গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের একটি স্তম্ভ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ শুধুমাত্র স্বৈরশাসকদের নেতৃত্বে পরিচালিত দেশের সমস্যা নয়৷ গণতন্ত্র আছে এমন দেশগুলোতেও এই স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ছে বলে মনে করেন ডিডাব্লিউর প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল৷ মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার কোনো বিলাসী পণ্য নয়৷ গণমাধ্যমের অবাধ স্বাধীনতা ছাড়া গণতন্ত্র চলতে পারে না৷ সুতরাং এই স্বাধীনতা যে রক্ষা হয় তা দেশগুলোকে অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে৷ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় পরিচালিত দেশের একটি অন্যতম স্তম্ভ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা৷ কারণ, এটি থাকলে মানুষের স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায় নিরাপত্তা পায়৷ মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা থাকলেই কেবল দুর্নীতির খবর প্রকাশ করা যায়, সম্ভব হলে প্রতিরোধও করা যায়৷ এছাড়া রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা যায়, বাধাহীনভাবে তদন্ত চালানো যায় এবং গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করা যায়৷

হিটলারের হিসাব

নাৎসি আমল থেকে আমরা জার্মানরা স্বাধীন সাংবাদিকতার গুরুত্ব কতখানি, তা বুঝতে পেরেছি৷ কারণ, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার মাধ্যমেই  আডল্ফ হিটলার তাঁরধারাবাহিক সহিংসতা শুরু করেছিলেন৷ যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে থাকা সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশগজি মধ্যপ্রাচ্য ও সৌদি আরবের রাজনীতি বিষয়ে ওয়াশিংটনে পোস্টে নিয়মিত কলাম লিখতেন৷ পাশাপাশি সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের একজন কট্টর সমালোচক ছিলেন তিনি৷ অক্টোবরে ইস্তান্বুলেন সৌদি দূতাবাসে গেলে সেখানেই নিহত হন তিনি৷ তুরস্ক তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করার অভিযোগ করলেও, সৌদি আরব তা অস্বীকার করে আসছে৷ চলতি বছর বিশ্বের ১৩ জন ব্লগার ও সিটিজেন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে৷ গতবছরের তুলনায় সংখ্যাটি প্রায় দ্বিগুন৷ হত্যার শিকার হওয়া এই ব্যক্তিরা অনেকক্ষেত্রে তাঁদের দেশের স্বাধীন তথ্য পাওয়ার কয়েকটি সূত্রের একটি ছিলেন৷

ট্রাম্প ও গণমাধ্যম

সহিংস হামলাই সাংবাদিকদের জন্য একমাত্র হুমকি নয়৷ ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভ্লাদিমির পুটিনের মতো রাজনীতিকরা জানেন, সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে বিশ্বাসযোগ্যতা৷ তাই তাঁরা এই বিষয়টিতে আঘাতের চেষ্টা করেন৷ ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন গণমাধ্যমকে ‘ভুয়া খবর' বলে ডাকেন তখন সেটি শুধুমাত্র তাঁর মিথ্যাকে ঢাকার চেষ্টার চেয়েও বেশি কিছু৷ গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে ফেলার একটি অংশ এটি৷

সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে এবং কোনো খবরের বিষয়ে অনুসন্ধান চালানোর ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হতে হবে৷ এছাড়া সহকর্মীদের বেশি বেশি প্রশ্ন করতে হবে, আর ভুল হলে তা চেপে না রেখে স্বীকার করে নিতে হবে৷ -ডয়েচেভেলে

২৮ ডিসেম্বর, ২০১৮ ২২:৫১:১৩