অত্যাধুনিক নাসের হাসপাতাল উদ্বোধন করেন আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রধান
অ+ অ-প্রিন্ট

হিউম্যানিটি ফাস্ট 2010 সাল থেকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে গুয়াতেমালাতে শিক্ষা মানব উন্নয়ন এবং চিকিৎসা সেবার কাজ করে যাচ্ছে। 


গুয়াতেমালায় হিউম্যানিটি ফার্স্ট এর অত্যাধুনিক নাসের হাসপাতাল উদ্বোধন করেন আহমদীয়া মুসলিম জামাতের প্রধান শান্তি ও প্রগতির দুত, ইসলামের খলিফা হযরত মির্জা আহমেদ (আল্লাহ্ তার হাত কে শক্তিশালী করুন।) 23 অক্টোবর 2018 তারিখে এই হাসপাতালের উদ্বোধন করেন। এই হাসপাতালটি গুয়েতেমালা বাসীদের স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদে সব ধরনের চিকিৎসা সেবা প্রদান করবে। এ হাসপাতাল টিতে 22 টশয্যাবিশিষ্ট রোগীদের কক্ষ আছে। এখানে Maternal ward এবং surgical jone ও রয়েছে। হাসপাতালে বাকি জায়গাগুলোতে আউৎপেশেন্ট সার্ভিসের ব্যবস্থা রয়েছে। নাসের হসপিটাল টি 24 ঘন্টা দিবা রাত্রি মানুষের জরুরী চিকিৎসা এবং অপারেশনের কাজ করবে। এই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় চিকিৎসক ও নার্স এবং প্রশাসনিক লোকদের দ্বারা পরিচালিত হবে। এছাড়া হিউম্যানটি ফার্স্ট এর 400 আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক রাও এখানে কাজ করবেন।



তিনি বলেন এই দিনটি আহমদীয়া মুসলিম জামাতের সদস্যদের এবং হিউম্যানিটি ফাস্ট এর সদস্য দের জন্য একটি বিশেষ আনন্দের দিন। যদিও হিউম্যানিটি ফার্স্টের নিজস্ব অনুশাসন এবং কৌশলগত পরিকল্পনা আছে, এই আহমদীয়া মুসলিম জামাত ই হিউম্যানিটি ফার্স্ট গঠন করেছে। এই কারণে এই দিনটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের অধিকারী এবং অনেক গুরুত্ব রাখে। আহমদীয়া মুসলিম জামাতের সারাবিশ্বের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা অন্য সব ধরনের সহায়তা নিয়ে হিউমিনিটি ফাস্ট এর মানবিক কার্যক্রম সহ অন্যান্য সকল কার্যক্রম চলে থাকে। হুজুর বলে আপনারা হয়ত ভাবতে পারেন কেন আমরা এই হাসপাতাল নির্মাণ করেছি এর উত্তর অত্যন্ত সহজ সরল। একটি সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছে আর তা হল অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসহ এই জাতির এবং মানবতার সেবা করা। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আমাদের সেবা এখানেই শেষ হয়ে যাবে না বরং এটি প্রমাণ করবে যে আমাদের আরো কার্যক্রম চলতে থাকবে। আমাদের অতিথিরা হয়তো আশ্চর্য হবেন কেন একটি মুসলিম কমিউনিটির এত আগ্রহ সংকল্প নিয়ে অমুসলিমদের সাহায্য করার জন্য একটি অমুসলিম দেশে হসপিটাল নির্মাণ করছে। আহমদীয়া মুসলিম জামাত সর্বদাই মানবতার সেবায় অগ্রগামী। সর্বদাই আহমদিয়া মুসলিম জামাতের নিজস্ব পরিকল্পনা থাকে বা হিউম্যানিটি ফাস্ট এর সহায়তায় অন্যান্য দাতব্য প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় মানবতার সেবা করে থাকে। উদাহরণস্বরূপ গত কয়েক দশক ধরে আহমাদিয়া মুসলিম জমায়ত আফ্রিকাতে অনেকগুলো হাসপাতাল ও স্কুল খুলেছে। এখানে সেখানকার লোকেরা জাতি ধর্ম নির্বিশেষে এই হাসপাতালে চিকিৎসা সুবিধা এবং স্কুল গুলোতে অতি উন্নত মানের শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। এই হাসপাতালগুলোতে যারা চিকিৎসা সুবিধা নিয়ে থাকে তাদের অধিকাংশই নন মুসলিম এবং এই স্কুল গুলোতে 90% ছাত্র ছাত্রী নন মুসলিম। এইভাবে আমরা কোন ধরনের বৈষম্য করিনা এবং আমাদের জামাতের সদস্যরাও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোন সেবা ও সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করে না। এই স্কুলগুলোতে প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিক্ষা প্রদান করা হয়।আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সকল শিশুকে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের ভিত্তিকে মজবুত করে দেওয়া যাতে করে তারা ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল জীবনের অধিকারী হয়। এছাড়াও মেধাবী ছাত্রদের আমরা বৃত্তি প্রদান করে থাকি। তা না হলে তারা উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারতো না। এভাবে তারা দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করছে। আমরা কোন পুরস্কারের আশায় এই কাজ করছি না বরং আমাদের ধর্ম এই ধরনের কাজ শেখায় এবং এ ধরনের কাজ করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে। আমাদের এই সমস্ত কাজই আমরা ইসলামের শিক্ষার আলোকে করে থাকি। ইসলাম ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর পবিত্র কোরআন নাজিল হয়েছিল আর এই পবিত্র কোরআনের শিক্ষা হলো আর্তমানবতার সেবা করা, দুর্গতদের সেবা করা, যাদেরই সাহায্যের প্রয়োজন তাদেরকে সাহায্য প্রদান করা। এইজন্য মুসলমানদেরকে নিঃস্বার্থভাবে অন্যদের কে ভালোবেসে এই কাজ গুলো করতে হয়। অন্যদের শান্তি ও ভালো করার জন্য আমাদের সর্বদাই তৈরি থাকতে হয়। ৩:১১১ আল্লাহ বলেন মুসলমান সেই যে ভাল কাজ করে ,ন্যায় বিচার করে এবং খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকে এবং অন্যদেরকেও ভালো কাজ করার কথা বলে। যাদের হৃদয় পবিত্র এবং যাদের মানবজাতির প্রতি ভালোবাসা থাকে একমাত্র তারাই নিঃস্বার্থভাবে এই ধরনের কাজে অংশগ্রহণ করে থাকে। ২:৮৪ আল্লাহতালা মুসলমানদেরকে সর্বদা ভালোবাসার সাথে কথা বলতে বলেছেন, অন্যের অনুভূতির প্রতি সম্মান দেখাতে বলেছেন, এবং সমাজের অবহেলিত মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। Source: voiceofislambangla.com


৩১ অক্টোবর, ২০১৮ ০২:০৭:৫০