অতিরিক্ত সেলফি মারা লোক ‘মানসিক বিকারগ্রস্থ’!
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম ডেস্ক
অ+ অ-প্রিন্ট
কি ভাবছেন বা আপনার মনে কি আসছে?(হোয়াটস অন ইউর মাইন্ড?) এমন একটা প্রশ্ন দিয়ে ব্যবহারকারীদের স্বাগতম জানিয়ে থাকে ফেসবুক। এই প্রশ্নটা অসংখ্য সাইকিয়াট্রিস্ট, মনোবিজ্ঞানী ও কাউন্সিলর তাদের ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সেশন শুরু করার আগে করে থাকে। এবং মন বিষণ্ন দেখলে আমরা কোনো বন্ধু বা পরিবারের সদস্যকেও কিন্তু একই প্রশ্ন করে থাকি।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমরা কি কি শেয়ার করছি তা দেখে কিন্তু আমাদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে আচ করা যায়। মজার ব্যাপার হচ্ছে যারা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে গবেষণা করেন তারা ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ারকৃত তথ্যের উপর ভিত্তি করে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী এমনকি পুরো মানবজাতির ইমোশনাল পাল্স নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে পারবেন। 

আগামী নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়ার সিডনীতে বিবিসি ফিউচার এর ‘ওয়ার্ল্ড চ্যাঞ্জিং আইডিয়াজ সামিট’ এ এরকম বিষয়াদি নিয়ে আলোচনার আয়োজন করতে যাচ্ছে বিবিসি।

স্যোশাল মিডিয়াতে শেয়ার করা জিনিসগুলো কিন্তু আপনার পরিচয় একেবারে নাঙা করে দেয়। আমরা কি ধরণের পোস্ট করি এবং কত সময় পরপর সেটা করি তার উপর ভিত্তি করে বলে দেওয়া যায় আমাদের মানসিক অবস্থার কথা। বিশেষ করে প্রকাশিত শব্দের গভীরে যে আকাঙ্খা বা সমস্যা লুকায়িত সেটা অপর পাশের বুদ্ধিমান মানুষগুলো কিন্তু বুঝে ফেলতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে ৫৫৫ জন ফেসবুক ব্যবহারকারীর উপর চালানো একটি গবেষণায় দেখা যায় যে এক্সট্রোভার্ট বা বহির্মুখী মানুষ তাদের বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের বৃত্তান্ত এবং তাদের প্রাত্যহিক জীবনের অনেক কিছুই শেয়ার করে থাকেন।

আর যারা নিজেদের আত্মমর্যাদাবোধ কম অনুভব করেন তারা তাদের রোমান্টিক পার্টনার নিয়ে বেশি কথা বলার চেষ্টা করেন। কিছু কিছু নিওরটিক ফেসবুকার যে করেই হোক আকর্ষণের বিষয় হতে চান এবং অন্যদের প্রত্যয়ন চান। আর যারা নার্সিসিস্ট তারা নিজেদের বিভিন্ন অর্জন নিয়ে বলে বেড়ান এবং নিজেদের খাবার দাবার, শরীরচর্চার খবর জানিয়ে বেড়ান।  

আরেকটি গবেষণায় বলা হয়, যেসব লোক বেশি বেশি সেলফি শেয়ার করে তারা অনেক বেশি নার্সিসিস্ট এবং মানসিক বিকারগ্রস্থ।

আর যারা প্রযুক্তির সহায়তায় নিজেদের ছবিতে অনেক যোগ বিয়োগ করে তাদের আত্ম সম্মানবোধ বেশ কম থাকে।

সূত্র: বিবিসি

২৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:০৩:৪৩