মনের মানুষ
জয়া গুহ (তিস্তা)
অ+ অ-প্রিন্ট
তুমিই কি সে?

প্রথম পিউবার্টির সময় যে ছেলেটির চোখে চোখ পড়তেই আধো লজ্জায় আড়মোড়া ভাঙা শরীরে অজানা শিহরণ জেগেছিল

মনে মনে তাকে জিজ্ঞেস করেছিলুম

মুখ ফুটে বলা হয়ে ওঠেনি তাকে

বছর পাঁচেক পর পানপাতার ফাঁকে আনত চোখ যার পলকে নিজেকে মাপতে শিখল..

লজ্জাবস্ত্রের আড়ালে অস্ফুট মন্ত্রচ্চারণের ফাঁকে বলেছিলুম'তুমিই কি সে?'

কানে পোঁছতে না পৌঁছতেই আটকড়াই, বাটকড়াই আঁতুড়ঘর, একঘর ছেলেপিলে উঠোন জুড়ে

মাঝ-বয়সে পা, তিরিশ ছুঁই ছুঁই হবো, ও তরফের সেজ ঠাকুরঝির দেওর এল সেবার পূজার ছুটিতে দেশ-বাড়ি বেড়াতে।

খোলাচুলে আলতা পরা পা আর পানের রসে রাঙা ঠোঁট নিয়ে কবিতা লিখেছিল,সন্ধ্যায় তাসের আড্ডায় জমিয়ে শোনালো যখন,সক্কলে ভাবল তার বউকে নিয়ে লেখা,কেবল আমিই জানলাম পানের রস আর দাঁতের অল্পচাপে বেরিয়ে আসা রক্তের রঙ এক।

মনে মনে আপ্রাণ গুমরে ওঠা আওয়াজে জানতে চাইলাম 'বলনা তুমিই কি সে?'

আজ চুলে পাক,শাড়ীর লাল পাড় কালো সবেই।

হাত-কপালের রঙ ঘুচিয়ে যখন। গঙ্গার ঘাটে শেষ কাজের বাসি ফুল-মালা,যজ্ঞের পোড়া কাঠের ছাই ভাসিয়ে ভিজে কাপড়ে উঠে আসছি,কোত্থেকে এক অনামুখো পাখি চিৎকার করে গেলো"বউ কথা কও,বউ কথা কও'

বুঝলাম তুমিই ছিলে সেই

মনের মানুষ।

 

 

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১১:০০:৩৫