একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭ : জসিম মল্লিকের তিনটি নতুন বই
অ+ অ-প্রিন্ট
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭তে জসিম মল্লিকের তিনটি নতুন বই প্রকাশিত হচ্ছে। বইগুলোর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরা হলো।

স্মৃতির নির্জনতা

টুকরো টুকরো কথামালা, যখন যেটা মনে দোলা দিয়েছে, সমসাময়িক, পুরনো স্মৃতি থেকে বা যে কোনো ভাবনার উদয় হলে লিখে ফেলা হতো ফেসবুকে। আত্মকথার মতোই। সেসব লেখা নিয়েই ২০১৬ গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয়েছিল ’এলেবেলে’ নামক গ্রন্থটি। প্রকাশের সাথে সাথে বইটি পাঠক মহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়। এলেবেলের লেখা ছিল সংক্ষিপ্ত আকারে, কয়েক লাইন কিন্তু স্মৃতির নির্জনতা ব্যতিক্রম। এখানে ভাবনাগুলো এসেছে বিস্তৃত আকারে। স্মৃতির নির্জনতা কোনো কলামগ্রন্থ বা আত্মজীবনী না হয়েও মানুষের মনে যে সমস্ত ভাবনার উদয় হয়, যা সবাই ভাবে, সাধারণ ঘটনা যা পাঠককে আলোড়িত করে, ভাবনার খোরাক জোগায় বা পাঠক তার নিজের কথাই মনে করে- এ তারই প্রকাশ। ফেসবুকে প্রকাশের সাথে সাথে আলোড়ন তুলেছে, সবাই বলছে এতো তাদেরই মনের কথা। স্মৃতির নির্জনতা নামটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে লেখকের অনেক না বলা কথা, তুলে আনা হয়েছে অতীতের অনেক স্বর্নালী মুহূর্ত। লেখকের প্রধান বৈশিষ্ট সহজ সরল বর্ননা যা পাঠককে নিয়ে যায় অনেক গভীরে। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন অনন্যা প্রকাশনী, প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ।

আমার মা..

আমার মা গ্রন্থটি লেখকের হৃদয় নিংরানো কিছু অনুভূতি। মায়ের সাথে লেখকের অসাধারণ কিছু স্মৃতিকথা। মা হারানোর বেদনা হৃদয়কে কিভাবে বিদীর্ণ করে তা ফুটে উঠেছে প্রতিটি লেখায়। কলেজের গন্ডি পেড়িয়েই লেখক চলে আসেন ঢাকায় পড়তে, তারপর চাকরি, সংসার, সবশেষে প্রবাস জীবন। মায়ের কাছে আর ফেরা হলোনা। সবার ছোট সন্তান হয়েও সবচেয়ে কম সময় মায়ের কাছে থেকেছেন। যতখানি মায়ের জন্য করার দরকার ছিল করতে পারেন নি, যতটুকু পাশে থাকার দরকার ছিল থাকতে পারেন নি। সেই অনুশোচনা লেখককে কুড়ে কুড়ে খায় সারাক্ষণ। লেখকের মা কখনও বিদেশ দেখেন নি। ঢাকা এসেও থাকতে চাননি। শৈশব কৈশোরে অনেক লড়াই সংগ্রাম ছিল। মাই ছিল একমাত্র আশ্রয়। শিশু বয়সে লেখক পিতৃহীন হওয়ার কারণে অনেক চাওয়াই অপূর্ণ থেকেছে। তা সত্বেও মা চেষ্টা করেছে সেই চাওয়া পূরন করতে। লেখাগুলি ইতিপূর্বে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। পাঠকরা হৃদস্পর্শী লেখাগুলো পড়ে কেঁদে বুক ভাসিয়েছেন। পাঠকদের  জন্য সবগুলো লেখা এক মলাটে গ্রন্থভুক্ত করা হলো। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে রিদম প্রকাশনী সংস্থ্রা, প্রচ্ছদ করেছেন ফরিয়া হোসেন।

পরীর মতো মেয়ে

যে রাতে নীলার বাসায় থাকার প্লান করল সে রাতেই আরিফের বুকে তীব্র ব্যাথা উঠল। আরিফকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে। আরিফ মাত্র এসেছে বিদেশ থেকে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য। নীলা জলভরা চোখে তাকিয়ে আছে। সে কি আর ফিরবে! আরিফ সবসময় নীলাকে বলত ওল্ডএজে আমাকে কেউ দেখার নাই। এই পৃথিবীতে আমার কেউ নাই। নীলা সবসময় বলত তোমাকে আমি দেখব, তোমার সব করে দেবো। তোমার কাছে আমি কিছু চাই না, আমার কোনো স্বার্থ নাই। আরিফ বলত তুমি কেনো করবা এতোকিছু আমার জন্য! নীলা বলত এমনি করব, ভালবাসি তাই করব। ভালবাসার এমনই শক্তি। অথচ আরিফের সাথে নীলার পরিচয় ফেসবুকে। দেখাও হয়েছে মাত্র একদিন। কিন্তু একটা গভীর সম্পর্কের ভীত রচিত হয়েছে। নীলা মেয়েটি দুঃখী টাইপ। পরীর মতো সুন্দর একটি মেয়ে কিন্তু সে যেমন একটা জীবনের স্বপ্ন দেখে সেরকম জীবন পায়নি। এইসব নানা ঘটনা নিয়েই প্রেমের উপন্যাস পরীর মতো মেয়ে। এই উপন্যাসে রয়েছে আরো অনেক চরিত্র, অনেক নাটকীয়তা। গ্রন্থটি প্রকাশ করেছেন কথা প্রকাশ, প্রচ্ছদ করেছেন ধ্রুব এষ।

৩০ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৫:১৪:১০