নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে গণমাধ্যমকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট
নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নারীদেরকেই আওয়াজ তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শিয়া স্টিফেন ব্লুম বার্নিকাট। মঙ্গলবার সকালে ডেইলি স্টার মিলনায়তনে ‘যৌন হয়রানি, জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা ও গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ মন্তব্য করেন তিনি। শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর সব দেশেই নারীরা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন উল্লেখ করে বার্নিকাট বলেন, খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই ৯৬% নারী যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, নারীর সঙ্গে যে অসৌজন্যমূলক ও অশোভন আচরণ করা হয় সে বিষয়ে নারীকেই প্রতিবাদ করতে হবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা স্টিফেন্স ব্লুম বার্নিকাট বলেন, যৌন হয়রানি ও জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা শুধু বাংলাদেশে নয়, গোটা পৃথিবীর সব দেশেরই সমস্যা। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও এর ব্যতিক্রম নয়। শিক্ষাঙ্গন, কর্মক্ষেত্র, রাস্তাঘাট এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব ধরনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন তারা। নারীর প্রতি সব ধরণের সহিংসতা থেকে মুক্তি পেতে হলে নারীদেরকেই কথা বলতে হবে, প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করতে হবে। রাস্তায় হয়রানি খোদ যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে বার্নিকাট বলেন, বার্নিকাট বলেন, ২০১৫ সালের একটি জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৯৬ শতাংশ নারী রাস্তায় যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অপর একটি জরিপে দেখা গেছে, যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার পর ১০ বছর বয়সের ৮৬ শতাংশ কন্যাশিশুর আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দেয় । 

ইউএসএআইডি’র সহায়তায় প্রটেক্টিং হিউম্যান রাইটস্ (পিএইচআর) প্রোগ্রাম, প্লান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ, জাতীয় মহিলা আইনজীবি সমিতি (বিএনডব্লিউএলএ) এবং উইমেন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশের (ডব্লিউজেএনবি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সময়োপযোগী এই গোলটেবিল বৈঠকে নারীর প্রতি সহিংসতা ও যৌন হয়রানির মতো জটিল ইস্যু নিয়ে কথা বলেন গণমাধ্যম সম্পাদক, সাংবাদিক ও নাগরিক সমাজ। সফররত যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক ডেপুটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি আইলিন ও’কনোর বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা কমিয়ে আনতে হলে পুরুষদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। তিনি পুরুষদের প্রতি ইস্যুটি অনুধাবনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, মনে রাখতে হবে, নারীর প্রতি সহিংসতা সমাজ ও অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অগ্রগতি পিছিয়ে দেয়। গণমাধ্যমের ভূমিকার কারণেই নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। নিজের সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাইরের পুরুষ দ্বারাই নয়, নারীরা সহকর্মী পুরুষ দ্বারাও নিপীড়নের শিকার হন। 

         

 

                                

০৯ জুন, ২০১৫ ২১:০৬:৩৮