বাংলাদেশ নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ায় স্ববিরোধী প্রচারণা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
সম্প্রতি বাংলাদেশে দুই বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা নিয়ে স্ববিরোধী প্রচারণা চালাচ্ছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। কেউ বলছে এসব ঘটনায় আইএস জড়িত আবার কেউ বলছে আইএস জড়িত নয়। দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্ধৃতি দিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যম বলেছে, এ ঘটনা আইএস ঘটিয়েছে। আবার আরও কিছু গণমাধ্যম তাদের গোয়েন্দা সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়েই বলেছে, এসব ঘটনা আইএস ঘটায়নি। ঘটিয়েছে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামির বিদ্রোহীরা। খবর আমাদের সময়.কম'র।
কয়েকটি ভারতীয় সংবাদপত্রের বরাত দিয়ে দেশটির গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া ও দ্য হিন্দু জানায়, এসব ঘটনায় জামায়াতে ইসলামির বিদ্রোহীরা জড়িত। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঘটনায় তাদের নেতাদের যুদ্ধাপরাধী শনাক্ত করে যে বিচার চলছে তা ভুল- এ বিষয়টি পশ্চিমাদের দৃষ্টিতে আনার জন্যই তারা এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।
ভারতীয় এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সংবাদপত্র দুটি জানায়, খুব শিগগিরই তাদের আরও কিছু নেতাকে ফাঁসি দেওয়া হতে পারে এমন ধারণা থেকে তারা (জামায়াত) এসব কাজ করছে।
এদিকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন বলে অভিহিত করা হলেও ভারতের আরকেটি গণমাধ্যম ওয়ান ইন্ডিয়ার এক খবরে বলা হয়, ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করছে এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় এবং আইএস-ই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে।
গণমাধ্যমটির এক খবরে বলা হয়, দেশটির গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্প্রতি বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিক হত্যার ঘটনা নিয়ে তদন্ত শেষে মনে করছে এগুলো কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠী পূর্বপরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটিয়েছে।
এক্ষেত্রে তারা আইএসের সাথে জড়িত বলে অভিযুক্ত একটি গোষ্ঠী আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) নাম উল্লেখ করেছে। এর আগে বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্লগার হত্যার ঘটনায়ও তারা জড়িত বলে মনে করছে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।
তারা মনে করে, বাংলাদেশে আইএসের অবস্থান না থাকায় তারা নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার জন্যেই এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। তাছাড়া এবিটিও আইএসের দাবির ব্যাপারে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এবিটি চায় তাদের উপর কোনও চাপ না বাড়–ক।
গণমাধ্যমটির খবরে বলা হয়, যেহেতু বর্তমানে আইএস আফগানিস্তানে তাদের আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে তাই তারা বাংলাদেশে আপাতত আসতে চাচ্ছে না। এর পরিবর্তে তারা এখানে এবিটির মাধ্যমে তাদের কাজ সম্পন্ন করছে।
তাছাড়া এবিটি এবং আইএসের কাজ করার ধরন প্রায় একই রকম। উভয় সংগঠনই তাদের লক্ষ্যের ব্যাপারে নির্দয় এবং খিলাফত প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।
তাছাড়া এবিটির সাথে আল কায়েদার সম্পর্ক থাকায়ও আপাতত আইএস-এর বাংলাদেশে প্রবেশের তেমন কোনও সুযোগ নেই।
পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকান্ডের বিষয়ে দেশটির গোয়েন্দাদের ধারণা, বিদেশি নাগরিক হত্যার মাধ্যমে জঙ্গিরা বাংলাদেশ সরকার এবং বিশ্বের কাছে নিজেদের ব্যাপারে একটি শক্ত বার্তা পৌঁছে দিতে চাচ্ছে।
এবিটি বাংলাদেশে যথেষ্ট শক্তিশালী বলে মনে করে তারা। বাংলাদেশে শুধু খিলাফত প্রতিষ্ঠিত করাই নয় সেই সাথে তারা এখানে শেখ হাসিনা সরকারকেও উৎখাত করতে চায়।
এবিটি বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে এমন ধারণার কারণেই অস্ট্রেলিয়া বাংলাদেশে তাদের ক্রিকেট সফর বাতিল করেছে বলে মনে করে ভারতীয় গণমাধ্যমটি।
০৭ অক্টোবর, ২০১৫ ১৬:৪৩:৩৯