উসকানিমূলক বই প্রকাশ করবেন না, প্রকাশকদের মহাপরিচালক
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান
প্রকাশকদের উসকানিমূলক বই প্রকাশ থেকে বিরত থাকার প্রকাশকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ড. শামসুজ্জামান খান। সেই সঙ্গে অমর একুশে গ্রন্থমেলা চলার সময় লেখকদের মেলার আশেপাশের এলাকায় সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। 

শনিবার বিকালে বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৬ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ পরামর্শ দেন।

গত বছরের অমর একুশে গ্রন্থমেলা চলাকালীন ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসসি এলাকায় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে খুন হন বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়। একই বছর ৩১ অক্টোবর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলায় নিজ প্রতিষ্ঠানে খুন হন অভিজিতের বইয়ের প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপন। তিনি তার জাগৃতি প্রকাশনী থেকে অভিজিতের জনপ্রিয় বই ‘বিশ্বাসের ভাইরাস’ প্রকাশ করেছিলেন।

এই দুটি হত্যাকণ্ডের পর আবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাঙালির প্রাণের উৎসব বইমেলা। মেলা উপলক্ষে গতবারের ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে নেয়া হচ্ছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা। শনিবার এ উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজন করে সেই সংবাদ সম্মেলন। 

বই মেলায় এ দুই লেখক ও প্রকাশকের স্মৃতি নিয়ে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে কি আয়োজন থাকছে এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, ‘আমরা বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে কোনো কিছু করছি না। তাদের প্রকাশনার জন্য স্টল নির্ধারণ করে দিয়েছি। তারা চাইলে সেখানে তাদের ছবি রাখতে পারে।’ 

মেলার উদ্বোধনের দিন তাদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা যায় কি না সাংবাদিকদের এমন প্রস্তাবের জবাবে শামসুজ্জামান বলেন, ‘উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আসবেন। ওইদিনের সব বিষয় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী এসএসএফ দেখবে।’

শামসুজ্জামান খান বলেন, ‘গত বছর বই মেলার অদূরে ও পরবর্তী সময়ে দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। একজন লেখক ও একজন প্রকাশক নিহত হয়েছেন। আমরা চাইনা এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি হোক। আমরা এবারের বইমেলায় নিরাপত্তার দিকটা বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখছি। আমরা গত বছরের জুন মাস থেকে এসব বিষয় নিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো, মন্ত্রণালয়, আন্তঃমন্ত্রণালয়, ফায়ার ব্রিগেড সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চেষ্টা করেছি। আশা করি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্ছিদ্র হবে।’

তিনি বলেন, ‘এবারের মেলায় টিএসসির উল্টো দিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটের পাশে এবং দোয়েল চত্বর এলাকায় র্যাবের ক্যাম্প থাকবে। এছাড়া থাকবে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। সমগ্র মেলা জুড়ে থাকবে দুই শতাধিক ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা এবং পর্যবেক্ষণ টাওয়ার। ইঞ্জিনিয়ারিং ইনিস্টিটিউট, শিশু একাডেমি, তিন নেতার মাজার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে।’

৩১ জানুয়ারি, ২০১৬ ০৯:১০:২২