সাহিত্যের বাইরে বেরিয়ে 'কলম' সামাজিকতার নিরিখে বিশ্ব দরবারে
বচ্চন গিরি • কলকাতা
অ+ অ-প্রিন্ট
দিনটা ছিল ৯ জুলাই ২০১৫।বরানগরের বাসিন্দা পেশায় ঔষধ প্রস্তুতকারী সংস্থার বিপনন বিভাগের আধিকারিক বিশ্বরূপ ঘোষের মাথায় হটাৎ করেই একটি সাহিত্য পত্রিকা প্রকাশের ভাবনার উৎপত্তি ঘটে।বিশ্বরূপ বাবু সম্পূর্ণভাবে সাহিত্য জগতের বাইরের মানুষ। বাংলা সাহিত্যে অবাধ পান্ডিত্যের অধিকারী তিনি নন।তবু কিছুটা বেখেয়ালেই একদিন সহধর্মিনী পিয়ালী ঘোষের সঙ্গে পরামর্শ করে ফেসবুকে 'কলম' নামক সাহিত্য গোষ্ঠীর সৃষ্টি করেন। বিশ্বরূপ বাবুর হাত ধরে সেই পথচলা শুরু 'কলমের'। মাত্র কয়েকমাসের মধ্যেই নবীন ও প্রবীণ সাহিত্য মনজ্ঞ মানুষদের কাছে 'কলম' হয়ে ওঠে মুক্তমঞ্চ।ধীরে ধীরে 'কলমের' প্রসার হচ্ছে বুঝতে পেরে ঘোষ দম্পতি সিদ্ধান্ত নেন 'কলমকে' সাহিত্যের একটি অনন্য  প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার। ঠিক এমন সময়ই   শহর কলকাতার লেকটাউনের বাসিন্দা স্নেহাশিস চক্রবর্তীর সঙ্গে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয় হয় বিশ্বরূপ বাবুর সহধর্মিনী শ্রীমতি পিয়ালি ঘোষের। স্নেহাশিস বাবু লেখালেখির জগতের মানুষ।কিন্তু প্রথমে নিজেদের ইচ্ছের কথা জানাতে কুন্ঠাবোধ করলেও পরবর্তী সময়ে তাঁদের ইচ্ছের কথা স্নেহাশিস বাবুকে জানান ঘোষ দম্পতি| স্নেহাশিস বাবুর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনার পর 'কলমের' দায়ভার স্নেহাশিস বাবুর হাতে অর্পণ করেন ঘোষ দম্পতি। এবং নিজেরাও 'কলমের' জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করতে থাকেন। স্নেহাশিস বাবুর হাতেই মূলত নবজন্ম পায় 'কলম'। স্নেহাশিস বাবুর প্রচেষ্টায়  গত বছর ২৯ নভেম্বর বাংলা সাহিত্য জগতের বিশিষ্ট কবি শঙ্খ ঘোষের স্নেহধন্য লাভ করে শহর কলকাতার হেদুয়া অঞ্চলে 'ধর' ভিলাতে 'কলমের' প্রথম বর্ষ, প্রথম সংখ্যার আনুষ্ঠানিক প্রকাশ করে এবং সেদিনের অনুষ্ঠান থেকেই 'কলম' গোষ্ঠীর সদস্যরা সিদ্ধান্ত নেন 'কলম' শুধুমাত্র ফেসবুকে আবদ্ধ না থেকে বিভিন্ন সামাজিক কাজকর্মেও অংশগ্রহণ করবে।সেই মতোই ঠিক হয় 'কলমের' প্রথম বর্ষ, দ্বিতীয় সংখ্যা প্রকাশের দিন অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকেই তিনজন কলেজ পড়ুয়া  দুঃস্থ মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর একবছরের পড়াশোনার দায়ভার বহন করবে তাঁদের সংস্থা। এমনকি 'কলম' সাহিত্য সংস্থা তাঁদের পত্রিকার নবীন ও প্রবীণ লেখক -লেখিকাদের নিজস্ব বই প্রকাশেও সাহায্য করবে। ইতিমধ্যে 'কলমের' সদস্য সংখ্যা প্রায় সাত হাজারের দোরগোড়ায়। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, ভারতবর্ষ নয় 'কলম' বিদেশের মাটিতেও তার জায়গা করে নিয়েছে। প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশেও 'কলমের' সদস্য প্রায় একহাজারের কাছাকাছি।সাহিত্য যে সীমান্তের বেড়াজাল মানেনা তার জ্বলন্ত প্রমাণ 'কলম'। দুই দেশের মধ্যে সীমানা বেঁধে দেওয়া কাঁটাতারের বেড়া টপকে 'কলম' পৌছে গেছে সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশে। সংস্থার অন্যতম সদস্য স্নেহাশিস চক্রবর্তীর কথায়, "এভাবে সাড়া মিলবে কখনও ভাবিনি। আমরা ভবিষ্যতেও সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি সামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত থাকবো। তবে 'কলম' সংস্থা অতি অল্প সময়ের মধ্যেই তার ব্যাপ্তি যে এতোটা বাড়াতে সক্ষম হয়েছে শুধুমাত্র সামাজিক কাজকর্মের জন্য তা অবশ্য বলার অপেক্ষা রাখেনা। এমনকি 'কলম' যে বিভিন্ন প্রান্তের সাহিত্যপ্রেমী মানুষদের একসূত্রে বেঁধেছে তারও স্পষ্ট প্রমান লাল মাটির জেলা বাঁকুড়ার পেশায় শিক্ষিকা শ্রীমতি জয়িতা গোস্বামী এবং কলকাতার সল্টলেকের বাসিন্দা স্বপন সিনহাবাবু। পথ চলতে চলতেই শ্রীমতি গোস্বামী এবং স্বপন সিনহাবাবুর সঙ্গে পরিচয় 'কলমের'। এখন এঁরা দুজনেই সাহিত্য সংস্থাটির অন্যতম ব্যাক্তিত্ব। 'কলম' সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বরুপ ঘোষের কথায়, "ভবিষ্যতেও 'কলম' স্বমহিমায় এগিয়ে চলবে।"

 

০৬ মার্চ, ২০১৬ ০৮:২৪:৪২