জল ছোঁয়া রোগ এবং মৃত্যুঞ্জয়ী দর্পণ
বিদ্যুৎ ভৌমিক
অ+ অ-প্রিন্ট
                   

পাশের চেয়ারে ধ্যানব্রক্ষ্মে গভীর আরক্ত 

কোথাও কী তপস্যা ভাঙার মন্ত্র হৃদয় ফুরিয়ে স্বপ্ন বদল করে 

এই দু’হাত বুকের মধ্যে স্মৃতি ছুঁয়ে দেখে ; পাঁচ আঙুলের ছাপ 

লাগে স্বর্গের অলিন্দে 

প্রতিদিনের অসুখ চরিত্র পতনের শব্দ শুনতে শুনতে চেনা রাস্তা 

দিয়ে ফিরে আসে । এই তাপ যেমন গভীর ; ঠিক সেরকম উপমাহীন ****

তবুও কোথাও লুকিয়ে হারায় মন পোড়ানোর কৌশল —

পাশের চেয়ারে অশরীর করে রেখেছে আমায় 

এখানে স্মৃতি নষ্ট হতে - হতে দৃষ্টিও ভুলে যায় 

কেউ একজন অন্ধকার সিঁড়ির কাছে চিরঋনীর মতো চেহারায় 

নিঃশব্দে দাঁড়িয়ে আছে ///

অথচ ভালোবাসা মৃত্যু সইতে পারেনা ; এক বেলাও  ! 

#

যদিও বৃষ্টির দিনে কিছু অসংলগ্ন ভুল 

আমাকে সঙ্গে নিয়ে ভেসে গেছে মধ্যরাতে মায়া আকাশে 

চিরজীবনের স্রোতে স্বভাবতই নদীর মত শব্দ ওঠে 

কথা ছিল এখানে নবনীতার সঙ্গে চোখ বন্ধ করে ডুবে যাব, 

ভেসে যাব সোহাগ নদীতে ~~~~~~

তবুও তো ভেতরের সব ঢেউ দেবতার মত নিরাকার 

এ সবের মধ্যে বহুকালের ঋণ দয়া চায় ক্ষমতা চায় 

ভ্রাম্যমাণ দুঃখের ভেতর —

পাশের চেয়ারে একাকীত্ব আঁধার পেতে বসে আছে 

চিরকালীন স্বপ্নে সাক্ষী থাকা সহস্র ছায়ারা অঘমর্ষী 

এভাবে সমস্ত দিক থেকে বহতা স্তব্ধতা মুকুটহীন রাজার মত জ্বলে ওঠে ! 

এই চেয়ার থেকে অবিশ্বস্ত হুল্লোড় শুনতে শুনতে 

বাকি পথ মন্দ ভাগ্য নিয়ে ভ্রাম্যমাণ  ! 

#

কোনো কিছুর জন্য ভুলতে পারি কী তোমায় 

মনে - মনে শরীর চিনি 

বুকের মধ্যে নীল জ্যোৎস্না কবিতার মতো প্রিয় প্রতিবেশী 

এই অন্তরীক্ষ যেখানে প্রতারক স্মৃতিরা রাতের জন্য চোখ বুজে 

অপেক্ষায় থাকে ****

এদের সবাই মানুষ সেজে থাকতে চায় , 

শেষ পর্যন্ত এদের কারণে আমার নিঃসঙ্গ গোটা রাত জাগা  ! 

কোথাও ভাসমান ভাবনায় অতিরিক্ত অবিশ্বাসে 

মেখে থাকে মায়াময় শোক 

এই চেয়ারে ঐশ্বরিক কেউ বোসে না থাকলেও 

কেউ একজন মৃত্যুর মত স্থির হয়ে ঘুমিয়ে থাকে স্মৃতি বিছানায় 

কোনো কিছুর জন্য ছাদের কার্নিসে ছিঁড়ে ফেলে দেইনি তোমার 

অজস্র অক্ষর মালা ********

অথচ এরকম অনন্ত অসুখ নিরীহ ছিল সতেরো বছর ।

#

সমস্ত ব্যর্থতা অসহবাসের চেয়ে কঠিন ধারালো 

তবুও স্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকতে দেখি আমার ছায়াকে সতেরো বছর 

সেও দুঃখে ও শোকে নির্ঘুম ঋণী হয়ে আছে —

এই জানলা দিয়ে চাঁদ এসে বিছানায় ঘুরছে - ফিরছে 

কাঙালের দীর্ঘশ্বাস তবু নিঝুম বিষণ্ণ 

সমস্ত স্বপ্নগুলো প্রবল বৃষ্টিতে ধুয়ে যেতে ~ যেতে যাবতীয় ইচ্ছার 

ভেতর মরে পচে গেছে ।

শেষ একবার নিভৃতে চলে এলে অস্তিত্ব নিজের হৃদয়ে পদাঘাত 

করে  ////

শেষ একবার সহজ সত্যে প্রতিপ্রশ্ন ছুঁড়ে দেই মৃত্যুঞ্জয় দর্পণে ;

আমি কী মরে যাব ? আমি কী পাখি হব, ফুল - ফল অনেক কিছু ।

#

সবটাই অমোঘ দোষ ; অধরোষ্ঠহীন কান্নায় ভাসে জল ছোঁয়া রোগে । এক - একটা দুঃখ ; আমি ওদের ভালোভাবে চিনি —

এই আধোজাগা সময়ে সেই চেয়ার এককালের স্পর্শে 

অতল প্রেমহীন । চোখের কাছে অচেনা কিছু চোখ ; আজব দর্শক 

অন্ধকার রাতে মাথার কাছে ওরা কেউ কেউ শ্বাসকষ্টে কাঁপে 

এখানেও ক্ষমা চাওয়া চোখ বুজে অনুসরণ কবিতা পংক্তি ধরে 

এখানেও মনের ভেতর জেগে ওঠে দীর্ঘকার ছায়া 

অর্ধেক নিঃসঙ্গ এবং নিঃশব্দে এলোমেলো  ! 

তাকে নিয়ে ভাবা বিশ্ব - ভুবনময়, ওকি মৃত্যু ; নাকি অন্তরীক্ষে 

স্মৃতি ছবি মেলে ধরে অনাদিকালের প্রোজেক্টারে । এই চেয়ার 

পৃথিবীর সব দুঃখ একাই পেতে - পেতে সিংহাসন হয়ে আছে 

অথচ আঙুলের কড় গুণে দিন ভাগ হয়ে গেছে  ! 

#

ত্রিভাঁজ সময়, বুকের ভেতর কথাপাখি ; যেন নিভৃত প্রহরী 

ঘরভর্তি মিশে যায় নম্রতার বিবর্ণ ধুলো 

কেউ অবিশ্বস্ত কেউ কেউ বিপরীত বিরল প্রজাতির ছায়া 

খুঁটে খায়  ///

ওই রাস্তায় চোখ বাঁধা কঙ্কাল হাঁটে বারমাস —

ওদেরকে চিনি, ওরা রাতে আঁধারে জাদুঘরের আলো নিভিয়ে দেয় 

প্রতিদিন রোজ  ! 

কী রকম গুণ টেনে উল্টে যায় দরাজ শিহরণ 

তবুও যে রাস্তায় - রাস্তায় আকাশ ভাঙা মেঘ লীলাময় কান্নায় 

রাতের জ্যোৎস্না ভেজায় ***** এটাতো এই চশমার স্বপ্ন জাগাতে 

চেয়ে ছদ্মবেশী গুপ্তচরকে বিছানা থেকে তুলে অলঙ্কৃত 

আদিখ্যাতার মলম লাগিয়ে দেয় অতলান্ত ক্ষতে ! 

এই চেয়ারে বহু শতকের মায়াময় কৌতুক একজন কবির রহস্যময় শোকে প্রেত ও ঈশ্বরের স্পর্শে জন্মঋণের ফর্দ নিয়ে জেগে থাকে  !! 

 

২৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০৫:৩৫