উত্তরাধিকার
জয়া গুহ (তিস্তা)
অ+ অ-প্রিন্ট
'বেশ তা না হয় বুঝলাম, কিন্তু তুই তো জানিস ওইসব ভার্জিনিটি না কিসব বলে ওসবে আমার বিশ্বাস নেই, তুই ভার্জিন কিনা তাতে আমার ** ছেড়া যায়।'

'তোর দিক থেকে হয়ত তুই ঠিকই বলছিস ,কিন্তু কিছু কিছু কথা থেকে যায় যা বলতে হবে বলে বলা নয়, নিজেকেই আর একবার ফিরে দেখতে চাওয়ার ছলে বলা '-- অকপট ভাবে বলল শ্রেয়া।

'আমি একটা কথা জিজ্ঞাসা করব?'

'বল মি: সোহম মুখার্জী, তুমি আমার সদ্য বিয়ে করা বর তোমার তো এখন অগুনতি প্রশ্ন থাকাই স্বাভাবিক!" - অদ্ভুত লাস্যে বলল শ্রেয়া।

'আরে ধুস শোনই না, তুই তো তখন সবে উনিশ, আর তোর স্যার মানে উনি তো ৪৬। তুই প্রেমে পড়লি কি করে?'

'সে এক গপ্প, মানে স্যারের পড়াশুনো অঙ্কে যেমন গভীর, জীবনানন্দে তার চেয়ে এক চুল কম নয়। দারুণ লিখতেন।কলেজে উনি বদলী হয়ে এসেছেন বছর দুয়েক, কিন্তু ওয়াল ম্যাগাজিনে ওনার লেখার জন্য আমরা মুখিয়ে থাকতাম। আর ভগবান যাকে দেয়, সব দেয়। যেমন আকর্ষণীয় ব্যাক্তিত্ব তেমন বাগ্মী আর অসাধারণ সুপুরুষ। '

'তুই স্যারের নাম জানতে চাইলি না?  মানে খুব জেলাস ফিল করছিস? ' হাসতে হাসতে বলল শ্রেয়া।

'আমার নাম জানার দরকার নেই, শালা এদের আমার খুব ভাল করে চেনা আছে।কলেজের সবচেয়ে ভাল দেখতে মেয়েটিকে পটিয়ে নিলেন।আর  এদের চরিত্র দেখ প্রেম মানেই তা বিছানা, কোন বাছবিচার নেই। তা ওনার বউ থাকত কি করে এই ধরনের লোকের সাথে?'--জিজ্ঞাসা করল সোহম।

'উনি ডিভোর্সি ছিলেন'-আহত হল শ্রেয়া।

' না তা নয়, কিন্তু যে রিলেশন টা এক্সিস্ট করবে না ভবিষ্যতে, তাকে এতদুর টানতে হবে কেন? ভদ্রলোক কি তোর অল্পবয়সী কাঁচা ইমোশনের সুযোগ নেন নি?'_ বেশ ক্ষুব্ধ হল সোহম।

'না নেন নি, আমরা সহমতের ভিত্তিতে সম্পর্ক তৈরি করি, মিলিত হই, তবে দৃষ্টিভঙ্গির ফারাক ছিল। আমরা মেয়েরা, বাঁধতে চাই।কিন্তু

উনি বলেছিলেন   প্রেম খুব দুর্লভ বুঝলি, সারাজীবনে হয়ত আর আসবে না । তুই তোর স্বামীকে বা  প্রেমিক কে ভালবাসবি, শরীরে চাইবি সব ঠিক কিন্তু তবু দেখবি তা তোকে এমন করে ভেজাবে না কখনো। এটাকে বাঁচিয়ে রাখ, সারাজীবনের অমৃতভাণ্ড হয়ে থাকবে।কোনো সম্পর্কে বাধিস না। বিশ্বাস কর আমার জীবনে বান্ধবী একাধিক এসেছে , স্ত্রীও ছিল, কিন্তু এভাবে ভেজা খরগোস হয়ে বুকে কেউ ধরা দেয় নি আর কাউকে চুমু খেতে গিয়ে আমারও ঠোট এতবার কাঁপে নি। বাড়ি ফিরে যা, আর আসিস না।তারপর আর যাই নি উনিও আর যোগাযোগ রাখেন নি।'

' এগুলো সব এসকেপিস্ট একভাবে বলে আর ইমেচিউর মেয়েগুলোর মাথা চিবিয়ে খায়।'---রাগত স্বরে বলে সোহম।

'তোর রাগ হবে স্বাভাবিক কিন্তু তোকে আমি বলতে চেয়েছিলাম তুই শুনতে চাস নি।'- শ্রেয়া বলল।

'তুই বাবরের আমলে কার সাথে কি করেছিস তার জন্য আমার কিছু ফাটছে না, আমার রাগ হয় এইসব এসকেপিস্টদের কথা ভাবলে'--- বলল সোহম

'না রে এসকেপিস্ট নন। আমারও তখন তাই মনে হত কিন্তু এখন বুঝি উনি কিছুই ভুল বলেন নি। ওঁকে আমি আপ্রাণ চাইতাম, নিজের আত্মায়, শরীরে, তাই শঠতা করিনি। উনিও আমাকে চাইতেন, কিন্তু তারমানেই যে একটা বিয়ে করতে হবে, সংসার হবে ছেলেমেয়ে হবে, তেমন নাও হতে পারে।তবে ঐ দিনগুলো, সময়গুলো সব সত্যি ভীষন ভাবে। এই ঘটনার ফেরে উনি সাসপেন্ড হন আর বদলীও হতে হয়।তারপর আর আমার জানা নেই।' বলল শ্রেয়া।

সোহম মাথা নিচু করে রইল। একটা ছোট্ট নিঃশ্বাস ফেলে বলল 'প্রায় দশ বছর আগের ঘটনা, তবুও এত গভীর ভাবে গেঁথে আছে তোর মনে, কিন্তু ভেবে দেখ সেই ভদ্রলোকের মুখটাই তোর আর মনে নেই। আসলে প্রথম যৌন উত্তেজনার স্মৃতি তার উত্তেজনা শিহরন নিয়ে বেঁচে আছে তোর মধ্যে কিন্তু লোকটা কোথাও নেই, তাই তো?  কি রে?' মরিয়া হয়ে জিজ্ঞাসা করল সোহম।

'সোহম তুই জীবনে বাবার স্নেহ পাসনি।একটা নিটোল সংসারে বড় হলে তার সম্পর্কগুলো সম্বন্ধে যা মূল্যায়ন হয় তোর সেটা পুরোপুরিভাবে আলাদা। আর ভদ্রলোককে মনে নেই বলছিস?  ওইরকম বিষন্ন নীল চোখ দুটো আমি জীবনে ভুলব না।'--আস্তে আস্তে বলল শ্রেয়া।

সোহম আস্তে আস্তে শ্রেয়ার মুখটা টেনে নিল নিজের বুকের কাছে 'বলল তাকা আমার চোখের দিকে।'

শ্রেয়া দেখল সোহমের একজোড়া নীল চোখে বহু চেনা বিষণ্ণতা। 

শ্রেয়ার হৃৎপিণ্ডে হটাৎ পিন পতনের স্তব্ধতা, আবছা শুনতে পেল সোহমের গলা 'গল্প টা আমায় না বললেই ভাল করতি।'

০৯ মার্চ, ২০১৭ ০৯:৪৩:৪১