বাল্টিমোরের বায়তুস সামাদ মসজিদের উদ্বোধন উপলক্ষে গুনীজনদের অভ্যর্থনা
অ+ অ-প্রিন্ট


বাল্টিমোরের বায়তুস সামাদ মসজিদের উদ্বোধন উপলক্ষে গুনীজনদের অভ্যর্থনা দেয়া হয়। 

এখন আমাদের মানবতা দেখানোর সময় এবং আমাদের সমাজে, আমাদের জাতি সমূহের মাঝে এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে হবে।

২০শে অক্টোবর ২০১৮ তারিখে শান্তি ও প্রগতির দুত  নিখিল বিশ্ব আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বর্তমান এবং পঞ্চম খলিফা হযরত মির্যা মাসরুর আহ্মদ আল্লাহ তাঁর হাতকে শক্তিশালী করুন বালটিমরে আমেরিকাতে বাইতুষসামাদের উদ্ধোধন করেন। ৫০০ অতিথিদের উপস্থিতিতে এদের মধ্যে ৩২০ জন সম্মানিত অতিথি ছিলেন মূল বক্তব্য প্রদান করেন। এখনকার যুগে উত্তেজনা অরাজকতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব ছেরে মানবজাতিকে তিনি একতাবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান এবং শান্তির পথে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনেকে মনে করেন মসজিদ মুসলমানদেরকে সমাজ থেকে থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে এবং সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করবে।

আমি নিজে অমুসলিম বিশ্বে মানুষের মধ্যে এই ধরনের ভীতি সঞ্চার হতে দেখেছি এবং এই ধরনের ভীতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে আশঙ্কাজনকভাবে। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে ইসলাম সকল ধরনের সন্ত্রাসবাদ চরমপন্থা এবং সকল ধরনের হিংসা এবং হানাহানির বিরোধিতা করে।

ইসলাম বিশ্বাসের স্বাধীনতা এবং বিবেকের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের কার্যকলাপের নিন্দা জানায়। ইসলামের শিক্ষা হচ্ছে ধর্ম হচ্ছে হৃদয়ের ব্যাপার। তাই অমুসলিমদের মধ্যে ইসলাম সম্পর্কিত যে উপলব্ধি তা একপ্রকার ভ্রান্ত ধারণা মাত্র। মসজিদ তৈরির মুল উদ্দেশ্য হচ্ছে অমুসলিমদের মধ্যে ইসলামের সঠিক শিক্ষাকে তুলে ধরা এবং মানুষের অধিকার রক্ষা করা অধিকার রক্ষা করা।

সমাজে শান্তি বিনষ্ট করার পরিবর্তে মসজিদ সমাজের সকল স্তরের মানুষ এবং সকল ধর্মের বিশ্বাসের মানুষের মধ্যে শান্তি লালন পালন করে।

এক কথায় বলতে গেলে মসজিদ হলো এমন একটি জায়গা যেখানে মুসলমান তাদের সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহতালার সাথে সম্পর্কের বন্ধন তৈরি করে এবং মানব জাতির অধিকার নিশ্চিত করে। যে কোন মসজিদ যদি প্রধানতম এই দুইটি কাজ নিশ্চিত ভাবে না করে তাহলে এগুলো কোন মসজিদ ই না শুধু খোলস মাত্র যা কোনো কাজে আসে না।

তিনি বলেন আমরা নন আহমদি এবং নন মুসলিমদের সাথে বন্ধুত্ব তৈরি করতে চাই। আমরা আন্ত ধর্মীয় সংলাপ করছি। আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের মূল্যায়ন করি, তাদেরকে স্নেহ ও ভালবাসা দেই। যে কারোর আপতকালে আমরা সব সময় সাহায্যে করার জন্য প্রস্তুত আছি। সমাজের দুর্বল এবং বঞ্চিতদের আমরা অধিকার রক্ষা করি। আমরা সর্বদাই সর্বসাধারণকে সাহায্য করি এবং আনুগত্যকারী ও বিশ্বসত নাগরিক হিসেবে কাজ করি। এটিই আমাদের বিশ্বাস এবং এটীই আমাদের আমাদের শিক্ষা। এজন্যই আমরা মসজিদ নির্মাণ করি। আমি সম্পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে বলছি যে এই মসজিদ শান্তির প্রতীক হিসেবে প্রমাণ করবে এবং এই শহরে ভালোবাসা সহমর্মিতা এবং ভ্রাতৃত্ববোধ ছড়াবে এবং এই সীমারেখা অতিক্রম করে যাবে। এর চারিপাশ কে আলোকিত করবে এবং এই আলো সর্বত্র ছড়িয়ে দেবে। এটি হবে শান্তিনিকেতন যেখানে নামাজীরা একত্রিত হয়ে তাদের প্রতিবেশীদের সেবা প্রদান করবে এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করবে। সমাজের মুসলমান বা অমুসলমান, ধার্মিক বা অধার্মিক নির্বিশেষে সবার এ সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত তারা কি একসাথে পৃথিবীর শান্তি ও উন্নতির জন্য কাজ করবে কিনা। নাকি একে অপরের প্রতি অভিযোগ করবে থাকবে এবং একে অপরের দোষ ত্রুটির প্রতি অঙ্গুলিনির্দেশ করতে থাকবে। আমাদের প্রত্যেকের একে অপরের প্রতি হৃদয় খুলে দেয়া উচিত প্রত্যেকের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া উচিত। আমাদের কখনোই অন্য ধর্মকে আক্রমণ করা উচিত নয় এবং অপ্রয়োজনীয় ভাবে অন্যধর্ম কে উত্তেজিত করা উচিত নয়। একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ করা উচিত এবং শ্রদ্ধাশীল হওয়া উচিত।

আমি সত্যিকার অর্থেই বিশ্বাস করি পৃথিবী এখন একটি স়ংকটপু্র্ন সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে ক্রমবর্ধমান polarization এবংবিভক্তি তৈরি হচ্ছে। আমরা ধ্বংসের প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে এখন আমাদের উচিত পেছনে ফিরে যাওয়া এবং আমাদের সমস্ত শক্তি ভবিষ্যতের মানবজাতির রক্ষায় নিয়োজিত করা।এখন আমাদের মানবতা কে জাগ্রত করতে হবে এবং সমাজ জাতি বিশ্বকে শান্তি দেয়ার জন্য কাজ করতে হবে। Source: voiceofislambangla.com


৩১ অক্টোবর, ২০১৮ ০২:০৯:০৮