জঙ্গি দমনে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ কতটুকু কাজে আসবে?
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
গুলশান হামলার পর অবৈধ স্থাপনা, বিশেষ করে গুলশান-বারিধারার অবৈধ হোটেল, রেস্টুরেন্ট, শিক্ষা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার৷ এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করা কি সম্ভব? স্থাপনা উচ্ছেদে সুফলের সম্ভাবনাই বা কতটুকু?

এরইমধ্যে গুলশান-বারিধারার অবৈধ স্থাপনার তালিকা করা হয়েছে৷ যে কোনো দিন উচ্ছেদ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন৷

গুলশানের হোলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে ১ জুলাই জঙ্গি হামলায় ১৭ জন বিদেশিসহ অন্তত ২৮ জন নিহত হয়৷ অবাক করা ব্যাপার হলো, হোলি আর্টিজান রেষ্টুরেন্টটিও অবৈধভাবে গড়ে উঠেছিল৷ এমনটিই জানিয়েছেন, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন৷

রেস্টুরেন্টের এই প্লটটি নার্সিং হোম করার কথা বলে ১৯৭৯ সালে বরাদ্দ নেয়া হয়৷ ১৯৮২ সালে নার্সিং হোমের নির্মাণকাজ শুরু করা হয়৷ কিন্তু পরে সেখানে নাসিং হোম না করে প্লটের একটি অংশে হোলি আর্টিজান বেকারি গড়ে তোলা হয়৷

মন্ত্রণালয় রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোয় এক হাজার ৬২৫টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করেছে৷ এর মধ্যে মধ্যে কূটনৈতিক পাড়া গুলশান ও বারিধারায় রয়েছে ৫৫২টি৷ এছাড়া উত্তরায় ২১৫, মিরপুরে ৮৮০, ধানমন্ডি-লালবাগে ১৭৩ এবং মতিঝিল-খিলগাঁও এলাকায় ১০৫টি অবৈধ স্থাপনা রয়েছে৷

সারা দেশে চিহ্নিত অবৈধ স্থাপনার মধ্যে আবাসিক প্লট ও ভবনে থাকা ১২ হাজার ৯৫৭টি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে নোটিস দিয়েছে সরকার৷ নোটিসের জবাব পর্যালোচনা করে সেসব প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে৷

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে বুধবার সচিবালয়ে ‘নগর এলাকার রাস্তার পাশে আবাসিক প্লট ও ভবনে রেস্তোরাঁ-বারসহ নানাবিধ বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনাজনিত সমস্যা নিরসনে মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন বিষয়ক' কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত হয়৷

তবে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের সঙ্গে জঙ্গি দমনের সম্পর্ক কতটুকু জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি৷ তিনি সংসদ অধিবেশেনের ব্যস্ততার কথা বলে এড়িয়ে যান৷

তবে এ বিষয়ে পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানের সঙ্গে কথা হয়েছে৷ তিনি মনে করেন, ‘‘অবৈধ স্থাপনা স্বাভাবিক নিয়মেই উচ্ছেদ করা উচিত৷ এতদিন না করে হঠাত্‍ কেন তোড়জোড় শুরু হয়েছে তা আমি বুঝতে পারছিনা৷ এর সঙ্গে জঙ্গি দমনের দূরতম সম্পর্ক থাকতে পারে, তবে আমি সরাসরি কোনো সম্পর্ক দেখছিনা৷'’

তিনি বলেন, ‘‘গুলশান হামলার পর তদন্তে আমরা এখনো কোনো অগ্রগতি দেখছিনা৷ জঙ্গিবিরোধী বিশাল অভিযানে উদ্ধার হয় দা, চাপাতি৷ জঙ্গিরা ধরা পড়ছেনা৷ আমার মনে হচেছ, আসল কাজ না করে এখন অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ নানা কাজ দেখিয়ে সাধারণ মানুষের দৃষ্টিকে অন্যদিকে ফেরাতে চায় সরকার৷''

এদিকে ব়্যাব ২৬১ জন নিখোঁজ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে৷ গুলশান হামলার পর নিখোঁজ এসব তরুণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং সাধারণ মানুষের কাছে ‘দুশ্চিন্তা’ উঠেছে, কারণ, গুলশান হামলাকারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল৷ -ডচভেলে

২০ জুলাই, ২০১৬ ২৩:২৪:২৮