সৃষ্টি-সুখের সন্ধানে 'সোনালী সকাল'-এ জোয়ার সাহিত্য প্রেমে
বচ্চন গিরি • বারাসাত, ভারত
অ+ অ-প্রিন্ট
শিশির স্নাত সবুজ পাতায় তখন ঝিকমিক করছে 'সোনালী সকাল', শরৎ প্রাণের অমলীন শিউলি হাসি ঘিরে মেতে উঠেছে সুমন কুঞ্জ। ২ রা অক্টোবর -এক  প্রাক আগমনী পর্যায়। নাচে -গানে -কবিতায় -গল্পপাঠে  তখন মন হারিয়েছে সাহিত্য প্রেমী মনের সাথে টবে সাজানো প্রস্ফুটিত গোলাপও। মনের মননে প্রিজম আর প্রকাশে স্নিগ্ধ রামধনু....সুমন কুঞ্জ ঘিরে শুধুই ভোরের কূজন; এক লাস্যময়ী পরিবেশ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার সদর শহর বারাসাত থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার। ইঁট -কংক্রিট -অপটিক্যাল ফাইবার আর ডিজিটাল বিশ্বের বাইরে এক সবুজ পৃথিবী প্রাণের সন্ধানে স্পন্দন দিলেন অনেক বাউল মন। শান বাঁধানো পথিকৃৎ রাস্তা যেন মুহুর্তেই বদলে গেল চির সবুজের কোল ঘেঁষে বয়ে চলা তটিনী তীরে কাশের বনে; আর উপস্থিত হৃদয়গুলো হয়ে উঠলো এলোমেলো দখিনা হাওয়া....সোনালী সকালের আকাশে তখন  উদ্বোধনী সঙ্গীতের মিষ্টি টুকরো মেঘের আনাগোনা জুঁই মুখার্জী আর জবা বর্মনের কন্ঠসুধায়। প্রকাশিত হল "সোনালী সকাল" পত্রিকার প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা তথা উৎসব সংখ্যার। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন 'অন্যদেশ' পত্রিকার সম্পাদক ও কবি শৌনক দত্ত। শৌনক দত্তের হাতে নিজের মনন তুলেদেন ক্যানভাসের হাত ধরে পত্রিকার ক্ষুদে সদস্যা ঋষিকা দত্ত। অদ্রিজা সাহার কন্ঠে গেয়ে ওঠা গানে তখন মন কেমনের সুর। অমর বিশ্বাসের বক্তব্যে লুকোচুরির দেওয়াল ভেঙে মুক্ত প্রাঙ্গনে "সোনালী সকাল"-এর খুঁটিনাটি তথ্য সমৃদ্ধ ছেলেবেলার ডাংগুলি খেলা। জেগে উঠল সোনালী সাহার কন্ঠবেয়ে চিরকালীন জিজ্ঞাসা -"আমার স্বপ্ন কিনতে পারে /এমন আমীর কই?" স্মিত হাস্যে আবৃত্তি পরিবেশন করেন ছোট্ট অস্মিত রায়। স্বরচিত গল্প 'ছাত্রী' পাঠ করেন গল্পকার বাসব মন্ডল। স্বরচিত কবিতা 'সাংবাদিক' পাঠকরেন জহর দাস, চন্দ্রানী বসু পাঠকরেন 'আগুন' কবিতা, অঙ্গনা নাথের 'বহিরাগত', সৌম্যদীপ রায় পাঠ করেন 'প্রিজম', অনন্যা রায় পাঠ করেন 'অপেক্ষা', পবিত্র পাত্র পাঠ করেন 'শিউলির ত্বক', শৌনক দত্ত পাঠ করেন 'ডুব সাঁতার ১৪' কবিতা। প্রিয়তম কে লেখা প্রেমের 'খোলাচিঠি' মুক্তমঞ্চে পাঠ করেন ঝুমা চৌধুরী। পত্রিকার অন্যতম প্রবীনা সদস্য কল্পনা বিশ্বাসের বক্তব্যে রসিক সমুদ্রের উতরোল ঢেউ; শ্রোতৃ -বালুকায় হাসির সিঞ্চন। বালুকাতট কল্পনা বিশ্বাস ও অমর বিশ্বাসের নৃত্য -অভ্রে হয়ে উঠেছিল রঙিন ; যে রঙের প্রতিসারন ঘটেছিল ক্ষুদে বিজেত্রী মুখার্জীর গান ও নৃত্যে। সৈকত দে তাঁর বক্তব্যে চিত্রিত করেন "সোনালী সকাল"-এর আলোকবিন্দুর রহস্য। সমস্ত অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অঙ্গনা নাথ ও সুলতা বিশ্বাস। আগত সকল সাহিত্য প্রেমীদের শারদ -শুভেচ্ছা জানিয়ে গোধূলি লগ্নে আগামির স্বপ্নে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন পত্রিকার সম্পাদক উদ্লা বাউল। বাউলের শেষ শুভেচ্ছা বার্তায় তখন মন বিষন্ন....."সবুজ ছেড়ে তাগিদ ঘরে ফেরার, ইঁট কংক্রিটের রিংটোন! এক বর্নময় সাহিত্যপাতা...এক রামধনু আঁকা দিন...এক 'সোনালী সকাল' , যাত্রা বিরাম -বিহীন।

 

০৭ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:৪২:৪৯