কানাডার সাহিত্যাকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র এলিস মানরো
তাসমিনা খান
অ+ অ-প্রিন্ট
এলিস মানরো
কানাডীয় কথাসাহিত্যের যশস্বী এক নাম, এক মাইলফলক এলিস মানরো। সত্যিকার অর্থে কানাডীয় সাহিত্যে এলিস মানরোই একমাত্র নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। প্রথিতযশা এলিস অ্যান মানরোর জন্ম ১৯৩১ সালের ১০ই জুলাই, কানাডার অন্টেরিও প্রদেশের উইংহামে। জায়গাটি বলা চলে বেশ গ্রাম্য। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা, লেখাপড়া, বিয়ে, সংসার, সাহিত্য-চর্চা। তাঁর বাবা, রবার্ট এরিক লেইড-লও একটি শেয়ালের খামার করেছিলেন জীবিকা নির্বাহের জন্য। আর মা, অ্যান ক্লার্ক চ্যাম্নি লেইড-লও ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। ছেলেবেলায় এলিস অ্যান লেইড-লও নামেই পরিচিত ছিলেন এই তারকা সাহিত্যিক। 

এলিস লেখাপড়া করেন ইউনিভারসিটি অব ওয়েস্টার্ন অন্টেরিওতে, যেখানে তাঁর বিষয় ছিল সাংবাদিকতা আর ইংরেজি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালে ১৯৫০ সালে তাঁর প্রথম গল্প, “দ্যা ডিমেনশন অব আ শ্যাডো”  প্রকাশিত হয়। আর এখানেই পরিচয় জেমস মানরোর সাথে, যে পরে তাঁর স্বামী হন। জেমস একটি বইয়ের দোকান চালাতেন। স্কলারশিপ নিয়ে লেখাপড়া করা মেধাবী ছাত্রি হওয়া সত্ত্বেও বিয়ের মাত্র দু’বছরের মধ্যেই মানরো লেখাপড়ায় ইস্তফা দেন। স্বামীর সাথে স্থানান্তরিত হন পর্যায়ক্রমে ভিক্টোরিয়া আর ভ্যাঙ্কুভার শহরে; দুজনে সেখানে বইয়ের দোকান চালাতে থাকেন। এই স্বামীর সংসারে তিনি তিনকন্যা সন্তানের জননী হন। ১৯৭২ সাল পর্যন্ত তাঁরা একত্রে সংসার করেন। এসময়ে মানরো বিভিন্ন পত্রিকাতে তাঁর লেখা প্রকাশ করতে থাকেন। প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের চারবছর বাদে মানরো জেরাল্ড ফ্রেম্লিনকে বিয়ে করে স্থানান্তরিত হন স্বামীর শহর ক্লিনটনে। কিন্তু এই দ্বিতীয় স্বামী ২০১৩ সালে মারা যান।

১৯৬৮ সালে প্রথম গল্প সংকলন, ‘ডান্স অফ দ্যা হ্যাপি শেইডস’ প্রকাশের পরপরই নিজ গাঁয়ে তাঁর প্রভূত সাফল্য মেলে, এবং তাঁর প্রাপ্তির ঝুলিতে আসে সর্বোচ্চ সাহিত্যিক সম্মাননা Ñ ‘গভর্নর জেনারেল’স এ্যাওয়ার্ড ফর ফিকশন’। এর তিনবছর পর প্রকাশ পায় তাঁর গল্পসংকলন, ‘লাইভস অফ গার্লস অ্যান্ড উইমেন’। এরপরে ক্রমেই প্রকাশিত হতে থাকে তাঁর নিম্নোক্ত গল্পসংকলনগুলো; ‘হু ডু ইয়ু থিঙ্ক ইয়ু আর?’ (১৯৭৮), ‘দ্যা মুন্স অফ জুপিটার’ (১৯৮২), ‘হেটশিপ, ফ্রেন্ডশিপ, কোর্টশিপ, লাভশিপ, ম্যারিজ’ (২০০১) ইত্যাদি। শেষটির ছায়া অবলম্বনে নির্মিত, কানাডিয়ান অভিনেত্রী সারাহ পলি’র নির্দেশনায় চত্রিত, ‘অ্যাওয়ে ফ্রম হার’ নামক সিনেমাটি মুক্তি পায় ২০০৬ সালে। এছাড়া তাঁর অন্যান্য কাজের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য আরো কিছু হল: ‘রানাআওয়ে’ (২০০৪) এবং ‘দ্যা ভিউ ফ্রম ক্যাসেল রক’ (২০০৬)। 

প্রথমবার গভর্নর জেনারেল এওয়ার্ড পাবার তিনদশক পর, ১৯৯৮ সালে ‘দ্যা প্রগ্রেস অফ লাভ’, আবারো যোগ করে মানরোর প্রাপ্তির ঝুলিতে দ্বিতীয়বারের মতো গভর্নর জেনারেল পুরস্কারটি। ২০০৯ সালে মানরোর করনারি বাইপাস সার্জারি হয়, এবং ক্যান্সারের জন্য চিকিৎসা শুরু হয়। ছোট্ট মফস্বলে থাকবার কারণেই বোধ করি, মানরোর পরিচিতি খুব একটি বিস্তৃতি পায়নি প্রথমদিকে। তিনি বহুকাল ক্লিনটনে থেকেছেন, তথাপি তাঁর লাজুক স্বভাব ও নিভৃতচারিতার জন্যই বোধ করি খুব কম লোকেই তাঁকে চিনত-জানত। আর তাইতো লেখক হিসেবে তাঁর প্রচার, প্রসার আর সফলতা সবই ধরা দেয় বেশ বিলম্বে। ভিক্টোরিয়াতে স্থানান্তরের পর তিনি সামাজিকতা, লোক-যোগাযোগ বিষয়ে মনোনিবেশ করেন। যখন তিনি তাঁর প্রথম সংকলন প্রকাশ করেন, তদ্দিনে তাঁর বয়স ছুঁয়েছিল ৩৭টি বসন্ত। এছাড়া সত্তর দশকের আগে কানাডার বাইরে তাঁর তেমন একটি পরিচিতি ছিল না বললেই চলে। ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসে ৮২ বছর বয়সে নোবেল পুরস্কার বিজয়ের আগেই, ২০০৯ সালে তিনি জিতে নিয়েছিলেন ম্যান বুকার আন্তর্জাতিক পুরস্কার। এই একই বছর প্রকাশ পায় তাঁর গল্প সংকলন, ‘টু মাচ হ্যাপিনেস,’ যখন তাঁর বয়স ৮২ বছর। 

এলিস মানরো একটি প্রতিবাদী নাম, নোবেল বিজয়ী এই জাঁকাল গুণী লেখিকা লেখনীর মাঝে ছোটগল্পে তুলে ধরেছেন কানাডার প্রায় অর্ধশতকেরও বেশী সময়ের বাস্তব চিত্র। ২০১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল বিজয়ী এই বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব শুধু কানাডাতেই নন, বরং তিনি বিবিধ সাহিত্যিক সম্মাননা পেয়েছেন যুক্তরাজ্য আর যুক্তরাষ্ট্রেও। আর তাঁর গল্প অনুদিত হয়েছে বিশ্বের ১৩টি ভাষায়। আজকের বরেণ্য এই কথাশিল্পী লেখা শুরু করেছিলেন কিশোরী বয়সেই। আর তাইতো কানাডার সর্বোচ্চ সবকটি সাহিত্যিক সম্মাননা পুরস্কার তাঁর প্রাপ্তির ঝুলিতে স্থান পেয়েছে একে একে। মানরোর লেখনীতে উঠে এসেছে কানাডার প্রায় মোট ৭০ দশকের সমাজ চিত্র। মূলত তাঁর গল্পের প্রতিপাদ্য বিষয়গুলো ঘিরে রয়েছে কানাডার সামাজিক জীবন, নারীপুরুষের সার্বিক চিত্রকে।

নারী-জীবন ঘিরে তাঁর লৈখিক চিত্রগুলো আলোড়ন তোলে যে কোনো পাঠক হৃদয়ে। খুব সহজেই যে কোন বয়স, শ্রেণি, কিংবা সামাজিক অবস্থার পাঠক নিজের জীবনের ছায়া খুঁজে পান সে গল্পগুলোর মাঝে। একটি শিশু জন্ম নেয়ার পর থেকে তার মৃত্যু পর্যন্ত প্রতিটি অধ্যায় তাঁর লৈখিক তুলির আঁচড়ে পেয়েছে প্রাণ। তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে জন্মদাগ নিয়ে জন্মানো একটি শিশুপুত্র বাবার রোষানলের শিকার হয়ে নিগৃহীত জীবনাতিপাত করে (ফেইস, ২০০৮)। এই একই গল্পে আমরা দেখি এক সংগ্রামী মাকে, যিনি বাবা ও মা উভয়ের ভূমিকায় অটল থেকে প্রতিপালন করেন সে শিশুকে পরম মমতায়। একটি প্রাকৃতিক দুর্দশাগ্রস্থ শিশুর গল্প দিয়ে যদিও ‘ফেইস’ গল্পটির প্রারম্ভ, তথাপি মানরো পাঠককে টেনে নিয়ে যান সে শিশুর মায়ের ভূমিকা পর্যবেক্ষণে। অসীম ত্যাগ, তিতিক্ষা, ধৈর্যের প্রতিফলন সেই নারী। তিনি যেন আমাদের খুব পরিচিত এক নারী। স্বামীর হাজারো মানসিক উৎপীড়নে, অবহেলা, আর তাচ্ছিল্য সয়ে খুঁতযুক্ত একটি শিশুপুত্রকে বুকে আঁকড়ে ধরে তবুও সেই স্বামীর সেবা করে যাওয়া, একি এক চিরাচরিত বাঙ্গালি নারীর জীবন নয়? এলিস মানরোর চরিত্রগুলো তাই আজ শুধু কানাডার নয়, এ যেন আমার দেশ, বাংলারও, এই নারীরূপ সর্বজনীন। কানাডার সাহিত্যাকাশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র এলিস মানরো
তাসমিনা খান

‘বয়েস এন্ড গার্লস’  ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত আরেকটি গল্প। ঠিক যেমনটি আমরা বাংলাদেশের সমাজে (বিশেষ করে গ্রামে) দেখেছি, ঠাকুরমা’র ঝুলিতে পড়েছি, কিংবা দেখেছি বাংলাদেশে প্রচারিত জনপ্রিয় সমাজ সচেতনতামূলক ‘মিনা কার্টুনে’; কত সমুদ্র- কত পথ পাড়ি দিয়ে এসে এই কানাডার কথা সাহিত্যের মাঝে আমরা আবারো খুঁজে পাই সেই চিরচেনা সমাজের রূপ। একই বাবা মায়ের সন্তান হয়েও কি করে একই পরিবারে একটি ছেলে সন্তান আর একটি মেয়ে সন্তানকে ভীষণ ভিন্নভাবে দেখা হয়। খুব স্বাভাবিক হয়েও একটি ছেলে কতটা সৌভাগ্যবান, আর শত গুণ থাকা স্বত্বেও একটি মেয়ে সন্তান হতে পারে কতটা নিগৃহীত। মানরোর সার্বজনীন লেখনিধারায় পাঠকমাত্রই খুঁজে পান, তাঁর জন্মভূমি, তাঁর সমাজ, আর তাঁর আপন চারিপাশ; তা তিনি যে ভাষাভাষী, জাতি, কিংবা দেশেরই হন না কেন। 

উদাহরণস্বরূপ এবার উল্লেখ করতে হয় তাঁর আরেকটি গল্প, ‘ভয়েস,’। কানাডার চেখব বলে খ্যাত মানরো এই গল্পটির মূল চরিত্র দান করেন এক কিশোরীকে। সে মায়ের সাথে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখে, একটি মেয়েকে কিছু মিলিটারি জওয়ান কতটা তোষামোদ করছে, এই যুবকদের কণ্ঠ তাঁর কানে ভাসতে থাকে তীব্র আরাধ্য কণ্ঠস্বর হয়ে। সে চাইলেই স্মৃতি থেকে তাদের সেই কথোপকথনগুলো শুনে, কারণ তার জীবনে তেমন কোন যুবক নেই, যে তাকে ওরকম করে তোষামোদ করে কথা বলবে। এই গল্পটির কথা উল্লেখ করবার কারণস্বরূপ বলা যায়, মানরোর রচিত নারী চরিত্রগুলো যতই গুণবেষ্টিত হোক না কেন, তাঁরা কেমন যেন বঞ্চনার শিকার। পরিপূর্ণ সুখী, স্বয়ংসম্পূর্ণ, পরিপূর্ণ কোন নারী চরিত্র পাওয়া যায় না তাঁর লেখায়। তবে তাঁর চিত্রিত নারীরা সবাই স্বভাবগুণে গুণান্বিত। তাঁরা শিক্ষিত, স্বাবলম্বী, আবেগী; কিন্তু রূপে ভোলানো নারী নন। তাঁরা সমাজের খারাপটা ঠিকই তর্জনীবিদ্ধ করেছেন, কিন্তু প্রতিবাদী হয়ে উঠতে পারেননি। 

নারীবাদী লেখিকা এলিস মানরোর লেখাতে সমাজের প্রতি তাঁর বিদ্বেষ, প্রতিবাদ, বিদ্রূপ দেখা যায়, যা নতুন করে ভাবতে  শেখায় পাঠকদের। এরপর আলোকপাত করা যায় ‘এমান্ডসেন’ (২০১২) গল্পটির প্রতি। সদ্য পড়াশোনা শেষে চাকরি পাওয়া তরুণী হাইডি এক গ্রামে স্কুলশিক্ষিকা হিসেবে যোগ দেন, কিন্তু তিনি প্রতারণার শিকার হন স্কুল প্রধানের। যিনি, সমাজের ঊর্ধ্বমহলের একজন বাসিন্দা। তিনি একাধারে অধ্যক্ষ, আবার একজন ডাক্তার। সবদিক দিয়েই মহিমান্বিত সে পুরুষ চরিত্রটিও কমবয়সি তাঁর অধীনস্থ শিক্ষিকার জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেন। তাঁর হৃদয়ে প্রেম জাগিয়ে, সম্পর্ক স্থাপন করে, বিয়ের জন্য যাত্রা শুরু করে পিছিয়ে চলে আসেন কোন কারণ ছাড়াই। এ যেন এক ছেলেখেলা। মানরোর গল্পগুলোতে এ ধরনের কমবয়সী মেয়েদের সাথে বেশী বয়সী, আর প্রতিষ্ঠিত পুরুষদের প্রতারণা, বঞ্চনার চিত্র ঘুরে ফিরে আসে বারবার। একইভাবে দেখা যায় 'ফ্যামিলি ফারনিশিং’ (২০১৪) গল্পটিতেও। এই গল্পেও তিনি আলফ্রিদা নামের নারীর রূপ দেন দেখতে সুশ্রী নন, কিন্তু সকল গুণে গুণাান্বিতা এক নারীর, তাঁর জীবনে প্রতিষ্ঠা আসে, অর্থ আসে, কিন্তু শুধু আসে না সাংসারিক সুখ, আসে না ভালোবাসা, শুধুই থাকে বঞ্চনা আর প্রতারণা। 

‘কুইনি’ (১৯৯৯) গল্পটিতে তিনটি সংগ্রামী নারী চরিত্র প্রাধান্য পেয়েছে; কিন্তু তাঁদের কেউই পারিবারিকভাবে সুখী নন। তাঁরা জীবন সংগ্রামে হয়তো জয়ী, বেছে নিয়েছেন জীবনের তাগিদে সংসার করবার জন্য সঙ্গী এবং জীবিকা, কিন্তু তাঁরা কেউ সুখী নন। এই গল্পটি একটু ব্যতিক্রমী। কারণ, এখানে একজন নারী, কুইনি নীরব সংগ্রাম করেন, স্বামীর অত্যাচার ও মিথ্যে অপবাদের জবাব দিতে না পেরে তিনি বাড়ি ছেড়ে নিজের সুখ-সন্ধানে বেরিয়ে পরেন Ñ অন্যান্য গল্পগুলোর নারীদের মতন মুখ বুজে বেশি কাল পরে থাকেন না। আরও সংগ্রামী আরেকটি চরিত্র মেলে, ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত ‘বেগার মেইড’ গল্পটিতে। এখানে দেখা যায়, বেশ ধনীর দুলাল হয়েও প্যাট্রিক কীভাবে অসহায় মেয়ে রোজকে ভালবাসে, তাকে পাবার জন্য অধীর হয়ে থাকে, কিন্তু রোজই বিয়ের পর প্যাট্রিককে ছেড়ে চলে যায়। কিন্তু সম্ভবত এখানেও মানরো যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন, তা হল Ñ পুরুষ সমাজের আধিপত্য, আর কর্তৃত্বারোপ। নইলে কী করে সম্ভব ভালবাসার পাত্রীকে ‘ভিখারি কুমারী’ বলে সম্বোধন করা? যদিও রোজ তাও মেনে নিয়েছিল। 

মানরোর লেখার আরেকটি বৈশিষ্ট্য হল, তাঁর আত্মজীবনীমূলক লেখার ধারা। মানরোর লেখা গল্পগুলোকে খুব সূক্ষ্মভাবে পর্যবেক্ষণ করলে পাঠকমাত্রই বুঝতে পারবেন যে তিনি স্বেচ্ছায় কিংবা অনিচ্ছায় নিজ জীবনের ঘটনার কিংবা চরিত্রগুলোর পুনরাবৃত্তি করছেন। মানরোর জীবনী পাঠে দেখা যায়, তাঁর মা ছিলেন স্কুল শিক্ষিকা। মানরো রচিত গল্পগুলোর দিকে আলোকপাত করলে দেখা যায়, প্রায় গল্পতেই, কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো নিজেই স্কুল শিক্ষিকা, নয়তো কোন স্কুলশিক্ষিকার মেয়ে। প্রায় গল্পতেই দেখা যায়, মেয়েটি কখনোই সুখী নয়, মেয়েটি মফস্বলে বেড়ে ওঠা, বাবাকে সে পছন্দ করে, মাকে করে অপছন্দ, ইত্যাদি ইত্যাদি। এছাড়া গল্পগুলোর পটভূমিতেও দেখা যায় লেক হুরনের ছায়া যা ছিল মানরোর নিজের বেড়ে ওঠার জায়গা। তাই বিভিন্ন সময়ে পাঠকেরা বলে থাকেন, মানরোর গল্পগুলো আসলে তাঁর জীবনেরই কথা।    

আজো তাই পিছু ফিরে স্মৃতিচারণ করে লেখিকা বলেন, সেই চৌদ্দ বছর বয়স থেকেই তাঁর জীবনের লক্ষ্য ছিল একজন লেখিকা  হয়ে ওঠার। লেখাই ছিল তাঁর আজীবনের ধ্যান-জ্ঞান; যদিও ‘দ্যা গ্লোব এন্ড মেইল’ পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে ২০০৬ সালেই মানরো জানিয়ে দিয়েছিলেন যে আর কিছু লিখবার মত প্রাণশক্তি তিনি হয়তো আর পাবেন না, কিন্তু এরপরও তিনি নতুন লেখা প্রকাশ করেন তাঁর ১৪তম গল্প সংকলন, ‘ডিয়ার লাইফ’ বইটি। এটি তাঁর চূড়ান্ত গল্পসংকলন। এরপরই তিনি আবারো ঘোষণা দেন যে ২০১৩ এর জুন মাসে তিনি লেখালিখি থেকে অবসর নেবেন। কানাডিয়ান প্রেসকে করা তাঁর অসাধারণ একটি মন্তব্যে তিনি বলেন, “আই নিউ আই ওয়াজ ইন দ্যা রানিং, ইয়েস, বাট আই নেভার থট আই উড উইন।” এই উক্তি থেকে এটাও বোঝা যায় যে তিনি কেবল প্রাপ্তির উদ্দেশ্যেই লেখেননি, বরং তাঁর সমৃদ্ধ লেখনীই তাকে এনে দিয়েছে পরম প্রাপ্তি।    

 

লেখক: টরন্টো থেকে পরিচালিত ইংরেজিতে বাংলা সাহিত্যেও বইপড়া প্রকল্পের সমন্বয়ক। 

 

 

০১ জুলাই, ২০১৮ ১২:২৮:৫৭