হজের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
দেলোয়ার হোসেন
অ+ অ-প্রিন্ট
হজ ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ ও মৌলিক ইবাদত। সচ্ছল মুসলিম নর-নারীর ওপর হজ পালন করা ফরজ। জিলহজ মাসের নির্দিষ্ট তারিখে পবিত্র বায়তুল্লাহ বা কাবাঘর প্রদক্ষিণ, আরাফাত ময়দানের মহাসম্মিলনে যোগদানসহ অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা পালনের মাধ্যমে হজ আদায় করতে হয়। হজ পালনকারীকে এ সময় যথাযথ নির্দেশিত নিয়ম মেনে চলতে হয়। হজ পালনের সময় একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকতে হয়। একদিকে একনিষ্ঠ ইবাদত-বন্দেগি, অন্যদিকে নিরহংকার, অনাড়ম্বর ও নির্মোহ জীবনযাপনের মাধ্যমে হজ পালনকারীদের আত্মা ষড়রিপুর কুপ্রভাব থেকে কলুষমুক্ত ও বিশুদ্ধ হয়। হজের মাধ্যমে যেমন আত্মার উন্নতি সাধিত হয়, তেমনি গুনাহও দূরীভূত হয়। হাদিসে আছে, ‘পানি যেমন ময়লা-আবর্জনা দূর করে, তেমনি হজও গুনাহ দূর করে।’

হজ শুধুই ইবাদত নয়, বিশ্বভ্রাতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এর গুরুত্ব ও তাৎপর্য ব্যাপক। হজের সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ পবিত্র মক্কা নগরীতে একত্রিত হয়। ভাষা-বর্ণের ভিন্নতা, সাংস্কৃতিক-জাতীয় পরিচয়ের পার্থক্য ও ভৌগোলিক দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও বিশ্বমুসলিমের ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত এবং সুসংহত হয় পবিত্র হজ উদযাপনে। বিশ্বমুসলিমের পারস্পরিক দুঃখ-অভাব, অভিযোগ-সমস্যা সম্পর্কে অবগত হওয়া ও তার সমাধানের সুযোগ হয় পবিত্র হজের বিশ্বসম্মিলনে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও রাজনৈতিক সংহতিতেও হজের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। আরাফাত ময়দানে অবস্থান হজের অন্যতম জরুরি কাজ। এর প্রধান উদ্দেশ্য সমবেত বিশ্বমুসলিমের করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে বিশ্বনেতাদের দিকনির্দেশনা প্রদান। মহানবী (সা.)-এর হজ থেকে এ শিক্ষাই পাওয়া যায়। তিনি বিদায় হজের সময় আরাফাত ময়দানে উপস্থিত মুসলিমদের উদ্দেশে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিকসহ বিভিন্ন বিষয়ের দিকনির্দেশনা দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভাষণ দিয়েছেন।

হজের প্রতিটি বিধানেই রয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও নিজস্ব ঐতিহ্য। কাবাঘর প্রদক্ষিণ ও পশু কোরবানির মাধ্যমে হজরত ইবরাহিম ও ইসমাঈলের আদর্শ-ত্যাগের প্রতি প্রকাশ করা হয় গভীর শ্রদ্ধা। জামারায় পাথর নিক্ষেপের সঙ্গে জড়িত আছে শয়তানের প্রতি বালক ইসমাইলের অবজ্ঞার নিদর্শন। আবার সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে দৌড়ানোর মধ্যে নিহিত আছে শিশুপুত্র হজরত ইসমাঈলের প্রতি বিবি সারার ব্যাকুলতার ঘটনা। প্রকৃতপক্ষে হজ একটি ঐতিহ্যবাহী অনন্য ফরজ ইবাদত ও বিশ্বমুসলিম সম্মিলন। হজের মাধ্যমে বিশ্বমুসলিমের আধ্যাত্মিক-নৈতিক উন্নতি, সামাজিক-রাজনৈতিক সংহতি, অর্থনৈতিক-সাংস্কৃতিক সমৃদ্ধি এবং আধুনিক বিশ্বব্যবসায় ইসলাম-মুসলিমের অবস্থান সুসংহত ও সুদৃঢ় হবে-এটাই প্রত্যাশা

 

 

 

২৭ জুলাই, ২০১৮ ১১:০১:৫১