শিউলি
মৌসুমী প্রামাণিক (মৌসান)
অ+ অ-প্রিন্ট
কুন্দন ও শিউলি স্থির করেছিল যে তারা বন্ধুই থাকবে আজীবন। যে কোন কারণেই হোক না কেন, বিয়ের ওপর বিতৃষ্ণা জন্মে গেছিল দুজনেরই। সেইভাবেই মেলামেশা করতো দুজনে। আর তাদের অবাধ মেলামেশায় কোন স্বেচ্ছাচারীতা ছিল না। তাই তাদের পরিবারের লোকজনেরও কোন আপত্তি ছিল না। কিন্তু কুন্দন উত্তরবঙ্গে চাকরী নিয়ে চলে যেতেই অবস্থানটা বদলে গেল! হঠাৎ দুজনেই দুজনকে খুব মিস করতে থাকে। গভীর রাতে অনলাইন থাকতে দেখলেই মনে সন্দেহ দানা বাঁধে। ফোনে কথা হয় যদিও তবুও হারানোর ভয় ওদের পিছু ছাড়তেই চায় না। তাই পুজোর ছুটি পড়তেই শিউলি চলে আসে কুন্দনের ফার্ম-হাউসে। পাহাড়, নদী দিয়ে ঘেরা জায়গায় গল্প, কবিতা সহ নির্ভেজাল আড্ডা চলে দিন-রাত।

রাত্রিবাস সত্ত্বেও দুজন দুজনকে স্পর্শ করে নি এতদিন। কিন্তু আজ কুন্দ ও হাসনুহানার গন্ধ, চাদনী রাত, উত্তুরে বাতাসে হিমের স্পর্শ তাদের মন-প্রাণ উতলা করে তুললো। উত্তেজনার বশে শিউলি শক্ত করে জড়িয়ে ধরে কুন্দনকে।

“আমরা বোধহয় আর আলাদা থাকতে পারবো না রে...!”

“চল, তবে বিয়ে করি...” কুন্দন শিউলির কপালে আলতো চুমু খায়।

“হুম। আজই ফেসবুকে স্টেটাস দেব তবে...”

সেইমত ছবি তুলতে ওরা চলে যায় কোয়েল নদীর ধারে। অকাল বর্ষণে উন্মত্ত যৌবন ফিরে পেয়েছে সেও। হঠাৎ ঘটলো এক অঘটন। নিজেদের সেলফি নিতে গিয়ে পা পিছলে শিউলি জলে পড়ে যায়। তলিয়ে যায় অবাধ্য নদীর উত্তাল স্রোতে। কুন্দন সঙ্গে সঙ্গেই ঝাঁপ দিয়েছিল জলে। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। অদৃষ্টের কি নিষ্ঠুর পরিহাস!

সাত বছর পেরিয়ে গেছে, তবুও দূর্ঘটনার সেই স্মৃতি আজও তাজা। দোষী মনে করে নিজেকে। হয়তো সেই কারণেই কুন্দন আজও অবিবাহিত। তবে সে আবারও ভালবেসেছে। তাই তার ঔরস জাত কন্যার নাম রাখতে চেয়েছে "শিউলি"। আমি বাধা দিই নি ওকে। কারণ ওর ভালোবাসাকেই যে আমি ভালবেসে ফেলেছি।।

 

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ১১:২৩:০০