অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে বাংলাদেশের কিছু সাংবাদিক
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশে সম্প্রতি সাংবাদিকদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার প্রবণতা সাংবাদিক সমাজকে ভাবিয়ে তুলেছে৷ তাঁরা বলছেন, পেশাগত সম্মান ও গ্রহণযোগ্যতা বজায় রাখতে সাংবাদিকদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে বিপথগামী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে৷ এদিকে গত ১৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারে ৪০ হাজার অবৈধ মাদক ইয়াবাসহ আটক হন বেসরকারি টেলিভিশন গাজী টিভির স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ সেলিম ও তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার৷ তারা গজী টিভির স্টিকার লাগানো একটি গাড়িতে করে ঐ ইয়াবা বহন করছিলেন৷ সেলিম একইসঙ্গে কক্সবাজার থেকে প্রকাশিত দৈনিক কক্সবাজার বার্তার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক৷

কক্সবাজারের সাংবাদিক আবদুল আজিজ ডয়চে ভেলেকে জানান, ‘‘মাদক চোরাচালানসহ আরো নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে কক্সবাজারের কিছু সাংবাদিক৷ তাদের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগও করেছি এর আগে৷''

তিনি জানান, ‘‘এইসব সাংবাদিক একটি প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কাজ করেন৷ তারা বিপুল অর্থবিত্তের মালিক৷ বলা বাহুল্য, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তির সুযোগ নেন তারা৷'' এই দু'টি উদাহরণের বাইরে আরো অনেক ঘটনার কথা প্রায়ই জানা যায়৷

সাংবাদিকদের সংগঠন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘সাংবাদিক নামধারী দু'একজনের অপকর্মের জন্য পুরো সাংবাদিক সমাজকে দায়ী করা ঠিক হবে না৷ আমরা দীর্ঘদিন ধরেই অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে আন্দোলন করছি৷ সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক কারা হবেন, তার জন্য নীতিমালা করার কথা বলছি৷ কিন্তু হচ্ছে না৷ যাদের টাকা আছে, তারাই মালিক বা সম্পাদক হচ্ছেন৷ আসলে প্রতিষ্ঠানগুলো যখন সাংবাদিক নিয়োগ দেয়, তখনি তাদের যাচাই-বাছাই করা উচিত৷''

তিনি বলেন, ‘‘সাংবাদিকতা একটা মহান পেশা৷ এর গায়ে কালিমা লাগাতে দেয়া যাবে না৷ যারা সাংবাদিকতার নামে অপকর্ম করছে, তাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত৷''

এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. সফিউল আলম ভূঁইয়া ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘আমি বিশ্বাস করি না যে সাংবাদিকরা অপরাধে জড়াতে পারে৷ তবুও বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কথা আমরা জানতে পারছি৷ সাংবাদিক সমাজের উচিত হবে তাদের প্রতিরোধ করা এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তা করা৷'' ।ডচভেলে।

১৮ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৯:২৭:২১