এবার ৭ দিনের আল্টিমেটাম সাংবাদিকদের
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট


নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সময় দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবার ৭ দিনের আল্টিমেটাম দিয়েছে সাংবাদিকরা। এর মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা হলে সাংবাদিকরা আমরণ অনশন শুরু করবেন বলে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে । মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের পর সেখান থেকে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি মোল্লা জালাল।

তিনি বলেন, ‘আমরা সাংবাদিক সমাজ সরকারকে আগামী ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাত দিন সময় বেঁধে দিচ্ছি। এর মধ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের গ্রেফতার করা না হলে আমরা ৫ সেপ্টেম্বর থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করব। ওই দিন সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সাংবাদিকররা অনশন করবেন।’

কর্মসূচিতে দেয়া বক্তৃতায় বিএফইউজে সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ বলেন, ‘রুটি-রুজির আন্দোলন চলছিল। কিন্তু আমাদের রাজপথে নামতে বাধ্য করেছে কিছু দুর্বৃত্ত। সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হবে।’

বক্তৃতায় অনান্য সাংবাদিক নেতারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার পর তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কত বড় বড় ঘটনার তদন্ত শেষ করে অপরাধীদের পাকড়াও করতে পারে পুলিশ, অথচ প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের পেটানো দুর্বৃত্তদের তারা চিহ্নিত করতে পারছে না। এটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিটি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বর থেকে শুরু করা হয়। সেখান থেকে সাংবাদিকরা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে সচিবালয়ের সামনে যান। দুপুর ১টার দিকে সেখানে সাংবাদিকরা অবস্থান নেন। এ সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি আবু জাফর সূর্য একটি স্মারকলিপি পাঠ করেন। ওই স্মারকলিপি নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান সাংবাদিকরা।

স্মারকলিপিতে চার দফা দাবির উল্লেখ করা হয়েছে। দাবিগুলো হচ্ছে—১. শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চলাকালে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পেশাদার গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত, প্রকাশিত ছবি বা ফুটেজ দেখে দুর্বৃত্তদের আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। ২. অবিলম্বে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করতে হবে। ৩. যখন-তখন পেশাদার সাংবাদিকদের ওপর পুলিশি নির্যাতন ও হয়রানি বন্ধ করতে হবে এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে পুলিশের দুর্ব্যবহার, হয়রানি ও নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ৪. বিএনপি-জামায়াত আমলসহ বিভিন্ন সময় দেশব্যাপী নিহত সাংবাদিকদের হত্যার বিচার দ্রুত শেষ করতে হবে।

অবস্থান কর্মসূচিতে ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ডিআরইউ সভাপতি সাইফুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আক্তার হোসেন, পাসপোর্ট রিপোর্টার্সের ফোরামের সভাপতি আছাদুজ্জামানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, গত ৯ আগস্ট এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে ৭২ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেয় সাংবাদিকরা। এর মধ্যে হামলাকারীরা চিহ্নিত না হলে গোটা সাংবাদিক সমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যাবে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরদিন ১০ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনেও এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ (ডিইউজে) বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নেতারা হুঁশিয়ারি দেন, দোষীদের ওই দিনের মধ্যেই গ্রেফতার করা না হলে সাংবাদিকদের আন্দোলন সামাল দেওয়া যাবে না।

এর মধ্যেই ৯ আগস্ট সচিবালয়ে বিএফইউজে ও ডিইউজে নেতাদের সঙ্গে এক বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলায় জড়িতদের ১১ আগস্টের মধ্যে গ্রেফতার করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার না করায় আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাও করে সাংবাদিকরা।


২৮ আগস্ট, ২০১৮ ১৯:৫৪:১৪