বাংলাদেশে গণমাধ্যম কতটুকু স্বাধীন?
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
ডয়চে ভেলের আয়োজনে গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামে যোগ দিতে জার্মানির বনে এসেছিলেন বাংলাদেশের বেশ কয়েকজন সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী৷ বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এখন কোন অবস্থানে, এ নিয়ে মতামত জানিয়েছেন তাঁদের কয়েকজন৷

ডেইলি স্টারের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আশফাকুল হক বলছেন, অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যম এখন সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে আছে৷ তাঁর মতে, অতীতে সরকারের নানারকম চাপ থাকলেও, এখন সে চাপ বহুমুখী৷

তবে চাপের মুখে কাজ করায় গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আরো সতর্ক হয়ে উঠছে বলেও মনে করে তিনি৷ তাঁর মতে এই সমস্যা শুধু একটি দেশের নয়, বরং পুরো পৃথিবীর সাংবাদিকদের কর্মক্ষেত্রে একই ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে৷

মত প্রকাশের স্বাধীনতা এখন হুমকির মুখে বলেও মন্তব্য করেন সৈয়দ আশফাকুল হক৷ তিনি বলেন, ‘‘শক্তিশালী সরকার ও স্বাধীন গণমাধ্যমের লড়াইয়ে সাময়িকভাবে সবসময়ই সরকার জয়ী হলেও, শেষ পর্যন্ত গণমাধ্যমেরই জয় হয়৷''

নানা ধরনের আইনের মারপ্যাঁচ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মত প্রকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়া হচ্ছে বলে মন্তব্য মানবাধিকারকর্মী ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট অজন্তা দেব রায়ের৷ চাপের মুখে, অথবা বিশেষ সুবিধা পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম সরকারের হয়ে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি৷

অজন্তার অভিযোগ, মূলধারার গণমাধ্যমের বাইরে সামাজিক গণমাধ্যমে যাঁরা কথা বলতেন, তাঁদেরকেও পরোক্ষভাবে চুপ করিয়ে দেয়া হচ্ছে৷ দেশের উন্নতির ক্ষেত্রে গণমাধ্যম সম্পূর্ণ স্বাধীন না হওয়াটা বিরাট বাধা বলেও মত তাঁর৷

তবে বর্তমানে গণমাধ্যম আলাদা করে বেশি কোনো চাপের মধ্যে আছে বলে মনে করেন না ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের নির্বাহী সম্পাদক খালেদ মুহিউদ্দীন৷

তিনি বরং দায় বেশি দেখছেন সাংবাদিকদের৷ বিশেষ সুবিধা হাসিলের জন্য, বা অন্য কোনো কারণে সংবাদ সেল্ফ সেন্সর করে থাকেন বলেও মন্তব্য তাঁর৷

বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজের সমস্যাকে প্রফেশনাল হ্যাজার্ড হিসেবে মেনে নিয়েই সাংবাদিকদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান তাঁর৷ এগুলো মোকাবেলা করে এগিয়ে যাওয়ার সাংবাদিকদের চ্যালেঞ্জ বলে মনে করেন তিনি৷

খালেদ মুহিউদ্দীন মনে করেন, নানা ধরনের চাপ অতীতে যেমন ছিল, এখনও তেমনই আছে, তবে সাংবাদিকদের টুঁটি চেপে ধরার মতো পরিস্থিতি এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নেই বলে মন্তব্য তাঁর৷ -ডয়েচেভেলে

 

 

১৪ জুন, ২০১৮ ০৩:১৩:৪৪