷ আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ওয়ায়দুল কাদেরের সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো হতে পারে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা৷

আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি সম্পর্কে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘শুধু বাংলাদেশ নয়, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজনীতির যে প্র্যাকটিস আছে তার বাইরে আওয়ামী লীগ যেতে পারবে না৷ দলের যিনি প্রধান, তাঁর নিয়ন্ত্রণের বাইরে তো কেউ যায় না, যেতে পারে না৷ ওবায়দুল কাদের ভালো মানুষ৷ তার একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে৷ কিন্তু তিনি কী করতে পারবেন? আমরা আগেও দেখেছি, এখনো দেখছি- খুব যে পরিবর্তন আসবে তা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই৷ দলের যিনি প্রধান থাকেন তিনিই সিদ্ধান্ত নেন এবং সেটাই বাস্তবায়ন হয়৷ ফলে আওয়ামী লীগের প্রধান তো শেখ হাসিনাই আছেন৷ তাঁর নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ হবে৷ এই সম্মেলনে তাঁরা গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন করেছে৷ মানুষের কাছে ভালো-মন্দ উপস্থাপন করেছে৷ তাঁরা এই সম্মেলনের মাধ্যমে নির্বাচনের এক ধরনের প্রস্তুতিও নিয়ে ফেলল বলে মনে হচ্ছে৷''

তবে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মনে করেন, আগামী দিনে রাজনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে কি-না সেটা আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণকরাই বলতে পারেন৷ ডয়চে ভেলেকে তিনি বলেন, ‘‘ওবায়দুল কাদের একজন স্বচ্ছ রাজনীতিক৷ তিনি সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন৷ এখন আগামী দিনে তিনি কী ভুমিকা রাখতে পারবেন সেটা নির্ভর করবে তাঁর উপর৷ তাঁর কাছে আমাদের প্রত্যাশা দেশে গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করার জন্য তিনি ভূমিকা রাখবেন৷'' এই সামর্থ্য তাঁর আছে কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এটা তাঁর উপরই নির্ভর করবে?'’ -ডচভেলে

 

২৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:০৭:১২