বিক্ষুব্ধ ধরিত্রী
মহসিনুল কাদির
অ+ অ-প্রিন্ট
আমি ধরিত্রী

তোমাদের মাতার মাতা

তোমাদের অর্বাচীনতা, সেই সুপ্রাচীন কাল থেকে

কতবার আমাকে ক্ষুব্ধ করেছে

তার সংখ্যা কে বলে দেবে?

ইতিহাস বলে দেয়

আমি ক্ষুব্ধ হলে কিরূপ পরিগ্রহ করি।

তোমারা দেখেছ কি?

বহু প্রাচীন সভ্যতা

ডেড সী আর কম্পেই নগরী ।

 

আজকাল আমার যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে,

সন্তানেরা নাকি পলাতক হবে?

মহাশূন্যের অন্য কোথাও হবে তাদের স্বপ্নের গন্তব্য ।

 

আমি অপমানবোধ  করছি,

বিষয়টি আমি ভালো ভাবে নেই নি।

 

সৌর পরিবারের মধ্যে আমি- ই স্বতন্ত্র

আমি বন্ধ্যা নই,ভিখারিনী ও নই।

সমস্ত শরীর ব্যাপী সন্তানেরা ছড়িয়ে রয়েছে

আমার পেটের মধ্যে ও বহিরাঙ্গে

কত সম্পদ ছড়িয়ে রয়েছে

তার হিসেব আমি নিজেও জানি না।

 

হতভাগ্য মাতা আমি

সাতশত কোটি সন্তান আমার,

খাইয়ে পড়িয়ে বাঁচিয়ে রাখি,

তারা আমার অঙ্গ ছেদন করছে আমার নাভিমূল অবধি।

আমার পেট চিড়ে সম্পদ আহোরণ করছে

আমি সর্বংসহা, আমি নির্বিকার

কারন আমি মাতার মাতা।

 

আমার বাতাস, আমার পানি

সন্তানদের জীবন রক্ষার তরে

বৃক্ষ শোভিত হয়েছি

সন্তানদের নিরাপদ দেহ মন বিকাশের জন্য

বাঁচিয়ে রাখার সব উপকরণ আমি

নিরন্তর সরবরাহ করে চলেছি।

 

সন্তানদের সুখের জন্য

আমি সময়কে দাঁড় করাই

প্রাচীন মেসোপটেমিয়া,সিন্ধু অববাহিকা, ওড়াল হ্রদ ও তার পাশ্ববর্তী অঞ্চলে ।

তারপর আমি সময়কে পাঠিয়ে দিলাম প্রাচীন গ্রিক, মিশর,রোম,হোয়াংহো অববাহিকা আর আরো কত অঞ্চলে ।

আজ তা আর আমি স্মরণ ও করতে পারছি না ।

 

আমার সন্তুষ্টি ধীরে ধীরে

আমার শরীরে বসবাসরত সন্তানদের উপর ছড়িয়ে পড়ে।

সেই তো তখন থেকে সময়কে ছড়িয়ে দিয়েছি

আমার শরীর ব্যাপী ।

 

সেই থেকে,

আমার ছেলে মেয়েরা বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীতে বিভক্ত হয়ে

তারা আজ ভূগোল এর জ্ঞান খাটিয়ে

আমার উপর দেশ বানিয়ে ভালো আছে।

 

আমার আর্শীবাদ পেয়ে

ইতিহাসের পূর্ব থেকে

আমার কিছু সন্তান দূর্বিনীত হয়ে আসছে

জাতিসত্তার ধুয়োতুলে

আমার বুকে দাঁড়িয়ে,

কত দূর্বল সন্তানদের নিশ্চিহ্ন করেছে

তার হিসেব আমার জানা নেই ।

 

আমার আর্শীবাদপুষ্ট অনেক সন্তানেরা

বিভিন্ন ধর্ম, বর্ণ আর তন্ত্রের নামে

প্রভূত্ব কায়েমের অন্যায় প্রতিযোগিতায় নেমেছে

সভ্যতার নামে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে

সব জাতি রাষ্ট্র আমাকে শাসন করে চলেছে ।

 

সন্তানেরা আজকাল প্রকৃতিকে শাসন করার নামে

আমাকেও শাসন করে,

আমার চিরাচরিত ব্যবস্থাপত্রে পরিবর্তন ঘটায়,

কল্যাণের কথা বলে অকল্যাণকে আলিঙ্গন করে

আমি মাতার মাতা

তাই অনেক ধৈর্য্যশীলা ।

 

সীমালংঘন ধৈর্য্য সীমা পার হলে

মূখ্যম অস্ত্রটি ব্যবহার করি আমি,

আর অনাদিকাল  হতে এটাই আমার রীতি ।

 

মহাকালকে বলি সময়কে সরিয়ে নাও

আমার শরীরের অন্য কোথাও, অথবা সমস্ত শরীর থেকে।

মহাকাল ধীর অথবা দ্রুত গতিতে

পরিস্থিতি বিবেচনায় কাজটি সারে।

 

এই যদি চলতে থাকে

মহাকাল থেকে সময়কে সরিয়ে নিয়ে

দুঃসময় আমি নামিয়ে দিতে চাই।

সন্তান যতই চতুর হোক, বিজ্ঞানমুখী হোক

সময়কে আটকাবার ক্ষমতা তারা রাখে না।

আমার বিধানকে বদলাবার প্রয়াস অব্যাহত থাকলে

আমি দুঃসময় নামিয়ে দিবই।

 

দুঃসময়ের ঘোড়া এত দ্রুত গতিতে আসবে যে

সন্তানদের আর পালানোর সময় থাকবে না,

আমি আমার উপর বিপর্যয় ডেকে আনব।

 

উৎসর্গে:International Governmental panel on Climate Change (IPCC)

১৭.১২.২০১৭

১৮ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২২:০০:৪২