সুব্রত কুমার দাস : পঞ্চান্নতম জন্মদিনের শুভেচ্ছা
শান্তা নিরুপমা
অ+ অ-প্রিন্ট
গবেষণাধর্মী বইয়ের নাম শুনলেই হয়তো কোনো কোনো পাঠক ভয়ে আঁতকে উঠেন। আমি নিজেও অনেকটা ওরকম। তথ্য উপাত্ত আর কঠিন কঠিন ভাষার ব্যবহারে কোনো একজন লেখক বা তাঁর সাহিত্য  নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ সাধারণ কোনো পাঠকের ভালো লাগার কথা না।  ওগুলো পণ্ডিতগণের পাঠ্য। আর আমাদের ভালো লাগবে হালকা মেজাজের রোম্যান্টিক ধাঁচের বই। তবে যাদের বই দেখলেই পড়তে ইচ্ছে করে তারা ওইসব কঠিন কঠিন ভাষার বইকে ‘হিমালয় জয়সম’ মনে করেও পড়া শুরু করার সাহস দেখায়। আমি সেরকমই একজন পাঠক। বাংলাতে  বহুল পরিচিত একটা প্রবাদ আছে,  ‘যেখানে দেখিবে ছাই, উড়াইয়া দেখ তাই, পাইলেও পাইতে পার মানিক রতন’। মানিক-রতনের সম্ভার এখন আমার হাতে!

একজন শুভানুধ্যায়ীর কল্যাণে হাতে পেলাম চারটি বই। লেখক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস-এর ‘রবীন্দ্রনাথ ও মহাভারত’,  ‘রবীন্দ্রনাথ: ইংরেজি শেখানো’, ‘নজরুল-বীক্ষা’ আর শেষেরটি হচ্ছে, না,  নামটা শেষেই বলি। ওই বইটির গুরুত্ব এই তিনটি বই পড়ার পরেই বোঝা যাবে ভালো। যদিও এতো কম পরিসরে চারটি বই সম্পর্কে লিখতে যাওয়া আর আলমারির মধ্যে অতিরিক্ত কাপড় ঢুকিয়ে চেপে আলমারির দরজা বন্ধ করার মতো, তবুও আমি সে চেষ্টাই করছি।

প্রথমে আসি ‘রবীন্দ্রনাথ ও মহাভারত’ প্রসঙ্গে। আমি কখনও মহাভারত পড়িনি। মহাভারতের ভেতরে কী আছে সেটা আমি জানি না। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ‘কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে?’ অথবা ‘তুমি তো গল্প বলতে বলতে একেবারে মহাভারত বানিয়ে ফেললে!’ অথবা ‘আবার পাশের বাড়ীতে কুরুক্ষেত্র বেঁধেছে’ এই পঙতিগুলো হরহামেশাই শুনতাম। কুরুক্ষেত্র শব্দটা যে মহাভারত থেকে এসেছে সেটা যেমন জানতাম না। তেমনি আরও অনেক শব্দ মহাভারত থেকে এসে কীভাবে আমাদের দৈনন্দিন জীবনে মিলে মিশে একাকার হয়ে গেছে সেটা এই বই থেকেই জানতে পারি।  তো, উপরের প্রথম দুটি  পঙতির কারণে আমার ধারণা হয়েছিল যে  মহাভারত একটি ধর্মীয় গ্রন্থ (কারণ, এর সাথে শুদ্ধতা অশুদ্ধতার বিষয় জড়িত) আর এটি আয়তনে বিশাল। এই ক্ষুদ্র ধারণা নিয়ে মহাভারত সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথ কী বলেছেন বা তাঁর চিন্তাভাবনা কী ছিল অথবা মহাভারতের সাথে তাঁর সম্পর্ক কী, এগুলো তো আমি কিছুই বুঝব না। এটা পড়ে তো আমার ভালো লাগবে না, এটা মোটামুটি নিশ্চিত হয়েই পড়া শুরু করলাম। কিন্তু পাঠক, বিশ্বাস করুন, উপরের প্রবাদটি আমার জন্য সত্যি হয়ে উঠল। আমি যেন মানিক-রতনের খনি পেলাম। এ বইটি আমার হাতে না আসলে আমি জানতামই না যে, ‘রবীন্দ্রসাহিত্যের নানা জায়গায় ছড়িয়ে আছে মহাভারত নামের মহাকাব্যটির ছোঁয়া।’ লেখক সুব্রত কুমার দাস খুব সহজ ভাষায় অথচ সূক্ষ বিশ্লেষণে মহাভারতের সাথে রবীন্দ্র-সাহিত্যের সংযোগ তুলে ধরেছেন এই বইতে। তিনি অতি বিস্ময়ের সাথে লক্ষ করেছেন যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ধর্মীয় কোন বোধ দ্বারা তাড়িত না হয়ে মহাভারতের কাহিনিকে তাঁর নিজ সাহিত্যে আত্তীকরণ করেন। মহাভারতের উৎপত্তি, রচক, অনুবাদক ও রবীন্দ্র-সাহিত্যের উপস্থিতির ঝলক দিয়ে তিনি শুরু করেছেন ‘গোড়ার কথা’। যেখানে মহাভারতের দুটি চরিত্র দেবযানী ও কচকে নিয়ে লেখা রবীন্দ্রনাথের, ‘বিদায় অভিশাপ’-এ দেবযানীর যে উক্তিটি তিনি পাঠকের জন্য তুলে ধরেছেন তা সত্যিই উপভোগ্য - ‘বিদ্যাই কি দুর্লভ শুধু, প্রেম কি হেথায় এতই সুলভ?’ এরপর তিনি মহাভারতের রচয়িতা, অনুবাদক কতো হাজার শ্লোক এখানে আছে এসব নিয়ে অবাক করা সব তথ্য দিয়েছেন  আর খুব সংক্ষেপে মহাভারতের কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনার গল্প আমাদের বলেছেন। যে গল্পগুলি শুনে পাঠক তৃপ্তি লাভ করবেন। এরপর একে একে বালক রবীন্দ্রনাথের কবিতায় মহাভারতের কাহিনির উপস্থিতি, মহাভারত নিয়ে পরবর্তীকালে রবীন্দ্র মুল্যায়ন  ও রবীন্দ্রনাথের মহাভারতের কাহিনি পুনর্নির্মাণ নিয়ে লেখক চমকপ্রদ আলোচনা করেছেন। এ প্রসঙ্গে উঠে এসেছে ‘চিত্রাঙ্গদা’, ‘বিদায় অভিশাপ’ ও ‘কর্ণ কুন্তি সংবাদ’সহ আরও কিছু রবীন্দ্র-সাহিত্য। অত্যন্ত পাঠকপ্রিয়  ‘চিত্রাঙ্গদা’ মহাভারতের কাহিনী নির্ভর হলেও  চিত্রাঙ্গদা চরিত্রটিকে  সমৃদ্ধ অলঙ্করণে রবীন্দ্রনাথই সাজিয়েছেন। এই চরিত্রটির দ্যুতি মহাভারতে তেমনভাবে ছিল না বললেই চলে। তেমনি ‘বিদায় অভিশাপ’-এও রবীন্দ্রনাথ দেবযানী ও কচের বিদায়বেলার অভিশাপকে এমনভাবে বর্ণনা করেছেন যাতে করে দেব-দেবী হলেও  তাদের মধ্যে প্রেম ও ভালোবাসার অনুভূতি মানবীয় হয়ে প্রকাশ পায়। মহাভারতের কাহিনি অবলম্বন করে অনেক লেখক অনেক উল্লেখযোগ্য সাহিত্য রচনা করেছেন যা গবেষক সুব্রত কুমার দাস তাঁর ‘রবীন্দ্রনাথ ও মহাভারত’ বইতে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মহাভারতের কাহিনি পুনর্নির্মাণে যে দীপ্তি ছড়িয়েছেন তা  বাঙালি পাঠকের কাছে চিরদিনের জন্য অমলিন হয়ে থাকবে।  শুধু গল্প, কবিতা, নাটক উপন্যাসই নয়, তিনি প্রচুর প্রবন্ধ লিখে মহাভারতের মূল্যায়ন করেছেন। মহাভারত ও রবীন্দ্রনাথ নিয়ে  এরকম আরও বহু চমকপ্রদ তথ্য  ‘রবীন্দ্রনাথ ও মহাভারত’ বইতে তুলে ধরেছেন সুব্রত কুমার দাস। এবং গল্প ও তথ্যের এমন সুন্দর একটা সমন্বয়  করেছেন যে, মহাভারত পড়া এবং না পড়া দুই ধরনের পাঠকই এই বইটি পড়ে  তৃপ্তি লাভ করবেন। এ বইটির প্রচ্ছদ করেছেন তের বছর বয়সী তাসনিমা তাবাসসুম খান।

পরের বইটি ‘রবীন্দ্রনাথ: ইংরেজি শেখানো’। আন্তর্জাতিক ভাষা হওয়ায় ইংরেজি শেখার গুরুত্ব সর্বজন স্বীকৃত। কিন্তু এই ভাষাটি সহজভাবে এবং ফলপ্রসূভাবে  শেখানোর কোন প্রক্রিয়া আমাদের দেশে কখনই চালু হয়নি। ফলে ছাত্রছাত্রীরা বরাবরই ইংরেজিকে একটি কঠিন ও দুর্বোধ্য ভাষা হিসেবে ইংরেজির থেকে দূরে সরে যেতে চায়। রবীন্দ্রনাথ সেই উদ্যোগটা নিয়েছিলেন। এর কারণ হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা উল্লেখযোগ্য। ‘মাস্টারমশায় মিটমিটে আলোয় পড়াতেন প্যারি সরকারের ফার্স্ট বুক। প্রথমে উঠত হাই, তারপর আসত ঘুম, তারপর চলত চোখ-রগড়ানি’। প্রাণহীন আনন্দহীন এ শিক্ষাদানের পদ্ধতিটিকে আমুলে বদলে দেয়ার চেষ্টাতেই জীবনের চারদশক জুড়ে রবীন্দ্রনাথের বার বার বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বলে সুব্রত কুমার দাস ধারণা  করেছেন যেটির সাথে পাঠক পুরোপুরি একমত হবেন। আর একারনেই তিনি নিজে  ইংরেজি শিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন এবং রচনা করেছিলেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বই। এ প্রসঙ্গে  ‘ইংরেজি সোপান’, ‘ইংরেজি-শ্রুতিশিক্ষা’, ‘ইংরেজি-পাঠ’ ও ‘অনুবাদ-চর্চা’ উল্লেখযোগ্য। এই বইগুলো রচনায় তিনি প্রচুর গবেষণা করেছেন তা বোঝা যায় ‘রবীন্দ্রনাথ: ইংরেজি শেখানো’ বইটি পড়ে, যেখানে সুব্রত কুমার দাস উল্লেখ করেছেন কিছু উদাহরণ। একই শব্দ বিভিন্ন বাক্যে ও বিচিত্র নির্দেশে ব্যাবহারের মাধ্যমে  একটি নতুন শব্দের আত্মস্থ  করানো তেমনি একটি উদাহরণ। এরকম অসংখ্য উদাহরণ আছে বইটিতে। সাহিত্যে সফলতা ছিল যাঁর আকাশচুম্বী তিনি যে ভাষা শিখানোর মত একটা রসকষহীন বিষয়েও এতটা সফল সেটা ‘রবীন্দ্রনাথ: ইংরেজি শেখানো’ বইটি পড়ে  যেমন জানা যায় তেমনি বুঝতে পারা যায় গবেষক হিসেবে সুব্রত কুমার দাসের সফলতা। বইটি ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষককে যেমন কাজে দিবে তেমনি সাধারণ পাঠককেও মুগ্ধ করবে। এই বইটির প্রচ্ছদশিল্পী এগারো বছর বয়সী শামাম তাবিনদাহ।

তৃতীয় বইটি ‘নজরুল-বীক্ষা’। বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের জানা অজানা অনেক গল্প তথ্যে সমৃদ্ধ এই বইটি হাতে পেয়ে মনে হবে, আরও আগে কেন হাতে আসেনি। নেপালের বিখ্যাত কবি দেবকোটার সঙ্গে আমাদের কবি নজরুলের তুলনা দিয়ে শুরু হয়েছে বইটি। সুব্রত কুমার দাসের তথ্যানুসারে,  দুজনেই ছিলেন বিদ্রোহী কবি, কিন্তু নেপালের কবি ‘মহাকবি’ হিসেবে নন্দিত।  লেখক তাঁদের মধ্যে মিল দেখেছেন Ñ তাঁদের পারিবারিক অর্থনৈতিক অবস্থানে, বেড়ে ওঠায়, সাহিত্যাঙ্গনে বিচরণের মেয়াদে, তাঁদের লেখার বিষয়বস্তুতে ও মানবিক মূল্যবোধে। এ প্রসঙ্গে তিনি দেবকোটার ‘পাগল’ ও নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ নিয়ে আলোচনা করেছেন। সত্যিই অবাক হতে হয় দুই দেশের দুজন বিখ্যাত কবি যাঁরা কখনও নিজেদের সান্নিধ্যে আসেননি তাঁদের  মধ্যে এতো মিল! এরপর একে একে  নজরুল-মুল্যায়ন, ফরিদপুরে নজরুল, নজরুল রচনায় ইউরোপীয় সাহিত্যের উল্লেখ, কথাসাহিত্যে নজরুলের কৃতিত্ব, নজরুলের সাহিত্যচিন্তা, বাঁধনহারা, নজরুল ভাবনায় জাতীয় (বিশ্ব)বিদ্যালয় ও পশ্চিমা সমালোচনায় নজরুল  শিরোনামে  লেখক যে বিষয়গুলো নিয়ে গবেষণা করেছেন তাতে উঠে এসেছে নজরুলের সাহিত্য জীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের নানা বৈচিত্র্য। এসেছে  স্বনামধন্য সাহিত্যিক ও সমালোচকের চোখে নজরুলের অবস্থান,  ইংরেজি সাহিত্যে তাঁর বিচরণ ও তাঁর সাহিত্যে ইংরেজি সাহিত্যের ছোঁয়া, পত্রোপন্যাসে নজরুলের অসামান্য দক্ষতা সহ নজরুল রচনার নানা দিক। আর এসবের মধ্যে ব্রিটিশ শাসনামলের শেষের দিকে জনপ্রিয় ও জনদরদী  নেতা, কবি, ও বুদ্ধিজীবীদের সাথে নজরুলের চলাফেরা ও সিরিয়াস অথচ মজার মজার সব ঘটনার উল্লেখ বইটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।  বঙ্গীয় প্রাদেশিক সম্মেলনে, ‘ঘোর ঘোর ঘোর ঘোররে আমার সাধের চরকা ঘোর গানটি শুনিয়া গান্ধীজী হাসিয়া কুটিকুটি’, এমনি একটি উদাহরণ। নজরুল সম্পর্কে জানার আগ্রহ  বাংলাদেশের পাঠকদের যতটা, ততটা গবেষণা  তাঁকে নিয়ে হয়নি। এই বইটি সে তৃষ্ণা কিছুটা হলেও মেটাতে সক্ষম হবে বলে আমার বিশ্বাস।  নজরুলের দুই বয়সের দুই আলোকচিত্র দিয়ে এই বইটির প্রচ্ছদ করেছেন মোস্তাফিজ কারিগর।

যাঁর মেধা ও পরিশ্রমের ফসল উপরোল্লিখিত বইগুলো সে গবেষক ও লেখক সুব্রত কুমার দাস সম্পর্কে জানার আগ্রহ যে কোন পাঠকেরই হবে। আমার পড়া চতুর্থ বইটির নাম বলার সময় এসেছে এখন। বরুণ কুমার বিশ্বাসের সম্পাদনায় ও মোস্তাফিজ কারিগরের প্রচ্ছদে এই বইটি হচ্ছে, ‘সুবর্ণ জন্মজয়ন্তী সুব্রত কুমার দাস’। তাঁর পঞ্চাশতম জন্মবর্ষকে অনাড়ম্বরভাবে পালন করতে এই আড়ম্বরপূর্ণ বইয়ের প্রকাশ তাঁর প্রতি ও তাঁর লেখার প্রতি পাঠক-লেখকের ভালবাসাই প্রমাণ করে। এই বইটি পড়ে তাঁর কর্ম জীবনের দীপ্তি, তাঁর সাংগঠনিক ক্ষমতা, বাংলা সাহিত্য তথা সমগ্র সাহিত্যের প্রতি তাঁর ভালোবাসা সম্পর্কে জানা যাবে। আর জানা যাবে অনন্য মেধাবী এই লেখকের আরও কিছু অসাধারণ বই ও সাহিত্য কর্ম সম্বন্ধে।

ভাবতে অবাক লাগে এমন একজন মেধাবী লেখক নিরবে নিভৃতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন বাংলা সাহিত্যকে বিশ্ব সাহিত্যে উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতরভাবে উপস্থাপন করতে, সেটা এই বইটি না পড়লে বাংলাদেশের অন্য অনেক পাঠকের মত আমিও  জানতেও পারতাম না। বেঙ্গলি লিটারেরি  রিসোর্স সেন্টার  ও বাংলা সাহিত্যের ওয়েবসাইট  বাংলাদেশি নভেলস (http://bdnovels.org) এর প্রতিষ্ঠাতা লেখক সুব্রত কুমার দাসের পঞ্চান্নতম জন্মদিন ৪ মার্চ। তাঁর জন্য আমার শুভকামনা।  বাংলা সাহিত্য ও বিশ্বসাহিত্যে এই  রকম ব্যক্তিত্ব বারবার আসুক, সাহিত্যের একজন পাঠক হিসেবে সেই প্রত্যাশাই করি।

 

 

 


 


০৪ মার্চ, ২০১৮ ১৪:১১:৩২