বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৫তম জন্মবার্ষিকী আজ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
আজ ২৫ বৈশাখ। ১৫৫ বছর আগে ১২৬৮ বঙ্গাব্দের এই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলার ক্ষণজন্মা এক মহাপুরুষ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। যিনি তার লেখনী, কর্ম, জীবনদর্শন দিয়ে শুধু বাংলাকেই নয়, আলোকিত করেছিলেন সমগ্র বিশ্বকে। জোড়া সাঁকোর ঠাকুর পরিবারে জন্মগ্রহণ করা এ মানুষটি জীবনজুড়ে তার সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলা ভাষা, গান ও সাহিত্যকে নিয়ে গেছেন বৈশ্বিক উচ্চতায়। ‘বিশ্বকবি’ উপাধির মধ্য দিয়ে তার কবিসত্তা অধিক পরিচিত হলেও রচনার সম্ভারে তিনি ব্যাপক আর বিষয়ের বিস্তারে সর্বতোমুখী। বাংলা সাহিত্যের প্রতিটি অঙ্গনে তার প্রভাব স্পষ্ট। শিক্ষা, ধর্ম, রাজনীতি, দর্শন, মানবতা প্রভৃতি বিষয়ে তার চিন্তা গভীরে বিস্তৃত। বাংলা ও বাঙালি বিষয়ে যেকোনো আলোচনায়ই তার প্রসঙ্গ প্রায় অবধারিত। বাঙালির জীবনে, বিশেষত বাঙালির চিন্তার নির্মাণ ইতিহাসে তিনি প্রায় প্রবাদের মতো। এত বছর পরও তিনি সমভাবে প্রাসঙ্গিক। ১৯১৩ সালে প্রথম বাঙালি হিসেবে গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের জন্য তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত হন।

সমগ্র জীবনে তার সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে বহু বিখ্যাত মানুষের। বন্ধুত্ব হয়েছে ডব্লিউবি ইয়েটসের সঙ্গে। বিজ্ঞান, চেতনা ও সৌন্দর্যসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে আইনস্টাইনের সঙ্গে। ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনে মহাত্মা গান্ধীর সঙ্গে যেমন, তেমনি যোগাযোগ ছিল অগ্নিযুগের বিপ্লবী রাসবিহারী বোসের সঙ্গেও। ‘মহাত্মা’ উপাধিটি গান্ধীকে তিনিই দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের মুক্তির সংগ্রামে তার গান ও কবিতা অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে। তার লেখা ‘আমার সোনার বাংলা/ আমি তোমায় ভালোবাসি’ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত।

বলা হয়, রবীন্দ্রনাথ ছুঁয়ে যাননি এমন কোনো অনুষঙ্গ, এমন কোনো যাপন বাঙালির নেই। তাই প্রতি বছরের মতোই বৈচিত্র্যপূর্ণ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নোবেল বিজয়ী এ বাঙালি কবিকে স্মরণ করবে তার ভক্তরা। শুধু দুই বাংলার বাঙালিরাই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাংলা ভাষাভাষীরা কবির জন্মবার্ষিকী আবেগ ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পালন করবে। বিশ্বকবির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। সরকার জাতীয় পর্যায়ে কবিগুরুর জন্মবার্ষিকী উদযাপনের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এ উপলক্ষে সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয় বেলা ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখবেন সংস্কৃতি-বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আকতারী মমতাজ ও স্মারক বক্তৃতা করবেন অধ্যাপক সনত্কুমার সাহা। এছাড়া জাতীয় শিল্পকলা একাডেমিসহ দেশের সব শিল্পকলা একাডেমিতে কবির স্মরণে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন করতে বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। এছাড়া খুলনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রবীন্দ্রনাথ ও তার জীবনসঙ্গী মৃণালিনী দেবীর স্মৃতিবিজড়িত খুলনার ফুলতলা উপজেলার দক্ষিণদিহির ‘রবীন্দ্র কমপ্লেক্সে’ তিন দিনব্যাপী জন্মোত্সবের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে প্রতিদিন লোকমেলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া কবিগুরুর স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়ার শিলাইদহ, নওগাঁর পতিসরেও এ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

০৮ মে, ২০১৬ ১০:৫৪:৫১