বার্ধক্য এড়াতে যা করবেন
নুরুননাহার সাত্তার
অ+ অ-প্রিন্ট
কেউ কি বুড়ো হতে চায়? না, সকলেই চান তারুণ্য ধরে থাকতে৷ বিশেষ করে নিজেকে তরুণ দেখাতে চান সকলেই৷ জার্মান ভাষায় একটা কথা আছে –  ‘তুমি যেমন খাবে, তেমন থাকবে৷’ চলুন জানা যাক এতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে৷ 

স্বাভাবিক পরিবর্তন

যে কোনো মানুষেরই বয়স বাড়ার সাথে সাথে শরীর, মন আর চেহারায় পরিবর্তন আসে৷ আর সেটাই স্বাভাবিক৷ তবে সেই পরিবর্তনটা কত তাড়াতাড়ি হয় বা কেমনভাবে হয়, প্রশ্নটা সেখানেই৷ কারণ বয়স সকলেরই বাড়ে, অথচ পরিবর্তন হয় একেকজনের একেকভাবে৷

কেন?

কাউকে মাত্র ৩০ বছর বয়সেই বয়স্ক বলে মনে হয়৷ আবার কেউ ৬০ বছর বয়সেও একজন তরুণের মতো ফিট বোধ করেন৷ তারুণ্য হারিয়ে যাওয়া বা বার্ধক্যকে জয় করার পেছনে খাওয়া-দাওয়া, জীবনযাত্রার মান, মানসিক চাপ, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা, জিন বা বংশোগত কারণ ছাড়াও হাজারো কারণ রয়েছে৷

প্রয়োজন জীবনীশক্তি

কোথায় পাবো মনের শক্তি, কীভাবে আসবে – সেটা জানতে হবে প্রথমে৷ কারণ সকলের মনের শক্তি পাওয়ার উৎস এক নয়৷ কেউ বই পড়ে কিংবা গান গেয়ে মনের খোরাক জোগান৷ কেউ বা অন্যকে সাহায্য করার মধ্য দিয়ে শক্তি সঞ্চয় করেন৷ আবার কাউকে এর জন্য শারীরিক পরিশ্রম বা অন্যকিছু করতে হয়৷

থাকবে৷’ চলুন জানা যাক এতে ঠিক কী বোঝানো হয়েছে৷ 

শুধু জীবনী শক্তি নয়, প্রয়োজন উদ্যোগের

নিজের জীবনী শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নানারকম উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে৷ আসলে নিঃসঙ্গতার অনুভূতিই মানুষকে বুড়িয়ে দেয়৷ আমাদের আশেপাশে যারা কোনো ভালো কাজে নিয়োজিত এবং ব্যস্ত, তাঁদের দেখে কিন্তু বোঝা যায় যে, বয়সকে অনেকটাই জয় করেছেন তাঁরা৷

খাওয়া-দাওয়া

হ্যাঁ, সুস্থ, সুন্দর আর তরুণ থাকার পেছনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন স্বাস্থ্যকর খাবার৷ আমরা যা খাই তার প্রভাব চোখে-মুখে, শরীরে তো পড়বেই৷ তাই যতটা সম্ভব প্রকৃতিক উপায়ে উৎপাদন করা বিভিন্ন খাবার এবং প্রচুর শাক-সবজি এবং ফলমূল খাওয়া দরকার৷ প্রচুর মাংস খান এমন একজন মানুষ আর একজন নিরামিষাশীকে পাশাপাশি দেখলে আমরা এর উত্তর অনেকটাই পেয়ে যাই, তাই না?

অন্ত্র বা পেটের বিশ্রাম

পেটকে পুরোপুরি পরিষ্কার করতে বছরে অন্তত দু’বার ক’দিন কম খাওয়া উচিত৷ এ জন্য ক’টা দিন বিভিন্ন সবজির স্যুপ এবং তাজা ফলের রস খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন খাদ্য বিশেষজ্ঞ গুন্ডা ফিটশেন৷ তিনি জানান, তারুণ্য বজায় রাখতে পেটের বিষক্রিয়া দূর করার তুলনা নেই৷ কারণ ‘পেট বা অন্ত্রই হচ্ছে সুস্বাস্থ্যের মূল শেকড়৷’ তবে তাঁর মতে, পাশাপাশি দিনে এক ঘণ্টা মুক্ত বাতাস সেবনও জরুরি৷

তুমি যেমন খাবে, তেমন থাকবে

তারুণ্য ধরে রাখতে স্বাস্থ্যকর খাওয়া-দাওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি সব ব্যাপারে থাকতে হবে পরিমিতি বোধ৷ অর্থাৎ মগজে ও মননে৷ শরীর এবং মন থেকে টক্সিন বা বিষক্রিয়া বের করতে হবে৷ শরীরের জন্য রয়েছে বিশেষজ্ঞ বা ডাক্তার৷ আর মনের বিষক্রিয়া বের করতে উদ্যোগী হতে হবে আমাদের নিজেদেরই৷

জীবনের লক্ষ্য

তোমার জীবনের লক্ষ্য কী বা বড় হলে কী করতে চাও? ছোটবেলায় এ প্রশ্নের মুখোমুখি প্রায় সকলকেই হতে হয়৷ কিন্তু অভিজ্ঞ বা বিশেষজ্ঞরা বলেন, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত নাকি যে কোনো মানুষের ইতিবাচক পরিকল্পনা বা লক্ষ্য থাকা দরকার৷ আর এই ইতিবাচক চিন্তা বা লক্ষ্যই সহজভাবে সামনের দিকে নিয়ে যেতে এবং আপনাকে তরুণ রাখতে বিশেষ ভূমিকা রাখে৷ -ডচভেলে

 

০৮ জানুয়ারি, ২০১৭ ০৭:৪৯:০৭