চলে গেলেন যুদ্ধ মিছিল আর কবিতার মানুষ রফিক আজাদ
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
চলে গেলেন কবি রফিক আজাদ। গতকাল বেলা ২টা ১০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে গত ১৫ জানুয়ারি বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন কবি রফিক আজাদ। পরে বিএসএমএমইউর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে তাকে স্থানান্তর করা হয়। এখানেই দীর্ঘদিন চিকিত্সাধীন ছিলেন তিনি। গত শুক্রবার সকাল থেকেই তার রক্তচাপ পাওয়া যাচ্ছিল না। ফলে ক্রমান্বয়ে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে গতকাল দুপুরে রক্ত সংক্রমণে তার মৃত্যু হয়। রফিক আজাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান।

কবির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছেলে অভিন্ন আজাদ দেশে আসার পর কবির দাফন সম্পন্ন হবে। সোমবার তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। রফিক আজাদের মরদেহ বিএসএমএমইউ হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে। সোমবার সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেয়া হবে। পরে নেয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমিতে। কবিকে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হতে পারে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, রফিক আজাদের কানাডা প্রবাসী দুই ছেলে অভিন্ন আজাদ ও অব্যয় আজাদ অসুস্থ বাবাকে দেখে ১০ মার্চ কানাডা ফিরে যান।

রফিক আজাদ ১৯৪১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল থানার গুণী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর করে কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতায়। বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত পত্রিকা ‘উত্তরাধিকার’-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে তিনি ১৯৭২ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। একসময়ের জনপ্রিয় পত্রিকা ‘রোববার’ও তিনি সম্পাদনা করেছেন। এর পর কাজ করেন বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশন, উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি ও জাতীয় গ্রন্থ কেন্দ্রে।

জনপ্রিয় এ কবির কবিতা তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘অসম্ভবের পায়ে’ প্রকাশের পর থেকেই পাঠকপ্রিয়তা লাভ করে। পরে এ জনপ্রিয়তা সময়ের সঙ্গে আরো দৃঢ় হয়েছে। কবির জনপ্রিয়তা চূড়ান্ত রূপ পায় তার তৃতীয় কাব্যগ্রন্থ ‘চুনিয়া আমার আর্কেডিয়া’ প্রকাশের পর। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের পরিপ্রেক্ষিতে তার পঙিক্ত ‘ভাত দে হারামজাদা, নইলে মানচিত্র খাব...’ পায় কিংবদন্তিতুল্য জনপ্রিয়তা। কবির প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘সীমাবদ্ধ জলে সীমিত সবুজে’, ‘পাগলা গারদ থেকে প্রেমিকার চিঠি’, ‘প্রেমের কবিতাসমগ্র’, ‘বর্ষণে আনন্দে যাও মানুষের কাছে’, ‘বিরিশিরি পর্ব’, ‘হূদয়ের কী বা দোষ’, ‘কোনো খেদ নেই’, ‘প্রিয় শাড়িগুলো’ প্রভৃতি।

সাহিত্যে অবদানের জন্য কবি রফিক আজাদ ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার ও ২০১৩ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া হুমায়ুন কবির স্মৃতি (লেখক শিবির) পুরস্কার (১৯৭৭), আলাওল পুরস্কার (১৯৮১), কবি আহসান হাবীব পুরস্কার (১৯৯১), কবি হাসান হাফিজুর রহমান পুরস্কার (১৯৯৬) ও বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা সম্মাননা (১৯৯৭) লাভ করেন তিনি।

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০৭:৪৫:৩৫