এসময়টি ছিল হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)- সময়, অন্য কারও না; আমি না হয়ে অন্য কেউও যদি আসত তবে মসীহ্ হয়েই আসত
অ+ অ-প্রিন্ট
THURSDAY NOVEMBER 23, 2017

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

আমাদের প্রাণপ্রিয় ইমাম হযরত খলীফাতুল মসীহ্ আল-খামেস (আই.) আজ ১৭ নভেম্বর, ২০১৭ লন্ডনের বায়তুল ফুতুহ মসজিদ থেকে হযরত মসীহ্ মওউদ  ও  ইমাম মাহ্দী (আ.)-এর সত্যতা  তুলে ধরে জুমুআর খুতবা প্রদান করেন।

হুযুর (আই.) তাশাহহুদ, তাআ’ব্বুয ও সূরা ফাতিহা পাঠের পর বলেন, এসময়টি ছিল হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)- সময়, অন্য কারও না; আমি না হয়ে অন্য কেউও যদি আসত তবে মসীহ্ হয়েই আসত। হুযুর (আই.) সেই সময়ের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন যে সেই যুগটি ইসলামের জন্য যাদের প্রকৃতই ভালবাসা ছিল, তাদের জন্য চরম কষ্টের ছিল। লক্ষ লক্ষ মুসলমান খ্রিষ্টান হয়ে গিয়েছিল, মহানবী (সা.)-এর ভবিষ্যদ্বাণী অনুসারে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল যে ঈমান যেন সপ্তর্ষিমন্ডলে চলে গিয়েছিল। কার্যত মুসলমানদের মধ্যে ধর্ম বা ইসলামের শিক্ষা অবশিষ্ট ছিল না। ইসলামের হিতাকাক্সক্ষী ব্যক্তিরা এই অপেক্ষায় ছিলেন যে মসীহ্ আবির্ভূত হয়ে যেন ইসলামের ডুবুডুবু প্রায় নৌকার হাল ধরেন। এমনই একজন বুযুর্গ ছিলেন লুধিয়ানা নিবাসী হযরত সূফী আহমদ জান সাহেব, যিনি তাঁর ধার্মিকতার জন্য অত্যন্ত প্রসিদ্ধ ছিলেন এবং অনেক বড় বড় ব্যক্তি তাঁর মুরীদ ছিলেন। সূফী সাহেবের সাথে মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর অত্যন্ত গভীর সম্পর্ক ছিল। যদিও মসীহ্ মওউদ (আ.) তখনও কোন প্রকার দাবী করেন নি, কিন্তু হযরত সূফী সাহেব নিজের এক পঙক্তিতে তাঁর (আ.)-এর প্রতি আকুল আহ্বান জানান যার অর্থ হল ‘আমরা সব (আধ্যাত্মিকভাবে) অসুস্থরা তোমারই পানে চেয়ে আছি, খোদার দোহাই তুমি মসীহা হও’। মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর দাবীর পূর্বেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন, কিন্তু তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে হুযুর (আ.) যুগের মসীহ্ হতে চলেছেন। তাই তিনি মৃত্যুর পূর্বেই নিজ সন্তান ও মুরীদদের একথা বলে যান, যখন মির্যা সাহেব দাবী করবেন- তারা যেন তাঁকে গ্রহণ করে। মোটকথা সে যুগের আধ্যাত্মিক দৃষ্টিসম্পন্ন বুযুর্গরা বুঝতে পেরেছিলেন যে ইসলামের ডুবন্তপ্রায় নৌকাকে যদি কেউ সামলাতে পারে তবে তিনি হলেন মির্যা গোলাম আহমদ কাদিয়ানী (আ.), যিনি বারাহীনে আহমদীয়া নামক অসাধারণ গ্রন্থ রচনা করে ইসলামের সুরক্ষা করেছিলেন। যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি (আ.) কোন দাবী উত্থাপন করেন নি, ততক্ষণ পর্যন্ত অধিকাংশ আলেম-উলামাও তাঁর (আ.) প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিল। কিন্তু যে মুহূর্তে তিনি (আ.) আল্লাহ্র নির্দেশে প্রতিশ্রুত মসীহ্ হবার দাবী উত্থাপন করেন, সাথে সাথে এই উলামারাই নিজেদের জাগতিক স্বার্থের কারণে তাঁর (আ.) বিরোধিতা শুরু করে। আজ পর্যন্ত এসব আলেম-উলামা সেই একই অবস্থানে রয়েছে এবং সাধারণ মুসলমানদের মনে তাঁর (আ.) ও তাঁর জামাতের বিরুদ্ধে ঘৃণা সৃষ্টি করে চলেছে।

হুযুর (আই.) বলেন, হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.) অজ¯্র স্থানে তাঁর দাবীর সত্যতার প্রমাণ তুলে ধরেছেন এবং যুগের চাহিদা অনুসারে প্রতিশ্রুত মসীহ্র আগমনের আবশ্যকতা, তাঁর (আ.) প্রতি ঐশী সাহায্য-সমর্থনের নিদর্শন ইত্যাদি তুলে ধরেছেন। যারা স্বচ্ছ-হৃদয় ছিলেন, তারা তো বুঝতে পেরেছেন; কিন্তু যাদের হৃদয়ে ঘৃণা-বিদ্বেষ ও জগতের মোহ ছিল, তারা বুঝতে পারে নি। অতঃপর হুযুর (আই.) হযরত মসীহ্ মওউদ (আ.)-এর এ সংক্রান্ত বেশ কিছু উদ্ধৃতি তুলে ধরেন।

তিনি লিখেছেন যে আমার দাবীর প্রসঙ্গ বাদ থাকুক; যারা আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তারা কার্যত ইসলামকেও বিসর্জন দিয়ে বসে। কেননা ইসলামের এরূপ করুণ দশায় আল্লাহ্র পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত ব্যক্তি আসবেনÑ একথার ঘোষণা কুরআনে আল্লাহ্ তা’লার পক্ষ থেকে ও হাদীসে মহানবী (সা.)-এর পক্ষ থেকে দেয়া রয়েছে। তাই একেবারে ঠিক সময়ে তাঁকে (আ.) প্রেরণ করায় আল্লাহ্ ও রসূল (সা.)-এর কথা সত্য প্রমাণিত হয়েছে। যে ব্যক্তি এই সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে সে তো যালেম। তাঁর (আ.) এই লেখাটি ১৯০৩ সালের। তিনি বলেন, আমার দাবীর পর ২২ বছর পার হয়েছে, এখনও আল্লাহ্র সাহায্য-সমর্থন আমার পক্ষে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। যদি আমি মিথ্যাবাদীই হতাম, তবে কি খোদার সমর্থন পেতাম? তিনি বলেন, এ যুগে ইসলামের মধ্যে যত অরাজকতা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে আমাদের বিরুদ্ধবাদীরাও একথা স্বীকার করে যে মসীহ্ আসার যুগ এটিই। যদি আমাকে অস্বীকার কর তবে প্রকৃতপক্ষে কে এসেছে, তাকে দেখাও! যুগের অবস্থা ও ইসলামের অবস্থা স্পষ্ট নির্দেশ করছে যে একজন সংস্কারক আসতে হবে, যদি আমাকে অস্বীকার কর তবে দুটি পথের কোন একটি বেছে নিতে হবেÑ হয় অন্য একজন সংস্কারক দেখাতে হবে নতুবা আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে হবে। তিনি (আ.) সে যুগে ইসলামের উপর খ্রিষ্টানদের লেখনীর মাধ্যমে আক্রমণের ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরে বলেছেন, যদি এরপরও কেউ মনে করে যে ইসলামের কোন সমস্যাই নেই তবে বুঝতে হবে ইসলামের প্রতি তার কোন সমবেদনাই নেই। এরূপ যুগের দাবী হল খোদার পক্ষ থেকে কোন মহান সংস্কারক যেন আসেন ও এসবের বিহিত করেন। তিনি (আ.) আয়াতে ইস্তেখলাফের ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এটি তুলে ধরেন যে মূসা (আ.) ও মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মতদ্বয় পরস্পর সদৃশ। এই আয়াতের প্রতিশ্রুতি অনুসারে যেভাবে মূসার ১৪০০ বছর পরে ঈসা (আ.) এসেছেন তেমনিভাবে মুহাম্মদ (সা.)-এর ১৪০০ বছর পর ঈসা সদৃশ এক ব্যক্তির আগমন আবশ্যক। তিনি (আ.) সূরা জুমুআর ৪নং আয়াত ব্যাখ্যার মাধ্যমেও এটি প্রমাণ করেন যে ইসলামের প্রচারের পূর্ণতার যুগ মহানবী (সা.)-এর দাস প্রতিশ্রুত মসীহ্র যুগ, যা হল বর্তমান যুগ। কারণ প্রচারের পূর্ণতার জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় উপকরণাদি এই যুগে আল্লাহ্ সৃষ্টি করেছেন। অতএব এটিও মহানবী (সা.)-এরই মর্যাদা বৃদ্ধির কারণ, তাঁর (সা.)-ই এক দাসের মাধ্যমে তাঁর ধর্ম এত প্রচার ও প্রসার লাভ করবে। যদি মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে অস্বীকার করা হয় এবং তাঁকে মিথ্যাবাদী বলে প্রত্যাখ্যান করা হয়, তবে আয়াতে ইস্তেখলাফে বর্ণিত আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতিকেও অস্বীকার করতে হবে, একইসাথে সূরা জুমুআয় বর্ণিত প্রতিশ্রুতিকেও মিথ্যা প্রতিপন্ন করতে হবে এবং সূরা হিজরের ১০নং আয়াতে বর্ণিত আল্লাহ্র প্রতিশ্রুতিকেও মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। মোটকথা যারা মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, মৌখিকভাবে না হলেও কার্যত তারা অতি অবশ্যই কুরআনকেও মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আর ফলতঃ তারা আল্লাহ্কেও পরিত্যাগ করে। সুতরাং মসীহ্ মওউদ (আ.)-কে অস্বীকার করার বিষয়টি কোন সাধারণ ছোটখাটো বিষয় নয়, অত্যন্ত ভয়াবহ বিষয়। @BanglaDesk  

২৪ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:১৭:৫৭