তিলোত্তমার বুকে চৈতি সন্ধ্যায় কৃষ্টি আর সৃষ্টির প্রাণকেন্দ্রে সোনালী সকাল পলাশ সংখ্যার আত্মপ্রকাশ
বচ্চন গিরি
অ+ অ-প্রিন্ট


ঝরা পাতায় মড়মড় করে বসন্ত হেঁটে যায় গুটিগুটি পায়ে | অস্তগামী সূর্যের লাল আভায় নতুন এক সোনালী সকালের হাতছানি | শহর জুড়ে উষ্ণতার পারদ ক্রমেই চড়ছে,শেষ বসন্তের চৈতি হাওয়ায় মেতে তিলোত্তমা মহানগরী সাক্ষী থাকলো এক স্বর্ণালী সন্ধ্যার | গত ১০ই এপ্রিল, সোমবার সন্ধ্যার ঝলমলে আলো আর জমজমাটি আড্ডার মাঝে বিশিষ্ট সাহিত্যিক ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায় ও সাহিত্যিক বিনোদ ঘোষালের হাত ধরে আরো একবার কলকাতার বাতাস ছুঁলো এক মুঠো আবির রং| উপস্থিত সকলকে সাক্ষী রেখে প্রকাশিত হলো "সোনালী সকাল"পত্রিকার প্রথম বর্ষ,তৃতীয় সংখ্যা তথা "পলাশ সংখ্যা" | এদিন বিকেল ৫টায় নন্দন চত্বরে চারুকলা ভবনের অবনীন্দ্র সভাকক্ষে শুরু হয় পত্রিকা প্রকাশ অনুষ্ঠান| উদ্বোধনী সঙ্গীতে ক্ষুদে বিজেত্রী মুখার্জ্জীর কন্ঠে ধ্বনিত হয় বাগ‌্দেবী সরস্বতীর বন্দনা| বাংলার দুই নক্ষত্র লোক সঙ্গীত বিশেষজ্ঞ কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্য এবং সমাজবন্ধু কাঞ্চন রায়ের অকাল প্রয়ানের জন্য পত্রিকার পক্ষ থেকে শোক প্রস্তাব পাঠ করে নীরবতা পালন করেন উপস্থিত সাহিত্য প্রেমী মানুষেরা|  ছোট্ট আদ্রিজার গান আগত সকল সাহিত্যানুরাগী মানুষকে মুগ্ধ করে| আগত দুই বিশিষ্ট সাহিত্যিককে পত্রিকার পক্ষ থেকে বরণ করে হাতে সন্মাননা পত্র তুলে দেন ঋষিকা দত্ত, অদ্রিজা সাহা ও দিশা মন্ডল| "সোনালী সকাল" পত্রিকা কি এবং কেন, এবিষয়ে বক্তব্য রাখেন পত্রিকার প্রবীণ সদস্যা কল্পনা বিশ্বাস| কল্পনা দেবীর বক্তব্যে যেমন উঠে আসে পত্রিকা জন্মের ইতিকথা ঠিক তেমনই কৌতুকপূর্ণ কিছু মূহুর্তও ধরা পড়ে|এই পত্রিকা গ্রুপটি মানুষের একাকীত্ব দূর করার প্রয়াসে অনেক টাই এগিয়ে বলেই কল্পনা দেবীর দাবি| পত্রিকার সম্পাদক উদলা বাউল সাহিত্যকে ভালোবেসে, সাহিত্যের বন্দনায় ব্রতী হওয়ার আহ্বান জানান সবাইকে| যারা কখনো কলম ধরেননি তাঁদের হাতে কলম ধরানোই পত্রিকার লক্ষ্য বলে সম্পাদকের দাবী| অতিথি দুই স্বনামধন্য সাহিত্যিকের বক্তব্যে উঠে আসে বাংলা ভাষার ইতিহাস এবং বাংলা ভাষায় প্রকাশিত পত্রিকা বিষয়ক খুঁটিনাটি তথ্য| শহরের বুকে এক বসন্তের সন্ধ্যায় প্রবীন ও নবীন দুই বিশিষ্ট সাহিত্যিককে পাশাপাশি বসিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলো "সোনালী সকাল" পত্রিকা| এদিনের অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন বাসব মন্ডল, ঝুমা চৌধুরী, সুব্রত মন্ডল, পবিত্র পাত্র, জোৎস্না রহমান মন, দেবযানী গুপ্ত, মমতা দাস, শর্মিষ্ঠা রোদ মল্লিক, রুদ্র গোস্বামী, চন্দ্রানী বসু প্রমুখ|সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা  করেন বর্ণালী মৈত্র চক্রবর্তী মহাশয়া|সব মিলিয়ে বসন্তের শেষ সন্ধ্যায় ফুরফুরে আমেজে বেশ জমজমাট এক নিখাদ আড্ডার সাক্ষী হয়ে থাকলো স্বপ্ন সুন্দরী কলকাতা আর তিলোত্তমার বুক ছুঁয়ে যাওয়া পবিত্র গঙ্গা|


১৬ এপ্রিল, ২০১৭ ১৪:২২:৪৭