বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি আইনে সংবাদিক গ্রেপ্তার
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি আইনে আরো এক সাংবাদিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ নাজমুল হুদা নামের ওই সাংবাদিক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল একুশে টিভি এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন নামে একটি দৈনিকের সাভার প্রতিনিধি৷

ঢাকার অদূরে আশুলিয়া এলাকায় পোশাক শিল্পে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ-এ ‘উস্কানি' দেয়ার অভিযোগে শুক্রবার রাতে তাকে আটক করা হয়েছে বলে ডয়চে ভেলেকে জানিয়েছেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসীনুল কাদির৷ তবে নাজমুলের পরিবার দাবি করেছে, ‘নাজমুলকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আটক করা হয়েছে৷'

আশুলিয়া থানার ওসি অবশ্য নাজমুলকে আটকের বিস্তারিত কোন কারণ জানাননি৷ তিনি দাবি করেন, নাজমুলের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগে মামলা হয়েছে৷ সে শ্রমিক অসন্তোষে উস্কানি দিয়েছে৷ তবে সেটা কী ধরনের অভিযোগ জানতে চাইলে তিনি ঊধ্বর্তন  কর্মকর্তাদের দোহাই দেন৷ তিনি বলেন, ‘‘আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারব না৷ এএসপি অথবা এডিশনাল এসপি বলতে পারবেন৷'' তবে এব্যাপারে জানার জন্য সাভার সার্কেল এএসপি নাজমুল হাসান ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি৷

সাংবাদিক নাজমুলের ভাই কামরুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘নাজমুলকে টেলিফোনে ডেকে নিয়ে শুক্রবার রাতে আটক করা হয়৷ পুলিশ তাঁর মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং গাড়িও জব্দ করেছে৷ নাজমুলের ড্রাইভারকে আটক করা হলেও পরে ছেড়ে দেয়া হয়৷''

‘‘নাজমুলকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আটক করা হয়েছে৷ সব সাংবাদিক যেভাবে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ে রিপোর্ট করেছে নাজমুলও সেভাবেই করেছে৷ কোনো উস্কানি বা শ্রমিকদের ইন্ধন দেয়ার প্রশ্নই আসেনা,'' বলেন তিনি৷

কামরুজ্জামান  আরো বলেন, ‘‘নাজমুল ১৩ থেকে ১৮ ডিসেম্বর দেশের বাইরে ছিলেন৷ আর ওই সময় মূলত শ্রমিক অসন্তোষ ও পোশাক কারখানা বন্ধের ঘটনা ঘটে৷ সুতরাং শ্রমিক অসন্তোষে ইন্ধন দেয়ার অভিযোগ ভিত্তিহীন৷ একটি কুচক্রীমহল নাজমুলকে পেশাগতভাবে হেয় করার জন্য মিথ্যা মামলা দিতে পুলিশকে উদ্বুদ্ধ করেছে৷'' 

প্রসঙ্গত, নাজমুলের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় মামলা করা হয়েছে৷ তাঁকে এই মামলায় শনিবার বিকেলে আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন না দিয়ে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন৷ নাজমুল-এর প্রতিষ্ঠান একুশে টেলিভিশনের হেড অব নিউজ রাশেদ চৌধুরী ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ব্যবহার উদ্বেগজনক৷ এই আইনটি নিয়ে নানা সমালোচনা আছে৷ তারপরও এই আইনটি সাংবাদিকদেও বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হচ্ছে৷''

তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ নাজমুলের বিরুদ্ধে ঠিক কী ধরনের অভিযোগ এনেছে সে ব্যাপারে আমরা এখনো নিশ্চিত নই৷ আমরা বিস্তারিত জেনে তারপর পরবর্তী পদক্ষেপ নেব৷ তবে তথ্য প্রযুক্তি আইনের এই যথেচ্ছ ব্যবহার সাংবাদিকদের প্রতি হুমকি৷''

উল্লেখ্য, গত সোমবার আশুলিয়ার পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের বেতন বাড়ানোসহ কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন শুরু করে৷ এরপর ৫৫টি পোশাক কারখানা বন্ধ করে দেয় পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ৷ তারা এই বন্ধকালীন সময়ে বেতন ভাতাও দেবেনা, বেতনও বাড়াবেনা৷ এরইমধ্যে এই ঘটনার জেরে ২৫৬ জন শ্রমিককে বরখাস্ত করা হয়েছে৷ শ্রমিকদের বিরুদ্ধে দুই মামলায় আসামি করা হয়েছে ৫০০ জনকে৷ সাংবাদিক নাজমুলসহ এ পর্যন্ত ২০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে৷ আশুলিয়া এলাকায় অস্বাভাবিক অবস্থা বিরাজ করছে৷ -ডচভেলে

২৪ ডিসেম্বর, ২০১৬ ২২:২০:৫৬