নিশিদ্ধ নিশিডাক
শন্দিপ
অ+ অ-প্রিন্ট
আমি শুনেছি সে ডাক। রোজ সূর্য ডোবার পরে, সন্ধ্যার উলু আর শাঁখের শব্দ শেষ হলে।  চলমান গাড়ির গতি যত মন্থর হয়, শহরটা ততই নির্জন হতে থাকে। একে একে সকলেই ঘরে ফেরে ক্লান্ত-শ্রান্ত অবসন্ন শরীরে। কিন্তু, আমি বিনিদ্র। রাত যত গাঢ় হয়, সে ডাক তত স্পষ্ট হয়। আলোআঁধারীতে অনর্গল সে ডাকতে থাকে। যেন, কোন এক সুন্দরী লাস্যময়ীর হরিণ চোখের চাহনী আর ভিজে ঠোঁট সাথে শারিরীক বর্বরতার আকুল হাতছানি। উদভ্রান্ত, উচ্ছল ঢেউয়েরা যেভাবে একে অপরের সাথে মিশে যায় ও যেন সেভাবেই আমাকে পেতে চায়। ওর চাওয়াতে কোন ভেজাল নেই। ওর সারা শরীর জুরে প্রবল ঐশ্বর্য। দেখলে চোখ ফেরানো দায়। মনে হয়, মানুষের সকল প্রাথমিক চাহিদাকে গৌণ করে ওর ভরা যৌবনে আমৃত্যু ডুবে থাকি। 

কিন্তু, কে ? কে ও ? এর আগেতো ওকে কোনদিন দেখিনি। ছোটবেলায় মা, বাবা অথবা স্কুলের শিক্ষকদের কাছেও ওর কোন কথাই শুনিনি। তাহলে তখন কি ছিলনা ! নাকি ওনারাও ওকে জানতো, ভয়ে বলতো না! আমিতো কোন পাগল নই যে ভুল ভাববো। রোজ রাতে সকলের অজান্তে এসে ওর সব কিছু আমাকেই দিতে চায়। যদি ওকে কাছে টেনে নেই, তাহলে আমার এই উনিশ বছর বয়স থেকে না চাইতে সব পেয়ে যাব। সকলের থেকে আমি অনেকটা হঠাৎ এগিয়ে যাব। ও: কি আনন্দই না হবে। ও আমার ঘরের দোরে  অপেক্ষারত। শুধু আমি বেরলেই হয়। তারপরে কেবল পাওয়া আর পাওয়া। চেটেপুটে খাওয়া।

অনেক চেনা-অচেনা অথচ অস্পষ্ট মুখেরাও তো ওর পাশে ঘুরছে। তাহলে ও কেন আমাকেই চায়? আমারতো তেমন বংশগৌরব বা বলিষ্ঠ পৌরষত্ব নেই। আমি নেহাত সাদামাটা এক নাগরিক মাত্র। তা হলে ? তাহলে কি ওদেরকে  পছন্দ নয় নাকি ওদেরকে নিয়ে ও বুঝেছে ওরা ওর জন্য নয়। আমার মতো সাদাসিধেকেই ওর ভাললাগে। খুব উদার, হৃদয়বান হবে। কিন্তু কে ও ? সত্যিই কি আমাকে চায় ? সারাটা জীবন আমাকে নিয়ে খুশির অন্ত থাকবেনা এমনটা ভাবছে, জানি না! হতেও পারে !

সবাই পর, ষষ্ঠইন্দ্রিয় বা আত্মাটাই কেবল আমৃত্যু আমার নিজের। সে ই আমাকে চিনিয়ে দিল। ও রহস্যে ঘেরা এক রহস্যময়ী যার অনন্ত যৌবন যুগে যুগে সকলকে তার নিজের বুকে টেনে নিতে চেয়েছে। একবার ওর ডাকে যারাই সাড়া দিয়েছে তারা আর কোনদিন ফিরে আসেনি। ও ভালবাসার সুতোয় তৈরী মোহের জালে ক্রমাগত আকাঙ্খাকে আষ্টেপৃষ্ঠে বেঁধে ফেলে। বহুপরে যখন ওকে বুঝতে পারে তখন আর বেরিয়ে আসার পথ থাকেনা। 

অন্তরালের অন্ত:সলিলা হয়ে ও জাল বিছায়। যারা ওকে ভালবেসে কাছে টেনে নিয়েছে তারা শুধু ঐ লাস্যময়ীকে সন্তুষ্ট করার অর্থ সংগ্রহ করে। করেই চলে নিরন্তর, নিরবিচ্ছিন্ন। তবুও ওকে দিয়ে যেন পোষায়না। বুঝেছি, আমি কোন ব্লাক হোলের চৌকাঠে। না, কোনমতেই ঐ চৌকাঠ পেরিয়ে নিশিদ্ধ সুন্দরীর নিশি ডাকে সাড়া দেব না …। 

০৬ মে, ২০১৬ ১৮:০৯:১৪