সখীর মা
জয়া গুহ (তিস্তা)
অ+ অ-প্রিন্ট
বলি ও ঢেপসী, ওঠ না রে,বোস বাড়ির টুবলু সকাল থিঙে উটে টেহুয়া টেহুয়া করে পড়তে নেগেচে,এবার আর তোর ফাস্টো হওয়া হবেনি,এই হক কতা বলে রাকলুম।

"উফফ!মাসি একটু চুপ কর তো,সক্কাল সক্কাল কাঁচা ঘুমটা রোজ ভাঙাবে তুমি, দাও চা দাও আগে"

বলেই টুথব্রাশ হাতে বাথরুমে যায় রুমি,ততক্ষণে সখীর মায়ের হাতে লিকার চায়ের কাপ রেডি।

সময় আন্দাজ সাড়ে পাঁচটা।

এই অভ্যাসেই পড়তে বসা এবং স্কুলে প্রথম, দ্বিতীয়র মধ্যে থাকা রিমিতা দত্ত আজ স্কুলের শেষ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ।

উচ্চ মাধ্যমিকে ৯০% মার্কস পেয়ে স্কুলে প্রথম হয়েছে সে।

'মা!মাসি আসেনি আজ"

'না, রে, বোধহয় শরীরটা খারাপ হয়েছে,কাল কাশছিল খুব '

ব্যানার্জী পাড়ার ওপাশে শিবমন্দির গুলোর লাগোয়া ঝুপড়ি গুলোর একটায় থাকে সখীর মা।

বিকেলে সাইকেল নিয়ে খুঁজতে খুঁজতে রুমি ভাই কে নিয়ে এক্কেবারে হাজির।

তক্তাপোষ এ কাঁথা জড়িয়ে শুয়ে সখীর মা

মাসি,ও মাসি.....দেকোদিকি তোমার কাজের বাড়ির থিঙে নোক এয়েচে।

নাম বলতেই স্থানীয় এক মাঝবয়সী মহিলা রুমিকে নিয়ে আসে সখীর মার ঘরে।

"ও মা! ঢেপসী এয়েচিস! "

'হ্যাঁ গো মাসি,আজ আমার রেজাল্ট বেরোলো,তুমি আসনি জেনে তোমায় খুঁজতে এলাম, আমি ফার্স্ট হয়েছি স্কুলে"

তা, তোমার মেয়ে কই?

'ওমা! আমার তো মেয়ে নেই রে'

'কেন?ওই যে বলে সবাই সখীর মা'

'ধুস পাগলী, ও তো সতীনের মেয়ে,মা টা মোলো,ওর। বাপ আমায় বে করল,ত্যকন থিঙেই আমায় ওর বাপ সখীর মা বলে ডাকত।সেই দেকে বেবাক নোকে ওই নামেই ডাকে।

নিজের পেটে যাকে ধরিছিলুম, সে তো আর রইল না,বুড়ো সেই ছেলের শোকে নেশা করত।টেরাম কোম্পানির কাজ টা ওই নেশার জন্যিই গেল।

আমিও ঠিকে ঝি এর কাজে নেগে গেলুম।তিনটে পেট! চালাতে তো হবে।

খেটে খুটে মেয়েটার বে দিলুম,জামাই টেরাক চালায়।

বুড়ো মরতে ঘর দালানটুকু টিপছাপ দিয়ে নেকন দে-দিলুম।জামাই বললে নিজের টেরাক কিনবে, ট্যাকার দরগার।

মেয়ে সৎ মা বলে খেদিয়ে দিল আমায়।এই ময়নার মা,ভ্যানওলা হীরু আমায় কাঁদতে দেকে ঝুপড়িতে ঠাঁই দেচে।

ওসব কতা ছাড়োদিকি,বল কি খাবে?

তিলের লাঠি না কচুভাজা?

'আদর খাবো,মাথায় হাত বুলিয়ে দাও,আজ আর কিচ্ছুনা গো মাসি'

বুকে মাথা রেখে রুমি টের পেলো দুফোঁটা জল তার কপাল বেয়ে নামছে.....।

 

০৩ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:৪০:১৪