পবিত্র আখেরি চাহার শোম্বার গুরুত্ব ও মর্যাদা
শাহ্ আবদুস সাত্তার
অ+ অ-প্রিন্ট
ফার্সি শব্দমালা ‘আখরি চাহার শোম্বার’ অর্থ শেষ বুধবার। আরবি সফর মাসের শেষ বুধবারে আমাদের প্রিয় নবী করীম (স) জীবনে শেষ বারের মতো রোগ মুক্তি লাভ করেন। আর এ কারণেই সফর মাসের শেষ বুধবারকে বলা হয় আখেরি চাহার শোম্বা। গোটা মুসলিম বিশ্ব এ দিবসটিকে প্রতি বছর শুকরিয়া দিবস অর্থাত্ খুশির দিন হিসেবে উদযাপন করে আসছে। তাই মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে আখেরি চাহার শোম্বার গুরুত্ব ও মর্যাদা কোনো অংশে কম নয়। 

কঠিন রোগ ভোগের পর সুস্থ শরীরে রাসূলে পাক (স) এর মসজিদে নববীতে আগমন ও নামাজের ইমামতি করায় সাহাবাবৃন্দ অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং রাসূলে করীম (স) এর সুস্থতা ও রোগ মুক্তি দেখে খুশির আতিশয্যে প্রত্যেকই প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-দুঃখিদের মাঝে দান খয়রাত করেন। মেশকাতুল আনোয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, এ খুশিতে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) ৭ হাজার দিনার, হজরত ওমর ফারুক (রা) ৫ হাজার দিনার, হজরত ওসমান (রা) দশ হাজার দীনার এবং হজরত আলী (রা) তিন হাজার দীনার এবং হজরত আবদুর রউফ ইবনে আউফ (রা) একশত উট ও একশত ঘোড়া আল্লাহ পাকের নামে গরিব মিসকিনের মধ্যে দান করেন।

আল্লাহর প্রিয় নবী করীম (স) ওফাতের পূর্ববর্তী সফর মাসের শেষ ভাগে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি এ মাসেরই ২৭ কিংবা ২৮ তারিখ বুধবার অতি প্রত্যুষে জেগে উঠে বলেন, কে আছো আমার কাছে? হজরত রাসূলে করীম (স) এর ডাকটুকু উম্মুল মোমেনীন হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা) এর কর্ণগোচর হলে তিনি দৌড়ে এসে বলেন, হে আল্লাহর নবী, আমি আপনার কাছেই আছি। রাসূল (স) বললেন, আয়েশা, আজ যেন আমি অনেকটা সুস্থ বোধ করছি। শরীরটাও বেশ হালকা মনে হচ্ছে। বোধ করি আমি সুস্থ হয়ে গেছি। কথা কয়টি শোনার পর হজরত আয়েশা (রা) সীমাহীন আনন্দ ও খুশিতে বিহ্বল হয়ে পড়েন। তিনি কাল বিলম্ব না করে রাসূলে পাক (স) এর শির ও শরীর মুবারক পবিত্র পানি দিয়ে উত্তমভাবে গোসল করিয়ে দেন। ফলে দীর্ঘদিনের পীড়াজনিত ক্লান্তি, দুর্বলতা আরো কমে যায়। রাসূল পাক (স) হযরত আয়েশা (রা) কে বললেন, হে আয়েশা, ঘরে খাবার কিছু আছে কী? ঘরে সামান্য রুটি তৈরি ছিল। তাই নিয়ে এলেন হযরত আয়েশা (রা)। রাসূল (স) বললেন, আয়েশা, সত্বর আমার মা ফাতেমাকে খবর দাও। সে যেন নাতিদ্বয়কে নিয়ে এখনই আমার কাছে চলে আসে। মা ফাতেমা সংবাদ পাওয়া মাত্র পুত্রদ্বয়কে নিয়ে ব্যাকুল হূদয়ে হযরত রাসূলে করীম (স) এর খেদমতে হাজির হলেন। রাসূলে করীম (স) তার আদরের মা ফাতেমার গলদেশে স্নেহের পরশ বুলিয়ে নাতিদ্বয় হাসান হোসাইনের কপালে মৃদু চুম্বন করলেন এবং সকলকে নিয়ে রুটি খেতে বসলেন। ইতিমধ্যে রোগ মুক্তির খবর পেয়ে হজরত নবী পাক (স) এর অন্যান্য বিবিগণ ও বিশিষ্ট সাহাবাবৃন্দও এসে জড়ো হলেন। অতঃপর হযরত রাসুলে পাক (স) মসজিদে নববীতে গমন করে ওয়াক্তিয়া নামাজের ইমামতি করতে সমর্থ হন। কঠিন রোগ ভোগের পর সুস্থ শরীরে রাসূলে পাক (স) এর মসজিদে নববীতে আগমন ও নামাজের ইমামতি করায় সাহাবাবৃন্দ অত্যন্ত আনন্দিত হলেন এবং রাসূলে করীম (স) এর সুস্থতা ও রোগ মুক্তি দেখে খুশির আতিশয্যে প্রত্যেকই প্রত্যেকের সামর্থ্য অনুযায়ী গরিব-দুঃখিদের মাঝে দান খয়রাত করেন। মেশকাতুল আনোয়ার গ্রন্থে উল্লেখ আছে, এ খুশিতে হজরত আবু বকর সিদ্দিক (রা) ৭ হাজার দিনার, হজরত ওমর ফারুক (রা) ৫ হাজার দিনার, হজরত ওসমান (রা) দশ হাজার দীনার এবং হজরত আলী (রা) তিন হাজার দীনার এবং হজরত আবদুর রউফ ইবনে আউফ (রা) একশত উট ও একশত ঘোড়া আল্লাহ পাকের নামে গরিব মিসকিনের মধ্যে দান করেন।

মোদ্দাকথা, হজরত রাসূলে করীম (স) এর রোগমুক্তি, শেষ গোসল এবং সুস্থ দেহে মসজিদে নববীতে ইমামতি ইত্যাদি কারণে এই দিবসটি অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ। এ কারণেই সাহাবাবৃন্দের নীতি অনুসরণে সমগ্র মুসলিম বিশ্ব তথা আমরাও শুকরিয়া  ও আনন্দ প্রকাশের জন্য আখেরি চাহার শোম্বার এই মহান দিনটি বিশেষ মর্যাদা সহকারে উদযাপন করে থাকি। সুতরাং, আখেরি চাহার শোম্বার এই পবিত্র দিনে অজু- গোসল করে নফল নামাজ আদায়, ইবাদত-বন্দেগি করা এবং রাসূলে পাক (স) এর ওপর পবিত্র কোরআন-খানি, মিলাদ পাঠ, দান-খয়রাত, দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে দিবসটি অতিবাহিত হলে এতে প্রভূত কল্যাণ ও পুণ্য সাধিত হবে।

 

১৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০৯:১৩:১৩