আজান বা কুরআনের তিলাওয়াত দিয়ে মোবাইলের রিংটোন কী জায়েজ?
হাফেজ মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন
অ+ অ-প্রিন্ট


সমাজে ধর্মীয় কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা হয়ে থাকে। আসলে যার কোনো ভিত্তি নেই অথবা ইসলাম ওই বিষয়গুলো সমর্থনও করে না। কিন্তু না জানা থাকার কারণে সাধারণ মানুষ বিষয়গুলো নিয়ে ভুল করে থাকে। এরকম কয়েকটি বিষয়ে আজকের প্রশ্নোত্তর।

প্রশ্ন: ফজরের নামাজে মসজিদে গিয়ে যদি দেখা যায় যে, জামাত শুরু হয়ে গেছে। তখন ফজরের সুন্নত না ফরজ কোনটি আগে পড়তে হবে?

উত্তর: ফজরের সুন্নত অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ । এর আদায়ের ব্যাপারে হাদিস শরীফে বিশেষ তাকিদ দেওয়া হয়েছে। তাই জামাত শুরু হওয়ার আগে কখনো যদি তা আদায় করা না হয় তবে দ্রুত সুন্নত আদায় করে ইমাম সাহেবের সাথে শেষ রাকাতে এমনকি তাশাহহুদে শরিক হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। তবে সুন্নত আদায় করতে গিয়ে যদি জামাতে শরিক হওয়া সম্ভব না হয় তাহলে সুন্নত না পড়েই জামাতে অংশ নিতে হবে। (আবু দাউদ শরীফ ১/১৭৮-৯; ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া ১/১২০; আলবাহরুর রায়েক ২/৭৩)

প্রশ্ন: অনেকে রিংটোন হিসাবে গান-বাজনা ও ঘন্টা ইত্যাদির পরিবর্তে আজান, জিকির ও তেলাওয়াতের ব্যবহারকে পছন্দ করে। এ ব্যাপারে ইসলাম কী বলে?

উত্তর: কুরআনের তেলাওয়াত, আজান, জিকির ও তাসবীহ সবকিছুই অতীব মর্যাদাপূর্ণ বিষয়। আজান আল্লাহ তাআলার আহ্বান। জিকির ও তাসবীহ নিয়ে কিছু বাক্যের সমষ্টি যা শরিয়তের গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক তথা এগুলোর ব্যবহার একমাত্র আল্লাহ তাআলাকে রাজি-খুশি করার উদ্দেশ্যে শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে। সুতরাং মোবাইলের রিংটোন হিসেবে এগুলোর প্রয়োগ অপব্যবহারের অন্তর্ভূক্ত। কারণ মোবাইলে রিং এসেছে, কেউ কথা বলতে চায় এই খবর দেওয়ার জন্য। আর এই কাজে আল্লাহ তাআলার পবিত্র কালাম ওহী, জিকির ও তাসবীহের ব্যবহার যে এগুলোর অপাত্রে ব্যবহার গ্রহণযোগ্য নয়।

আজান, জিকির, তাসবীহ ও কুরআনের তেলাওয়াত ইত্যাদি রিংটোন হিসাবে ব্যবহারে ইসলামী শরীয়তে অনেক আপত্তি রয়েছে। যেমন: (ক) রিং আসলে কুরআনের তিলাওয়াত বেজে উঠছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে ব্যস্ততার কারণে তিলাওয়াতের প্রতি ভ্রক্ষেপ করারই সুযোগ হয় না। তদ্রুপ কে রিং করেছে তা দেখা ও কল রিসিভ করার ব্যস্ততা তো লেগেই থাকে এ কারণেও তিলাওয়াতের আদব রক্ষা করে শ্রবণ করা হয় না।

(খ) রিং আসলে যেহেতু রিসিভের জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়ে এবং এটিই মূল উদ্দেশ্য থাকে তাই আয়াতের যেকোনো স্থানেই তিলাওয়াত চলতে থাকে সে দিকে ভ্রক্ষেপ না করে রিসিভ করে ফেলে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে উচ্চারিত অংশের বিবেচনায় আয়াতের অর্থ বিকৃত হয়ে যায়।

(গ) মোবাইল নিয়ে টয়লেট কিংবা বাথরুমে প্রবেশের পর রিং আসলে অপবিত্র স্থানে আল্লাহ তাআলার পবিত্র কালাম, জিকির ও আজান বেজে উঠবে, এতে এগুলোর পকিত্রতা ক্ষুন্ন হয়।

মোটকথা অনেক কারণেই তিলাওয়াত, আজান ও জিকিরকে রিংটোন হিসাবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা জরুরি। (ফাতওয়ায়ে আলমগীরী ৫/৩১৫; রদ্দুল মুহতার ১/৫১৮; মুফতী মুহাম্মাদ শফী রহ.আলকাফী ১/৩৭৬; আলআশবাহ ৩৫)





 


১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ২০:৪৩:০১