ড্রীমল্যাণ্ড
মৌসুমী প্রামাণিক
অ+ অ-প্রিন্ট
বেলঘরিয়া এক্সপ্রেস-ওয়ের ওপর গাড়িটা হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল। রাত প্রায় দেড়টা। ধুলাগড়ে নতুন ফ্যাকট্রির সুপারভিশান করে ফিরছি। কাজের মধ্যে ডুবে থাকলে আমি ভাল থাকি। এছাড়া সিগারেট, মদ বা মেয়ে কোন নেশা নেই আমার। মাঝামাঝি জয়গায় এসে কেন যে এই বিপত্তি। ড্রাইভার এসে জানাল যে সামনে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে; ঘন্টা দুয়েক আটকে থাকতে হবে। “দুৎ তেরী...!’ গাড়ীর ভেতর সাইড লাইট জ্বেলে ফাইল গুলো কোলের ওপর নিয়ে বসলাম। ‘ইচ্ছে করছে না!’ টায়ার্ড লাগছে বড্ডো। গাড়ী থেকে নেমে আড়মোড়া ভাঙলাম। চোখ চলে গেল বাঁ পাশের তিনতলা বাড়িটার দিকে। এদিয়ে গেলাম। রেলিং এ ভর দিয়ে দাঁড়ালাম। ‘ঐতো জ্বলজ্বল করছে নামটা-ড্রীমল্যাণ্ড।’ ভিতরটা তো অন্ধকার। কেন? কেউ বই নিয়ে বসেনি? ফেসবুক আর হোয়াটস্ অ্যাপের যুগে কে আর নাইট-স্টাডি করবে? কিন্তু আমাদের সময় এরকম ছিল না।

ড্রীমল্যাণ্ড। আমাদের মেস। আমরা চল্লিশ জন ঐ মেসে থেকে ভবিষ্যত গড়ার স্বপ্ন দেখতাম। আজ থেকে কুড়ি বছর আগে। আমি থাকতাম দোতলার ঐ সামনের ঘরটায়। অনীশ ছিল আমার রুম পার্টনার। আমি পলিটেকনিক কলেজে আর ও যাদবপুরে। আমরা সারা রাত জেগে লেখাপড়া করতাম। অনীশের মাসতুতো ভাই ত্রিদিব ছিল নীচের কোন একটা ঘরে। 

সেদিনও এইরকম রাত ছিল, আশপাশটা অনেক বেশী অন্ধকার ছিল। হঠাৎ কিছু লোক

হুড়মুড় করে ঢুকে এল হস্টেলে। ত্রিদিবের কাছে জানতে পারলাম এরা অনীশের হবু শ্বশুর বাড়ির লোক। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম। মেসের মালিক তুলসী রঞ্জন সাহা উপস্থিত বুদ্ধি খাটিয়ে নিজের অফিস ঘরে ওদের বসালেন। চা, জল খাইয়ে বললেন,

“বলুন দিকি ব্যাপারখানা কি? হবু শ্বশুরবাড়ী...অথচ লাঠিসোটা নিয়ে জামাই আদর!”

জানা গেল, অনীশ ঐ বাড়ির একটি মেয়েকে নাকি বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি ছুটে গেলাম দোতলার ঘরে। “অনীশ, ব্যাপারখানা কি?”

“আরে কিছুই না। হ্যাঁ আমি ওদের বোন সোনালীকে ভালবাসতাম...”

“ভালবাসতাম মানে?”

“মানে এখন আর নেই...ওর সঙ্গে আর কিছু নেই...”

“সেকথা ওদের বলো নি কেন? পালিয়ে বেড়াচ্ছো কেন?”

“দেখ, সে অনেক কথা...এখন তুমি কোনভাবে আমাকে বাঁচাও...”

আমি গ্রামের গরীব পরিবারের ছেলে, ফারাক্কায় মামারবাড়িতে বড় হয়েছি। কলকাতায় পড়াশোনার খরচ চালাবার ক্ষমতা আমার ছিল না। অনীশ আমাকে সময় সময়ে প্রচুর সাহায্য করেছে। ও কোচবিহার টাউনের ছেলে, বাবার সরকারী চাকরী। টাকা পয়সার অভাব নেই। তাই ওর কথা ফেলতে পারলাম না। ছাদের সিঁড়ি দিয়ে ওকে পিছনের গলিতে তুলসীদার অর্ধসমাপ্ত বাড়িতে লুকিয়ে রেখে এলাম।

অনাহুত অতিথিরা সারা মেস খুঁজে ওকে না পেয়ে চলে গেল। আমি পরেরদিন মুখ গোমড়া করে বসে ছিলাম। অনীশ অনুনয় বিনয় করছিল। “তুমি রাগ কোরো না..আমি তোমায় বলতাম...আসলে নিজেই কি জানতাম?”

“সেই কারণে রাগ করছি না...তুমি মেয়েটাকে ঠকালে কেন?”

“ভুল হয়ে গেছে, এবারের মতো মাফ করে দাও। আর এমন হবে না। ”

অনীশ কথা রাখে নি। আবার এমনই এক ঘটনা ঘটাল। সেখানে তো মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে নাকি। এটা কি অনীশের খামখেয়ালীপনা না স্বভাব জানি না। এই বয়সে ছেলেদের মেয়েদের প্রতি আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক; কিন্তু একজনকে ছাড়তে না ছাড়তেই আর একজন? আমিও তো ভালবেসেছিলাম। কিন্তু ও যেন আর পাঁচটা চেলের মত ছিল না। ছিটগ্রস্ত? কে জানে?

এটুকু বুঝেছিলাম যে ও অ্যাডভেঞ্চারাস। একবার তো রুড়কী যাবার নাম করে টিকিট না কেটেই আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ল। ট্রেনে উঠে জানতে পারলাম যে ও নাকি ভুল ট্রেনে চড়েছে। বাধ্য হয়ে খড়গপুরে নেমে গেলাম। 

“এ কেমন পাগলামি?”

“আরে? তাতে কি? আমি জেনে নিয়েছি তিনঘন্টা পরেই ট্রেন আছে...”

আমি ওর ওপর আর ভরসা করতে পারলাম না। সেখান থেকে কলকাতায় ফিরলাম। অনীশ কিন্তু রুড়কী গেল, পরীক্ষা দিল। পাশও করল। আবার ছেড়েও চলে এল, কি নাকি ওকে র্যা গিং করা হয়েছে। আর সেটাও নাকি নারী ঘটিত। কে যে কাকে র্যা গিং করেছিল?

আরও একবার মায়ের ক্যানসার হয়েছে বাঁচবে না, এই বলে সপ্তাহ দুয়েকের জন্য উধাও হয়ে গেল। আমি তো উৎকন্ঠায় রয়েছি। ক্যানসার হাসপাতালে গেলাম, খোঁজ নিলাম। ঐ নামে কেউ ভর্ত্তি নেই। অনীশ ফিরে আসার পর আমি তো বেশ রেগে গেলাম ওর ওপর। ওমা উল্টে ওই আমার ওপর চোটপাট করতে থাকে যে আমি কেন হাসপাতালে গেছি? পরে জেনেছিলাম ও নাকি কোন সন্যাসীনীর সঙ্গে হরিদ্বার গিয়েছিল। 

আর একবার তো সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গেল ও। সন্ধ্যেবেলা আমি মাথা ঠাণ্ডা রাখার জন্যে হাঁটতে যেতাম। ফিরে এসে দেখি ঘর অন্ধকার করে  যেন কি লিখছে। আমাকে দেখতে পেয়ে লুকিয়ে ফেলল।

“অনীশ, কি করছিলে?”

“কিছু না...আর ওটা কি টেবিলের ওপর লাল রঙের...”

“আরে কিছু নয়...”

বুঝলাম যে ও কিছু বলবে না, তাই আর জোর করলাম না। ক’দিন পরে কলেজ যাব বলে বাসস্ট্যাণ্ডে দাঁড়িয়ে আছি, এমন সময় একটি মেয়ে রাস্তা পেরিয়ে এসে আমার হাত চেপে ধরল। আমি তো অবাক। জ্ঞান হবার পর থেকে মেয়েরা আমায় তো প্রত্যাখ্যানই করেছে, সেখানে এই মেয়েটি আমার হাত চেপে ধরল। আমি উত্তেজিত হয়ে প্রশ্ন করলাম,

“তুমি কি আমাকে চেনো?”

“হ্যাঁ, তুমি অনীশের রুমমেট...”

আমার ভ্রু কুঁচকে গেল। অনীশ কি আবার কিছু ঘটিয়েছে? আর কিছু প্রশ্ন করার আগে ও ব্যাগ থেকে এক তাড়া কাগজ বের করে বলল,

“এই দেখ তোমার বন্ধুর কারবার...”

আমি একটা কাগজ পড়ে বুঝলাম এটা লাভ লেটার।

“নিজের রক্ত দিয়ে এভাবে রোজ আমাকে লিখছে...”

মনে মনে ভাবলাম, ‘রক্ত দিয়ে? কোথায়? ওর শরীরে তো কোন কাটাচিহ্ন বা ক্ষত নেই।’

“প্রথমে আমি পাত্তা দিইনি, কিন্তু যে আমাকে এত ভালবাসে যে রক্ত দিয়ে লাভ লেটার লিখছে...তাকে ফেরাই কি করে বলো?”

“ভাল তো...”  মেয়েটি রুমাল দিয়ে নিজের চোখমুখ মুছতে থাকে।

“তুমি কি চাইছো বলোতো?”

“তোমার বন্ধুকে বারণ করো না প্লিজ এসব করতে...একেই অত রোগা...এত রক্ত বের করলে তো মরেই যাবে...”

“ঠিক আছে, দেখছি...” মুখে তো বললাম কিন্তু মনটা খচখচ করতেই থাকল। অনীশ যে কিনা একটার পর একটা মেয়ের সঙ্গে প্রেমলীলা করে যাচ্ছে, সে রক্ত দিয়ে চিঠি লিখবে? ‘উঁহু! ব্যাপারটা কালটিভেট করতেই হচ্ছে।’

আজকাল বেশ কিছুদিন ধরে দেখছি অনীশ রাতের খাবার খেয়ে কোথায় বেরিয়ে যাচ্ছে। জিজ্ঞেস করলে বলে যে হাঁটতে যাচ্ছে। আমি সেদিন ওর পিছু নিলাম। ‘ও হরি? এ কি?’ দেখলাম যে রাস্তার মোড়ে যে ডায়গনিস্টিক সেন্টারটা আছে সেখান থেকে বাতিল রক্ত কিনে বাবু সেটাকে নিজের রক্ত বলে চালাচ্ছেন।

“কেন? অনীশ? এরকম প্রতারণা?”

“ছাড় না ভাই। সে দেবতা যাতে সন্তুষ্ট...”

“কিন্তু তুমি কি জান যে ও তোমার জন্যে কত ভাবে? আমার কাছে এসেছিল...”

“জানি, পিয়া আমায় সেটা বলেছে। কিন্তু তুমি ওকে কিছু বলো না...নইলে ফসকে যাবে...”

কথায় কথায় জানতে পারি যে মেয়েটি আর্জিকরে নার্সিং পড়ে। হস্টেলের পিছন দিকের বাড়িতে থাকে। আমি তো আদর্শবাদী মানুষ চিরকাল। অন্যায় করব না, অন্যায় সইব না। আমি সটান পিয়ার কাছে গিয়ে ব্যাপারটা খুলে বললাম। তারপর যা হবার হল। ছাড়াছাড়ি।

“পিয়া...তুমি আমায় ছেড়ে দেবে? জান না আমি তোমায় কতটা ভালবাসি? নিজের রক্ত দিয়ে তোমায়...”

“নিজের না ল্যাবরেটারির...?” পিয়া কষিয়ে এক চড় মারল অনীশকে। আমরা হস্টেলের জানালা দিয়ে দেখে হেসে কুপোকাত। তবুও ওর শিক্ষা হয় নি। 

কৃষ্ণনগরে ওর মামারবাড়ির পাড়ার মেয়েকে ফাঁসিয়েছে এবার। ওদের বাড়ির লোকজন এসে হুমকি দিয়ে গেল যে অনীশকে ওদের হাতে তুলে দিতে হবে তা নাহলে ওরা পুলিশে এফ. আই. আর করবে।

তুলসীদাও তো খেপচুরিয়াস হয়ে গেলেন। “একি জাঁহাবাজ ছেলে মাইরি। প্রেম করলি করলি, মা বানিয়ে ছাড়লি...”

অন্য বন্ধুরা বলল, “ছৌট্টু তোমার কিন্তু ব্যাপারটা সম্পর্কে আগেই জানানো উচিত ছিল।”

“আমি কি জানতাম? ও বলত মামার বাড়ি যাচ্ছি...”

“কিন্তু এবার আমাকে একটা স্টেপ নিতেই হবে যা হোক...একবার বদনাম হয়ে গেলে আমি আর ব্যবসা চালাতে পারব না...” তুলসীদা উৎকন্ঠার সঙ্গে বললেন।

“আমাকে কটা দিন সময় দিন। আমি একবার ওর বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলে দেখি।”

পরেরদিনই আমি কোচবিহার চলে গেলাম। আগেও গেছি অনীশের সঙ্গে। ওঁরা বেশ ভাল মানুষ। খাতির যত্ন করেন। এবারও তার অন্যথা হল না। কিন্তু আমার কাছে সব শুনে ওর বাবার মুখ পাংশু হয়ে গেল।

“দেখ ও যা করেছে, তার দায়িত্ব আমি নেব না। আমার বিবাহযোগ্যা কন্যা আছে, আমাকে সমাজে বাস করতে হয়।”

রাতে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক শুনতে শুনতে ঘুম এসে গিয়েছিল প্রায়। হঠাৎ ছুন ছুন শব্দে চমকে উঠলাম। সামনে তাকিয়ে দেখি অনীশের বোন বিকট সেজে গুজে আমার সামনে দাঁড়িয়ে।

“কি...কিছু বলবে?”

“টালিগঞ্জে তোমার চেনা পরিচয় আছে?”

“না। কেন?”

“আমি নায়িকা হতে চাই। প্রসেনজিতের...দেখ আমায় মানাবে না?”

এই বলে সে সারাঘরময় নেচে কুদে বেড়াতে থাকে। ‘কি কেলো? এরা বংশানুক্রমিক পাগল নাকি?’ পরেরদিনই আমি ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাম। কিন্তু গোয়েন্দা গল্প পড়ে পড়ে আমার মাথাটা গিয়েছে; তাই প্রতিবেশীদের কাছে খোঁজ খবর করা শুরু করলাম ওদের সম্বন্ধে। জানতে পারলাম যে ওর মা ও মাসী দুজনেই নাকি অর্ধ পাগল। প্রেম করে বিয়ে করেছে; ওদের ভাষায় নাকি ম্যানেজ করে বিয়ে করেছে। সে যাক গে, আমি আবার গুরুজনদের দোষ-ত্রুটি নিয়ে আলোচনা পছন্দ করি না।

ফিরে এলাম। মিটিং ডাকলাম। মিটিং এ স্থির হল যে মেস থেকে অনীশকে চলে যেতে বলা হবে। যদি ও নিজের থেকে না যায় তো বল প্রয়োগ করা হবে। শুনেই অনীশ গেল ক্ষেপে।

“ছোট্টু আমি কিন্তু তোকে ছাড়ব না...দেখে নেব...”

অনীশ চলে গেল। এদিকে আর এক বিপত্তি। কাকতালীয় কিনা জানি না ওর মাসতুতো ভাই ত্রিদিব তার পর থেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ল। ওর মৃগী রোগ আগের থেকেই ছিল। কিন্তু এতটা মারাত্মক আকার ধারণ করে নি। সে রাতেই ওকে হাসপাতালে ভর্তি করা হল। খবর দেওয়া হল ওর বাবা-মাকে। ডাক্তার বললেন যে ওর বাঁচা মুশ্কিল। কারণ ও নাকি বহুদিন থেকেই নিজের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছিল। যে কোন নেশার জিনিস বিড়ি, সিগারেট, গাঁজা নাকি ওর পক্ষে বিষ। আমরা তো জানতাম না। ও জানত। কিন্তু প্রায়ই দেখতাম ও বিড়ি খেত ছাদের সিড়িতে বসে। একটা বিকট গন্ধ বেরোতো। ওটাই হয়তো গাঁজার গন্ধ। এতটাই রেস্টলেস ছিল ও। আর শুধু ও কেন অনীশও তো একই রকম রেস্টলেস। যেটা চাই তো চাইই; না পেলে যেন বিশ্ব সংসার উজাড় হয়ে যাবে। রক্তের দোষ হয়তো। তারপর ওদের খোঁজ আর নেওয়া হয় নি। ত্রিদিবকে ওরা কোচবিহার নিয়ে চলে গিয়েছিলেন। 

আর অনীশ? পাঁচ বছর বাদে খবরের কাগজে প্রথম পাতায় নিউজ : শ্লীলতা হানি করতে গিয়ে যাদবপুরের ছাত্র আক্রান্ত। ওকে নাকি কে বা কারা ক্ষুর দিয়ে মেরেছে, যখন ও সেলুনে চুল কাটতে গিয়েছিল। তারপর ও বেঁচে আছে না মরে গেছে জানা নেই। জানতেও চাই নি কখনো। 

আমি মনে মনে ওকে ভালবেসেছিলাম খুব; এতটাই যে আমাদর রুমে আর কাউকে থাকতে দিই নি। এতটাই যে তিনবেলা দুজনে একই থালাতে খাবার খেতাম। প্রেমে ধাক্কা খাওয়া এক সদ্য সাবালককে মানসিক ভাবে চাঙ্গা করার দায়িত্ব সে একাই নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিল। আর্থিক সাহায্যের কথা তো আগেই বলেছি। তাই আমি ওর কাছে কৃতজ্ঞ। কিন্তু তাই বলে ওর ঐ কুকর্ম আমি সাপোর্ট করলে আমার বিবেক আমাকে দংশন করে মারত। তাই ওকে মেস থেকে বিতাড়িত করতেই হল। জানি না তার জন্যে আমি নিজেকে দোষী মনে করি কিনা। তবুও আজও সে আমার মনে ছবির মত জায়গা করে আছে।

রাস্তা খুলতে খুলতে ভোর হয়ে এসেছিল। বাড়ি ফিরে স্নান সেরে গড়িয়ে নিলাম একটু। ওবেলা এয়ারপোর্টে বসকে রিসিভ করতে যাবার ছিল। ফ্লাইট লেট। আমি গাড়ি নিয়ে চলে গেলাম সোজা বেলঘরিয়া।  আমাদের ড্রীমল্যাণ্ড অনেক বদলে গেছে। অনেক আধুনিক হয়েছে। ছেলেদের হাতে হাতে ট্যাব। তবুও ওদের মধ্যে কি কোন অনীশ নেই? কিংবা ছোট্টু কিংবা ত্রিদিব? তুলসীদা নিজের গ্রামের বাড়িতে থাকেন। এখানে ম্যানেজার রেখেছেন। এরকমই হয়। সময় যেমন থমকে থাকে না, তেমনিই কোন জায়গাও খালি পড়ে থাকে না। কেউ না কেউ এসে ভরিয়ে দেয়। শুধু আমার হৃদয়ে প্রিয় বন্ধু অনীশের জায়গাটা আজও খালি পড়ে আছে।

 

০৭ আগস্ট, ২০১৬ ১০:৫৮:৩১