রবি বন্যায় বানভাসি পুতুল শহর
বচ্চন গিরি • কৃষ্ণনগর (ভারত)
অ+ অ-প্রিন্ট
শ্রাবন মানেই মেঘলা আকাশ, ভরা বর্ষা। কখনো টুপটাপ কখনো রিমঝিম। আর আপামর সাহিত্যানুরাগীদের মনে রবি রবি গন্ধ। রবি ঠাকুর এবং তার সৃষ্টিকে যারা বিনোদনের মাধ্যম না ভেবে জীবন ধারনে প্রাত্যহিকতার অঙ্গ মনে করেন, তাদের প্রাণবায়ু দিতেই নদীয়ার কৃষ্ণনগরের 'ঐতিহ্য' সংস্থার  প্রয়াস 'রবির আলোকে'। গত ১৭ জুলাই রবিবার এমনই এক ভরা বর্ষায় সন্ধ্যেটা একটু ভিন্ন স্বাদের দাগ রেখে গেল নদীয়ার কৃষ্ণনগরের মাটিতে। ছুটতে থাকা সময়ের পথ বেয়ে ঘড়ির কাঁটায় তখন ঠিক বিকেল ৫টা। পৌর সভাগৃহের দ্বিজেন্দ্র মঞ্চে সাহিত্যানুরাগীদের সমাবেশ। ভবঘুরে মনগুলো খুঁজেই চলেছে কবিগুরুর আশ্রয়। সেই অন্বেশনেই তৃপ্ততা আনতে নীরবতা ভেদ করে ''প্রথম আদি তব শক্তি’' গেয়ে ওঠেন এক যুবতী। নাম নিবেদিতা বিশ্বাস। তবে তবলা ছাড়া সম্পূর্ণ হয়েও কোথায় যেন একটা অসম্পূর্নতার ছোয়া থেকেই যায়। সেই অসম্পূর্নতায় সম্পূর্নতা আনতে তবলায় সঙ্গত দেন সতীশ চৌনি। অনুষ্ঠানের আহ্বায়িকা নিবেদিতা বিশ্বাস ছেলেবেলা থেকেই রবীন্দ্রানুরাগী। বাবা শম্ভুনাথ বিশ্বাসের হাত ধরেই রবি ঠাকুরের সাথে প্রথম পরিচয়। তারপর কেটেছে বহু বছর কাবুলিওয়ালা, পোস্টমাস্টার, ছিন্নপত্র , গীতবিতানের সাথে। ভালোলাগা সেই তখন থেকেই, ভালোবাসাও বলা যায়। নিবেদিতার মনের গহীনে প্রতি মুহুর্তেই রবি ঠাকুরের একটা নীরব অস্তিত্ব কড়া নেড়ে যায়। ২০০৫সালে চাকুরিতে যোগদান করার পর থেকেই বিশ্বকবিকে নিয়ে অনুষ্ঠান করার ইচ্ছেটা প্রবলভাবে চেপে বসে নিবেদিতার মনে। স্বপ্নগুলোকে নিয়ে বাস্তবতার পথে হাটতে গিয়ে সেই তখন থেকেই ছোটো বড়ো বিভিন্ন অনুষ্ঠান করে এসেছেন। তবে এবারের অনুষ্ঠানের আয়োজনটা সকলকে চমকে দেবার মতো। এদিনের প্রায় ৪ঘন্টাব্যাপি অনুষ্ঠানে সকলেই যেন রবীন্দ্র বন্যায় বানভাসি হয়েছিলেন। রবীন্দ্র সঙ্গীত রবীন্দ্র নৃত্য, আবৃত্তি থেকে শুরু করে বিশ্বকবি সম্পর্কিত বিভিন্ন আলোচনায় ভরে উঠেছিল দ্বিজেন্দ্র মঞ্চ। রবীন্দ্র সঙ্গীত পরিবেশন করেন সপ্তপর্নী মুখার্জ্জী, প্রান্তিকা কুন্ডু, সঞ্চিতা পাল চৌধুরি, মৌবালা সান্যাল, আল্পনা রায়চৌধুরি ও পাপিয়া দে। তাদের তবলায় সহযোগিতা করেন সতীশ চৌনি ও গোপাল দাস। কাকিনাড়া থেকে আগত দূরদর্শনখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী শুভ্রাংশু মুখোপাধ্যায়ের গান আগত দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়। অনুষ্ঠানটিকে এক অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিলেন রজত বিশ্বাস ও শ্রাবণী চক্রবর্তী মৈত্র, তাদের যৌথ আবৃত্তি ও গানের মধ্য দিয়ে। কবিগুরুর জীবন প্রসঙ্গে আলোকপাত করেন কলকাতা থেকে আগত স্নেহাশিষ চক্রবর্তী ও মিঠু সরকার সেনগুপ্ত। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনন্দ পুরষ্কার প্রাপ্ত কবি ও সাংবাদিক অভিমন্যূ মাহাত এবং কবি সুদীপ চক্রবর্তী। এই প্রয়াসে খুদেরাও কিন্তু কোনো অংশে পিছিয়ে নেই। ছোট্ট দীপ্সা পাল ও এক্তা দাসের হৃদয়স্পর্শী রবীন্দ্রনৃত্য তারই বার্তাবাহক। অনুষ্ঠানে দেবারতি দাসের গলায় শাওন গগন ঘোর ঘনঘটা এবং তার তালে তালে নৃত্য ছিল চোখ ধাঁধানো। অনুষ্ঠানে সোমাশ্রী চৌধুরি শীলের 'ছন্দভূমি' ও অভিজিত গুপ্তের 'ছন্দম' নৃত্যগোষ্ঠীর বিশেষ নৃত্যানুষ্ঠান আগত সকল দর্শকের মনে দাগ কেটে যায়। রাত্রী প্রায় সাড়ে ৯টা নাগাদ অনুষ্ঠান শেষ হয় অনুষ্ঠানের সভাপতি শম্ভুনাথ বিশ্বাসের বক্তব্য দিয়ে।

 

২৮ জুলাই, ২০১৬ ০০:২১:৪০