হিজাবধারী সাংবাদিককে কটাক্ষ করে কলাম, তীব্র বিতর্ক
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
হিজাবধারী সাংবাদিক ফাতিমা মঞ্জি
ব্রিটিশ গণমাধ্যম চ্যানেল ফোরের হিজাব পরিহিতা এক নারী সাংবাদিককে নিয়ে দেশটিরই অন্যতম শীর্ষ পত্রিকা দ্য সানে প্রকাশিত এক কলাম ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পত্রিকাটির সাবেক সম্পাদক কেলভিন ম্যাকেঞ্জি তার কলামে ইঙ্গিত দেন- মুসলিম ও হিজাবধারী হওয়ায় ওই নারী সাংবাদিকের উচিৎ হয়নি ফ্রান্সের নিস শহরের সন্ত্রাসী হামলা কাভার করা। কেন না ওই হামলা এক মুসলিমই চালিয়েছে। 

তার এ ধরনের বক্তব্যের কলামটি প্রকাশের পর তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কলামটির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে ব্রিটেনের প্রেস রেগুলেটরে ৮ শতাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রেস রেগুলেটর কর্তৃপক্ষ (আইপিএসও) জানিয়েছে, বেশিরভাগ অভিযোগে তথ্যের সত্যতা, বৈষম্য ও হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন অভিযোগকারীরা। 

চ্যানেল ফোর কর্তৃপক্ষও কলামটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ম্যাকেঞ্জির মন্তব্য 'আপত্তিকর' ও 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য'। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।দ্য সানের সাবেক সম্পাদক ও কলামিস্ট কেলভিন ম্যাকেঞ্জি 

ফ্রান্সের সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে নিজের কলামে ম্যাকেঞ্জি লেখেন, যখন মুসলিম নারী সাংবাদিক ফাতিমা মঞ্জি নিস সন্ত্রাসী হামলার কভারেজে উপস্থাপনা করছিলেন, তখন তিনি 'নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না'। 

এ বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ফাতিমা মঞ্জির কর্মস্থল চ্যানেল ফোর। এক বিবৃতিতে চ্যানেলটি জানিয়েছে, 'আজ দ্য সানে মি. ম্যাকেঞ্জির যে মন্তব্য কলাম ছাপা হয়েছে, তা আপত্তিজনক, সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং তর্কসাপেক্ষে এটি ধর্মীয় ও এমনকি জাতিগত বিদ্বেষ উস্কে দেয়ার সমতুল্য।' 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, 'একজন যোগ্য সাংবাদিককে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনায় বা কোনো নির্দিষ্ট দিনে রিপোর্টিং করা থেকে বিরত রাখতে হবে শুধুমাত্র তার ধর্মবিশ্বাসের কারণে- এমন কিছু ইঙ্গিত করাটা ভুল। ফাতিমা মঞ্জি একজন পুরস্কারজয়ী সাংবাদিক। আমরা গর্বিত যে তিনি আমাদের দলের অংশ এবং তার (ম্যাকেঞ্জির) মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সব সময়ের মতো তাকে (ফাতিমা) আমাদের পূর্ণ সমর্থন দেব।' 

নিজের কলামে ম্যাকেঞ্জি লিখেছেন, 'ওই উপস্থাপিকা কৃষ্ণ গুরু মার্থি, ম্যাট ফ্রেই বা ক্যাথি নিউম্যানদের মতো চ্যানেল ফোরের নিয়মিতদের কেউ ছিলেন না, ছিলেন একজন হিজাব পরিহিতা তরুণী। এক মুসলিমের দ্বারা যখন আবার আরেকটি জঘন্য হত্যাযজ্ঞ হয়ে গেল, তখন তার জন্য ক্যামেরার সামনে থাকাটা কি যথার্থ ছিল?' 

তিনি আরও লেখেন, 'এটা কি কোনো সাধারণ দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য করা হয়েছে, যে কি না হিজাবকে দেখে পুরুষতান্ত্রিক ও স্পষ্টতই সহিংস একটি ধর্মের দ্বারা মুসলিম নারীদের দাসত্বের নমুনা হিসেবে? অমৃতসরের সোনালী মন্দিরের ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর রিপোর্টিংয়ে চ্যানেল ফোরের সম্পাদক কি কোনো হিন্দুকে ব্যবহার করেছেন? অবশ্যই নয়।' 

তার এ মন্তব্যের সমালোচনা করে টুইট করেছেন কনজারভেটিভ দলের সাবেক মন্ত্রী ও নেতা ব্যারোনেস ওয়ারসি। 

তিনি দ্য সানের সম্পাদক টনি গ্যালাঘেরকে চিঠি লিখে ওই 'বিভেদ সৃষ্টিকারী কলামে'র কড়া সমালোচনা করেছেন। 

ব্রিটেনের সাংবাদিকদের সংগঠন ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব জার্নালিস্টও ওই কলামের নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি কলামটি প্রকাশের জন্য দ্য সানের সমালোচনা করেছে। 

এমনকি দ্য সানও এ কলামের একটি লিংক নিজেদের টুইটার অ্যাকাউন্টে শেয়ার করেও পরে তা মুছে ফেলেছে। 

সোমবার সন্ধ্যার দিকে খোদ দ্য সানের অনলাইন সংস্করণে পত্রিকাটিরই একজন মুসলিম ফিচার লেখক ওই কলামের বিরুদ্ধে একটি নিবন্ধ লেখেন। যদিও ওই নিবন্ধ প্রিন্ট সংস্করণে ছাপেনি পত্রিকাটি।

২০ জুলাই, ২০১৬ ১৪:৩৪:০৮