অনন্য স্বাদে অনন্যা কাঁকুরে মাটির বাঁকুড়া
বচ্চন গিরি
অ+ অ-প্রিন্ট
বাঁকুড়া জেলার ছোট্টো একটি গ্রাম গঙ্গাজলঘাটি। এই গঙ্গাজলঘাটিতেই সৃষ্টির আদিকাল থেকেই দন্ডায়মান তপোবন পাহাড়। তপোবন নামেই কেমন যেন একটা শান্তির বাতাবরন। লাল কাঁকুড়ে মাটির বুকে বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ছন্দে তালে অবিরাম পথ চলা। এই পাহাড়ের উপরেই আছে এক আশ্রম। লাল কাঁকুরে মাটির পাহাড়, গাছপালা, পাখির কুজন সব মিলিয়ে প্রকৃতির স্নিগ্ধতায় অপরূপ সাজে সেজে থাকে গঙ্গাজলঘাটির পল্লীসমাজ। যে জায়গার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য মানুষের মননে প্রতিনিয়ত দাগ কেটে যায় সেখানে সাহিত্য চর্চা হবে না, তা কি করে সম্ভব? অনুমান করা হয় সুদূর ১২৫০ সাল থেকে এখানে চলছে সাহিত্য চর্চা। আর সেই ধারা এখনো স্বগর্বে রয়ে গেছে বর্তমান প্রজন্মের সাহিত্যপ্রেমীদের হাত ধরে। সাহিত্যকে আক্ষরিক রূপ দিতে এবং সাহিত্যিকদের সৃষ্টিকে আপামর সাহিত্যানুরাগীদের মধ্যে তুলে ধরতে বাঁকুড়াবাসী এক সাহিত্যপ্রেমী সন্দীপ রায়ের নিরলস প্রয়াসের ফল 'অনন্যা' সাহিত্য পত্রিকা। গত ২৪  জুলাই তপোবন পাহাড়ের সুসজ্জিত আশ্রমে অনুষ্ঠিত হলো পত্রিকাটির প্রথম প্রকাশ অনুষ্ঠান। আশ্রম প্রাঙ্গনেই আছে এক বিরাট বটগাছ। সেই গাছের নীচে শতরঞ্চি পেতে করা হয়েছিল আমন্ত্রিত অতিথিদের বসবার আয়োজন। সমসাময়িক অন্যান্য সব পত্রিকার প্রকাশ অনুষ্ঠানগুলোর গতানুগতিকতা থেকে বেরিয়ে একটু ভিন্ন স্বাদের এই আয়োজন এক অনন্য মাত্রা এনে দিয়েছে অনন্যা পত্রিকাকে। অনুষ্ঠান শুরু হয় আশ্রমের মহারাজদের বরন করে। তারপর আগত সন্মানীয় অতিথিদের একে একে বরণ করা হয়। মঞ্চটি বাঁকুড়া জেলার বিশিষ্ট দুই কবি, যাদের বাঁকুড়ার আঞ্চলিক সাহিত্যের কান্ডারীও বলা যায় সেই ঈশ্বর ত্রিপাঠী ও মোহন সিংহ এনাদের নামেই সমর্পন করা হয়। এরপর শুরু হয় উদ্বোধনি সঙ্গীতানুষ্ঠান শাস্ত্রীয় সঙ্গীত  শিল্পী কাজল ঘোষের কন্ঠে। সঙ্গীত শেষে স্বাগতভাষন রাখেন পত্রিকার সম্পাদক সন্দীপ রায়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পত্রিকার সহসম্পাদক তাপস মাল। চারজন বিশিষ্ট অতিথি বড়জোড়া কেন্দ্রের বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী, বিশিষ্ট কবি অনিন্দ্য রায়, কবি উৎপল মুখোপাধ্যায়, কবি প্রনব চট্টোপাধ্যায় এবং কবি ও পত্রিকার সম্পাদক সন্দীপ রায় এর হাত ধরে অনন্যা পত্রিকার প্রথম বর্ষ, ১ম সংখ্যার শুভ প্রকাশ হয়। পত্রিকাটি মোট ১১০ পৃষ্ঠার। প্রায় সমস্ত জেলারই প্রতিনিধিত্বমূলক লেখা রয়েছে। এরপর শুরু হয় বিভিন্ন পর্যায়ের আলোচনা। ঈশ্বর ত্রিপাঠী ও তাঁর সৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা করেন কবি বিশ্বজিৎ লায়েক। মোহন সিংহ সম্পর্কে আলোকপাত করেন কবি উৎপল মুখোপাধ্যায়। কবি অনিন্দ্য রায়ের আলোচনার বিষয়বস্তু ১২৫০ সাল থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত বাঁকুড়ার কবি ও কবিতা এবং বাংলা সাহিত্যে তার অবদান অনুষ্ঠানটিকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়| অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের জন্য মধ্যাহ্ন ভোজনেরও আয়োজন ছিল। ২টো তে মধ্যাহ্ন ভোজনের জন্য অনুষ্ঠানে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়| পরে আবার অনুষ্ঠান শুরু হয় অন্যান্য সঙ্গিত শিল্পী ও কবিদের গান ও কবিতা দিয়ে। পাঁচজন সাহিত্যিককে বাঁকুড়ার গামছা দিয়ে সন্মানিত করে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

 

১৪ আগস্ট, ২০১৬ ১৮:১১:৪০