ডাক্তার মিজানুর রশীদ শুভ্রর কবিতা
মিজানুর রশীদ শুভ্র
অ+ অ-প্রিন্ট

উৎসর্গ: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম কে

 

অমূল্য নির্যাস

 

লিখো দিন মজুর, কবিতা লিখো

                 লিখে যাও অবিরাম

শ্রমের না হয় মূল্যটা পেলে

                 ঘামের কে দিবে দাম?

রোজ তুমি এক পুর্ন নজরুল

                   দু’হাতে দশাগ্নিবীনা

তবু কেন দিনের শেষে

                     জন্মটা কেই করো ঘৃণা? 

মূল্য না পেয়ে দিন শেষে তুমি

                      আরেকজন খুদিরাম।  

শ্রমের না হয় মূল্য পেয়েছ

                       ঘামের কে দিয়েছে দাম?

 

কপালের ঘাম মুছো না তুমি

               ঝরুক মাটির বুকে  

ঝরা ঘামের ফোটা গোটা গোটা হরফে

                     মাটিতে কবিতা লিখে

স্কুল শেখায় নি সেই স্বরলিপি

                  জানি না  সে কবিতার নাম

শ্রমের না হয় মূল্যটা বুঝি

                   ঘামের কি দিবো দাম?

ঘামের ফোটায় যা লিখা হলো

                   পৃথিবী তার সাক্ষ্য বই

পাও নি সোপাণ শিক্ষার তাই

                   বাইতে পারো নি মই

উঠেছো কেবল বাঁশের মাচায়

                 নির্ভয়ে শত তলা

অথচ তোমার উপরে ওঠার

             দরজায় লাগানো তালা

প্রতিটি ইটে ছুঁয়ে রেখেছ

                  উর্ধ্ববাসীর পরিণাম

শ্রমের না হয় মূল্য দিয়েছে সে

             ঘামের কি দিয়েছে দাম?

 

ক্ষেত খামাড়ে পোড়া চামড়ায় লিখা

                           খাদ্যের ইতিহাস

শ্রমের মূল্য রচনায় করেছি

                          অর্থনৈতিক দাস

শস্যকণার কথা পৌছায় না

                 মন্ত্রীসভায় কোন চিঠিতে

লাঙ্গল ফলায় তবু চিঠি লিখে যাও

                    কঠিন এই পৃথিবীতে 

আছে জমা সব হিসাবের খাতায়

               একদিন খোলা হবে খাম

শ্রমের মূল্য যাই পেয়েছো

                   ঘামের ও হবে দাম?  

 


 



সেদিন -------------/ 


ধরে নাও সেদিন পশ্চিমেই প্রভাত হয়েছিল

মেনে নাও শরীর সেদিন জেনে শুনে শুধু বিষকেই ভালবেসেছিল 

সময়টা পথে বসে পাথেয় নিয়ে ভীষণ যেন কি ভাবছিল 

পৃথিবীর সব পথের দুরত্ব শুধু দুজনের চোখের মাঝেই সেতু হয়ে দানা বাঁধছিল। 

তারপর অভয়ের জঠরে জন্মালো অভিসার 

কথার পাশে কথা শুয়ে গড়ে ছিল কেবল একটি বেলার সংসার 

নিশ্বাসের সাথে প্রশ্বাসের বিনিময়ে ছিল বেশ একটা বিচুর্ন অধিকার 

এলোমেলো নির্ভাবনা সময় দেয় নি সেদিন সময়কে অবসর 

সেই মুহুর্তের কোন অনু-পরমানু আর ফুসরত পায়নি পুরানো হবার। 

এমন দিন গুলো বারবার শুধু একবারই হয়তো হয় প্রকাশ্যে অনর্গল 

মনে মনে চলমান প্রকল্পে চলে মনের মরুভুমি জয় 

অপ্রকাশ্যে সারাটি অস্তিত্ব নির্বাক মুগ্ধতায় স্থবির, 

প্রভাতের মতো নিস্তব্ধ তম্ময় সপ্তাহের সপ্তবাসি হয়েও সেদিন রেখে গেছে তার অষ্টম পরিচয়। 

১৮ অক্টোবর, ২০১৭ - শুভ্র টরেন্টো, ক্যানাডা

 






 


২৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০৫:৩৪:৪৬