অভিমান
মৌসুমী প্রামাণিক
অ+ অ-প্রিন্ট
আমার পছন্দের মানুষটি যখন আমার থেকে দূরে সরে থাকে, তখন আমার ভীষনরকম অভিমান হয়। সেটাই স্বাভাবিক। বন্ধুরা বলে, “তুমিও পাত্তা দিও না। তোমার ডিগনিটি বজায় রাখো। সকালে আর এক বন্ধুর গুড মর্ণিং মেসেজ এল, “ অভিমান বেশিদিন ধরে রেখো না। তাহলে যার ওপর অভিমান করছো, সে অনেক দূরে সরে যাবে, তখন তুমি সবই হারাবে।”

সেটা খুব সত্যি কথা। অভিমানের মধ্যে ইগো, আত্ম-অহংকার লুকিয়ে থাকে। ইগো বা দর্প যদি সম্পর্কের মাঝে চলে আসে, তাহলেই সব শেষ। আবার একজন আর একজনকে ‘টেকেন ফর গ্র্যান্টেড’ করে নেবে, সেটাও অনুচিত। তাহলে উপায়? আসলে দুজন মানুষ আলাদা ইন্ডিভিজুয়াল, তাই দুজনের সমস্যাও আলাদা হবে। আবার সেই সমস্যার সঙ্গে ডিল করার মানসিকতাও আলাদা। যেমন আমি আমার সমস্যা বিশ্বস্ত কিছু মানুষের সঙ্গে শেয়ার করে হালকা হই ও সমাধান খুঁজে পাবার চেষ্টা করে থাকি। তেমনিই সকলে সেটা পারে না। তারা যারা আত্মকেন্দ্রিক, নিজের সমস্যাকে ইউনিক ভাবে এবং নিজেরাই লড়াই চালিয়ে যেতে পছন্দ করে।

আবার কারোর এটা মনে হতে পারে, “আমি নিজেকে ইজিলি অ্যাভেলেবেল করে দেব না; অন্যদিকে আমার প্রতি ইন্টারেস্ট আরো আরো গ্রো করুক…” তাই দূরে সরে যাওয়া সাময়িকভাবে। এতে সুফল ও কুফল দুটোই হতে পারে। অপর পক্ষ নিজেকে নেগলেক্টেড ভাবতে পারে আর ধীরে ধীরে দূরে চলে যেতে পারে। কিংবা সে আরো আরো নিদারুন ভাবে আকৃষ্ট হতে পারে।

আবার এটাও হতে পারে যে তার অন্য কোন প্রায়রিটি আছে, যেটাকে মান্যতা দেওয়া অধিক প্রয়োজন। আসলে এটা বোঝা খুব মুশ্কিল যে মানুষটির মনের ভিতর কি চলছে? মানসিক অবস্থা শুধুমাত্র আন্দাজ করা যায় এবং এ, বি, সি,ডি ইত্যাদি অপসানে ভাগ করা যায়। কিন্তু জীবন তো একটা অপসান নয়। তাই সুযোগও বারবার আসে না। তাই নিরবুদ্ধিতা করে সম্পর্ক জটিল করার কোন মানেই হয় না। সকলেই আমরা যথেষ্ট ম্যাচিওরড্, জানি কি করা উচিত আর কি করা উচিত নয়।  

কিন্তু মন অবুঝ, তাই অভিমানে চোখে জল আসে; কখনো বা ভুল বুঝে কাছের মানুষটাকে হারিয়ে বসি। আবার কখনো প্রেম নীরবে এসে চলে যায়, বুঝেও বুঝিনা। অনেক বছর পরে গিয়ে মনে হয় যে সেই মানুষটিই হয়তো আমার পারফেক্ট ম্যাচ ছিল। অতএব একটাই সলিউশান। তাকে খানিকটা স্পেস দেওয়া ও নিজেকে অন্য জায়গায় ব্যস্ত রাখা। কঠিন, কিন্তু অবাস্তব নয়। এখানে কেউ হয়তো ইনসিকিওরড্ ফিল করতে পারে; ভালবাসার মানুষকে হারানোর ভয় তো সবসময়ই থাকে। সেটাও অস্বাভাবিক নয়। তবে এটাও মনে রাখা দরকার যে সংসারে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। এমনকি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কও চিরস্থায়ী নয়।  মধ্যবিত্ত মানসিকতা, আইনি জটিলতা, সামাজিক দায়বদ্ধতার বশবর্তী হয়ে আমরা হয়তো একসঙ্গে থাকতে বাধ্য হই। কিন্তু আমাদের মধ্যে সেই চিরন্তন প্রেমটা আর কি বেঁচে থাকে?

একট মেয়ের কাছে তার বাবার সঙ্গে সম্পর্ক সবথেকে মূল্যবান আর পুরুষের কাছে তার মা সবচাইতে প্রিয়। তা মৃত্যু তো একদিন না একদিন সেই সম্পর্কের বিচ্ছেদ ঘটায়। আমরা যদি সেটা সহ্য করে নিতে পারি, তাহলে যে কোন বিচ্ছেদ সহ্য করার ক্ষমতা আমাদের আছে। প্রকৃতির নিয়ম আর ‘অল-মাইটি’র পাওয়ারের দৌলতে আমাদের সহ্য ক্ষমতা অসীম আর  অপরিসীম ধৈর্য্য যে কোন পরীক্ষায় সফলতা নিয়ে আসবেই; সবুরে মেওয়া ফলবেই। আর কথাতেই তো আছে, যে সয়, সে রয়।

৩১ মার্চ, ২০১৭ ০০:১১:১৩