পবিত্র রমজানে সাহরি ও ইফতারের ফজিলত
মাহবুবুর রহমান নোমানি
অ+ অ-প্রিন্ট
সাহরি বরকতের খানা : সুবহে সাদিকের আগে রোজারদার যে আহার গ্রহণ করে, তাকে সাহরি বলা হয়। সাহরি খাওয়া সুন্নত। এর সওয়াব ও বরকত অফুরন্ত। রাসুল (সা.) সাহরিকে বরকতের খাবার আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা সাহরি খাও, তাতে বরকত রয়েছে।’ (বোখারি : ১৯২৩)। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে, ‘সাহরি ভক্ষণকারীদের প্রতি আল্লাহ তায়ালা রহমত নাজিল করেন আর ফেরেশতারা মাগফেরাতের দোয়া করেন।’ (ইবনে হিব্বান : ২৪৬)। সাহরি খাওয়ার প্রতি রাসুল (সা.) অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা সাহরি বর্জন করো না। অন্তত একটি খেজুর অথবা একঢোক পানি হলেও পান করো।’ আমর ইবনুল আস (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমাদের ও আহলে কিতাবদের রোজার মাঝে পার্থক্য হলো সাহরি।’ (মুসলিম : ১০৯৬)। সুতরাং সাহরি আহারে নবীজির সুন্নতের অনুসরণ যেমন হয়, তেমনি আহলে কিতাবদের বিরোধিতাও হয়। কেননা তারা সাহরি না খেয়ে রোজা রাখে। অধিকন্তু সাহরি ভক্ষণে দেহে শক্তি অর্জিত হয় এবং ইবাদতে অধিক একাগ্রতা সৃষ্টি হয়।

সাহরি রাতের শেষ ওয়াক্তে খাওয়া উত্তম। হজরত যায়েদ বিন সাবিত (রা.) বলেন, আমরা নবীজির সঙ্গে সাহরি খেতাম। এরপর আমরা নামাজে দাঁড়িয়ে যেতাম। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, ‘আজান ও সাহরি খাওয়ার মাঝে কতটুকু সময় ব্যবধান হতো? তিনি বললেন, ৫০টি আয়াত পাঠ করা পরিমাণ।’ (বোখারি ও মুসলিম)।

ইফতারের সময় : সূর্য অস্তমিত হলে বিলম্ব না করে ইফতার করা সুন্নত। অকারণে ইফতার বিলম্ব করা মাকরুহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘মানুষ যতদিন তাড়াতাড়ি ইফতার করবে, ততদিন দ্বীন বিজয়ী থাকবে। কেননা ইহুদি ও খ্রিস্টানরা ইফতার বিলম্বে করে।’ (আবু দাউদ ও ইবনে মাজাহ)। অন্য হাদিসে এসেছে, ‘মানুষ যতদিন তাড়াতাড়ি ইফতার করবে, ততদিন তারা কল্যাণপ্রাপ্ত হবে।’ (বোখারি ও মুসলিম)। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘যারা তাড়াতাড়ি ইফতার করে তারা আমার প্রিয়পাত্র।’ (তিরমিজি : ৬৯৬)।

ইফতারের সুন্নত : সালমান ইবনে আমের (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এরশাদ করেছেন, ‘তোমাদের কেউ ইফতার করলে খেজুর দ্বারা করবে, কেননা এটি বরকতপূর্ণ। খেজুর না পেলে পানি দ্বারা ইফতার করবে, এটা পবিত্র।’ (তিরমিজি : ৬৫৩)। সারা দিন উপবাসের পর শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। সুতরাং এমন বস্তু দ্বারা ইফতার করা উচিত যা দ্রুত হজম হয় এবং শক্তি তৈরি করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, খেজুর দ্বারা ইফতার গ্রহণ রোজাদারের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

ইফতারের ফজিলত : ইফতারের ফজিলত অপরিসীম। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, তার গোনাহগুলো মাফ হয়ে যাবে। সে জাহান্নাম থেকে মুক্তি পাবে এবং রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। কিন্তু এতে রোজাদারের সওয়াব কমবে না।’ সাহাবায়ে কেরাম আরজ করলেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! আমাদের প্রত্যেকের তো রোজাদারকে ইফতার করানোর সামর্থ্য নেই! প্রিয়নবী (সা.) বললেন, ‘দয়াবান আল্লাহ এ সওয়াব ওই ব্যক্তিকেও দেবেন, যে শুধু এক পেয়ালা দুধ অথবা একটি খেজুর বা সামান্য পানি দ্বারা রোজাদারকে ইফতার করাবে। আর যে ব্যক্তি রোজাদারকে তৃপ্তিসহ খানা খাওয়াবে, আল্লাহ তাকে হাউসে কাওসার থেকে পানি পান করাবেন, ফলে সে জান্নাতে প্রবেশের আগ পর্যন্ত পিপাসিত হবে না।’ (মেশকাত)।

ইফতার দোয়া কবুলের মুহূর্ত : রমজান মাসে আল্লাহ অবারিত রহমতের দ্বার উন্মুক্ত থাকে। এ মাসে ক্ষমা ও মাগফিরাতের বাহানা তালাশ করা হয়। বিশেষ করে রমজানে ইফতারের মুহূর্তটি রোজাদারের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে দোয়া কবুল হয় বলে একাধিক হাদিস বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, রোজাদারের জন্য দুইটি আনন্দময় মুহূর্ত রয়েছে। ১. ইফতারের সময়, ২. আখেরাতে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাতের সময়। (বোখারি ও মুসলিম)। ইফতারের মুহূর্তে রাসূল (সা.) থেকে বিভিন্ন দোয়া বর্ণিত রয়েছে। সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত দোয়া হচ্ছে, ‘ইয়া ওয়াসিয়াল ফাদলি ইগফির লি।’ অর্থÑ ‘হে অপার দয়ার মালিক, আমাকে ক্ষমা করে দাও।’

২১ মে, ২০১৮ ১১:৩৫:৩৪