স্নান
জয়া গুহ (তিস্তা)
অ+ অ-প্রিন্ট
বাজ পড়ছে সেই ভোর থেকেই,এসবেসটসের জোড় গুলো থেকে  ফোঁটা ফোঁটা জল পড়ে ঘর বারান্দা জল থৈ থৈ।

          একার জন্য আর ভালো লাগেনা রাঁধতে।

"যাইহোক ডালে-চালে চড়িয়ে দেবো"

ভাবতে ভাবতেই স্নান করতে গেলো সুমি।

মধ্য তিরিশের সুমি, পাড়ায় গানের দিদিমণি বলেই পরিচিত, বাপ-ঠাকুরদার আমলের এই দু-কাঠা জমির উপর দু-কামরার ঘর ই তার সম্বল।

গেটের বাইরে দু-একটা পরিচিত মুখ।আর একটা কালো রঙের অডি দাঁড়িয়ে।

"দিদিমণি ইনি আপনাকে খুঁজছিলেন"

রাস্তার মোড়ের মুদীখানার ধনুর মুখ।

  আলগা খোঁপা  আর পরনে সস্তা দামের সুতীর শাড়ীতে সাদামাটা সুমি। মনে হল একটা বিশাল দীঘিতে তলিয়ে যাচ্ছে সে।

"প্লিজ সোনা একটু অপেক্ষা কোরো,আর তো মাত্র পাঁচ বছর।আমি স্টাডি কমপ্লিট করেই একটা চাকরী নেবো।ব্যস এক্কেবারে সানাই বাজিয়ে বরণ নয়ত হরণ করে নিয়ে যাবো।"

বলেই দুহাতের মধ্যে সুমির পাতলা শরীরটা জড়িয়ে ধরল শুভ।

           পাঁচ বছর পেরিয়ে আজ আরো পাঁচ হল।

পরে কানে এসেছিল স্টেটস এর ই কোনো সহপাঠীকে বিয়ে করেছে শুভ।

সানাই আর বাজে নি সুমিদের বাড়িতে।প্রথমে বাবা দু-বছর পর মা-ও চারপায়ায় উঠে টাটা করে চলে গেলেন।

         "আপনি কি কাউকে খুঁজছেন?"

"সুমি,আমি শুভ!  চিনতে পারছো না?"

"সরি, আপনার কিছু ভুল হচ্ছে বোধহয়, নাম টা আমার ঠিক-ই, কিন্তু আপনি যাকে খুঁজছেন, সে আমি নই"।

       ফ্যাকাসে হয়ে ওঠে শুভর মুখ।

বারান্দা থেকে সোজা স্নান ঘরের দিকে চলে যায় সুমি। 

     দশ বছরের সবটুকু গ্লানি ধুয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে।

২৫ জুন, ২০১৬ ০৩:২০:০৯