পাঠকের মনের দুয়ারে কড়া নাড়ছে বইমেলা
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
অমর একুশে বইমেলার বাকি আর মাত্র কয়েকদিন। বাঙালির প্রাণের এ বইমেলার আয়োজনের জোর প্রস্তুতি কাজ চলছে পুরোদমে। পাঠকের মনের দুয়ারেও কড়া নাড়ছে বইমেলা। কুয়াশাঘেরা উদ্যানে ভোর থেকে কাজ শুরু হয়ে চলছে রাত অবধি। এবারের বইমেলায় ১৫টি প্যাভিলিয়ন ও ৬৫০টি স্টল থাকছে। এসব স্টলে ৪০০টি প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। নজরদারির জন্য এবার মেলাপ্রাঙ্গণে বসছে আড়াইশ’ সিসিক্যামেরা।

ঠক ঠক খট খট শব্দ এখন বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে। ইতিমধ্যে মেলার স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যারা স্টল পেয়েছেন তারা এখন ব্যস্ত স্টল সাজানোর কাজে।

বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে চলছে স্টল-প্যাভিলিয়ন নির্মাণসহ সাজসজ্জার চূড়ান্ত প্রস্তুতি। শ্রমিকরা বাঁশের অবকাঠামো তৈরি করছেন। কেউ মাটি খুঁড়ে খুঁটি বসাচ্ছেন, কেউ আগে থেকে বসানো খুঁটিগুলোর সঙ্গে বাঁশ বেঁধে দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে উদ্যানের ভেতরে বেশ বড় আকৃতির বেশ কয়েকটি ঘরের কাঠামো নির্মাণ হয়ে গেছে। ২৬ জানুয়ারির মধ্যে সাজসজ্জাও শেষ হবে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান বলেন, এবারো বইমেলা বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্প্রসারিত করা হচ্ছে। গত বছরে আমাদের স্টল ছিল ৬/৮ ফুট, এবার সেটা আরো বেড়ে যাচ্ছে। গত বছর রাজনৈতিক কারণে মেলায় দর্শনার্থী কম থাকলেও এবার এমন কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানান তিনি।

বাংলা একাডেমির উপপরিচালক ড. মো শাহাদাৎ হোসেন জানান, এখন পর্যন্ত ২২৫টি প্রকাশনীকে ৪১৪টি ইউনিট বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১২১টি প্রতিষ্ঠানকে এক ইউনিটের স্টল, ৮০টিকে দুই ইউনিটের স্টল এবং ৩৮টি প্রকাশনীকে তিন ইউনিটের স্টল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে এখনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। মেলার কাজ চলছে পুরোদমে। আমরা আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে পারব।

তবে এবার সরকারি প্রকাশনার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মূল প্রাঙ্গণে জায়গা পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশি প্রাধান্য পাবে বলেও জানান তিনি।নজরদারির জন্য মেলাপ্রাঙ্গণে বসছে আড়াইশ’ সিসিক্যামেরা 

শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বইমেলায় সব মানুষ যাতে নিরাপদে আসতে পারে এর জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা বরাবরের মতো জোরদার করা হবে। পাশাপাশি নিশ্চিদ্র নিরাপত্তার জন্য এবারো থাকছে একাধিক ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা।

তিনি বলেন, এবার ফায়ার ব্রিগেড, রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, ঢাকা সিভিল সার্জন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাব, আনসার ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো সহযোগিতা করবে। এছাড়া মেলায় অগ্নি নিরাপত্তার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা নেয়া হয়েছে।

মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, ২৬ জানুয়ারির মধ্যেই প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে স্টল নির্মাণের যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করতে হবে। নির্মাণ করতে কেউ ব্যর্থ হলে স্টল বাতিল করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে একাডেমি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৫টি গুচ্ছ আকারে সাজানো হচ্ছে মেলা প্রাঙ্গণ। প্রতিটি গুচ্ছে থাকবে একটি প্যাভিলিয়ন, চার ইউনিটের একটি স্টল, তিন ইউনিটের দুটি স্টল, দুই ইউনিটের সাতটি স্টল এবং এক ইউনিটের আটটি স্টল। প্রতিটি গুচ্ছের প্রবেশমুখে থাকবে প্রকাশনা সংস্থাগুলোর নাম।

মেলার মোট প্রবেশদ্বার যেমন থাকছে চারটি, তেমনিভাবে বের হওয়ার পথও থাকছে চারটি। ভিড় হলেও মেলায় ঢুকতে বা বের হতে যেন ভোগান্তিতে না পড়তে হয় সে জন্যই এ ব্যবস্থা। মেলায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা হবে স্ট্যান্ড পুলের মাধ্যমে। থাকবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

এবারের বইমেলায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের পরিসর বাড়ানো হয়েছে। গতবার যেটি ছিল দেড় লাখ বর্গফুট, সেটি এবার পরিণত হচ্ছে চার লাখ বর্গফুটে। প্রকাশকদের অনুরোধে শিশু কর্নারটিও থাকবে মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অংশেই।

বাংলা একাডেমি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়াটিক সোসাইটি, জাতীয়  জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, জাতীয় গণগ্রন্থাগার, নজরুল ইনস্টিটিউট প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের স্টল থাকবে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে। তবে বাংলা একাডেমির একটি প্যাভিলিয়ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানেও থাকবে। এ ছাড়াও তাদের অভিধান, পত্রিকা ও শিশুদের বই নিয়ে থাকবে আলাদা স্টল।

গতবারের বইমেলার ‘বাজে’ অভিজ্ঞতা আর দেশের সার্বিক পরিস্থিতির কথাটি মাথায় রেখেই এবার নিরাপত্তায় ন্যূনতম ঘাটতিও থাকছে না বলে জানিয়েছেন আয়োজক সংশ্লিষ্টরা। নজরদারির জন্য এবার মেলাপ্রাঙ্গণে বসছে আড়াইশ’ সিসিক্যামেরা। দোয়েল চত্বর থেকে চারুকলা পর্যন্ত নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব কাজে দেবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গেট পর্যন্ত থাকবে আলোকসজ্জা। বিস্তৃত এলাকাজুড়ে বসবে আলোর পাহারা।

তবে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অন্য বিষয়গুলো দেখভাল করছে ‘টপ লেভেলের’ নিরাপত্তা বাহিনী। নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে আয়োজক প্রতিষ্ঠান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেছে বলে জানা যায়। তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছে। ইতিমধ্যে স্টল বানানোর কাজ দেখভাল করছেন আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। 

২৫ জানুয়ারি, ২০১৬ ১৬:১৪:৪৯