ইসলামের আলোকে পোশাক-পরিচ্ছদ
মাওলানা নাসির উদ্দিন
অ+ অ-প্রিন্ট
পোশাক মানুষের জন্য পানাহারের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পানাহারের ক্ষেত্রে অনেক সময় বেশ কিছুক্ষণ ধৈর্য ধরা যায়, কিন্তু কখনো পোশাক ছাড়া চলাফেরা করা যায় না। কত জরুরি পোশাকের বিষয়টি! এর গুরুত্ব আরও স্পষ্ট হয় হজরত আদম (আ.) এর একটি ঘটনা থেকে।

আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারিমে পোশাকের কথা উল্লেখ করেছেন।এর দ্বারা পোশাকের গুরুত্ব উপলব্ধি করা যায়।

হজরত আদম (আ.) কে আল্লাহ তায়ালা যখন জান্নাত থেকে জমিনে নামিয়ে দেন তখন প্রথমে তাদের পোশাক ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তখন তিনি চিন্তা করেননি যে কী খাব, এটা ভেবেছিলেন যে গায়ে কী দেব, শরীর কী দিয়ে ঢাকবো, লজ্জাস্থান কী দিয়ে আবৃত করব। তখন গাছের পাতা ছিঁড়ে তা দিয়ে লজ্জাস্থান আবৃত করেন।

আল্লাহ তায়ালা পোশাক সম্পর্কে সুরা আরাফের ২৬-২৭ আয়াতে আদম-সন্তানদের পোশাক সম্পর্কে বলেছেন।  পোশাক শুধু মুসলিমদের জন্যই যে প্রয়োজন তা নয়, বরং প্রত্যেক মানুষেরই প্রয়োজন। মানুষের প্রকৃতিতে আছে লজ্জাস্থান ঢেকে রাখা।

আল্লাহ তায়ালা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, ‘হে নবী, বলুন আপনার স্ত্রীদেরকে, কন্যাদেরকে ও মুমিন নারীদেরকে, তারা যেন তাদের চাদরের কিছু অংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়।’ (সুরা আহযাব, আয়াত : ৫৯)

অন্যত্র আল্লাহ বলেছেন, ‘মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানকে হেফাজত করে। এটাই তাদের জন্য উত্তম। তারা যা করে নিশ্চয় আল্লাহ সে বিষয়ে অবগত আছেন। আর মুমিন নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত করে এবং তাদের লজ্জাস্থানের হেফাজত করে। তারা যেন তাদের ঘাড় ও বক্ষদেশ যেন মাথার কাপড় দ্বারা আবৃত করে।(সুরা নূর, আয়াত : ৩০-৩১)

হজরত উসামা (রা.) বলেন, নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে একটি কুবতি চাদর দিলেন, যা তাঁকে দিহয়া কালবী (রা.) হাদিয়া দিয়েছিলেন। আমি তা স্ত্রীকে দিয়ে দিলাম। একদিন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘তুমি সেই কুবতি চাদরটি পরো না কেন? আমি বললাম ইয়া রাসুলুল্লাহ চাদরটি আমার স্ত্রীকে দিয়েছি। তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাকে বলবে কাপড়টির নিচে যেন আরেকটি কাপড় ব্যবহার করে। কেননা, ওই কাপড়ে অঙ্গ প্রত্যঙ্গের আকার ফুটে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। (মুসনাদে আহমাদ, ৫/২০৫)

কোরআনের আয়াত ও হাদিসের দ্বারা বোঝা যায়, পোশাকের মাধ্যমে নারী ও পুরুষের সম্মান যেমন বাড়ে আবার তেমনি কমে। কিন্তু বর্তমান সমাজে নারীরা এমন কিছু পোশাক পরে যা তার নিজেরই শুধু ক্ষতি করছে না বরং সমাজেরও ক্ষতি। ছেলেরা মেয়েদের প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছে, এর ফলে সামাজিক অস্থিরতা হচ্ছে, আর অনেক সময়  রক্তপাতের ঘটনাও ঘটছে।

পুরুষ ও নারীর পোশাক যেন কাফিরদের সাদৃশ্য না হয়। অর্থাৎ তাদের পোশাকে যেন কাফিরদের ধর্মীয় চিন্তা না থাকে।

এমন পোশাক পরা যাবে না যাতে খ্যাতি অর্জন করা উদ্দেশ্য হয়, সবার কাছে প্রসিদ্ধ হওয়া উদ্দেশ্য হয়। এ সম্পর্কে রসুল (সা.) বলেন, ‘কেউ যদি খ্যাতি অর্জনের জন্য পোশাক পরিধান করে তাহলে আল্লাহ তাকে কিয়ামতের দিন লাঞ্ছনার পোশাক পরাবেন। ’

পুরুষের লেবাস টাখনু গিরার নিচে যাওয়া হারাম। আর মহিলাদের লেবাস টাখনু গিরা ঢেকে থাকবে।

পুরুষের ক্ষেত্রে রেশমের কাপড় পরা জায়েজ নয়। নবী (সা.) বলেন, ‘পুরুষের জন্য রেশমের কাপড় ও সোনা হারাম কিন্তু মহিলাদের জন্য তা হালাল। যেসব পুরুষ রেশমের কাপড় পরবে তারা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। ’

পুরুষের জন্য সব রঙের পোশাক পরার অনুমতি নেই। কিন্তু নারীর জন্য সব রঙের পোশাক পরা জায়েজ। পুরুষের জন্য কুসুম-লাল, হলুদ, জাফরান, গোলাপি রং নিষিদ্ধ। তাদের জন্য সাদা রঙের পোশাকই সর্বোত্তম।

লেবাস-পোশাকের ক্ষেত্রে আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ বিষয় হলো, লেবাস-পোশাকের যে উদ্দেশ্য লেবাস-পোশাক দ্বারা সে উদ্দেশ্য পূরণ করতে হবে।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে কবুল করুন।

(আমিন)

২৮ অক্টোবর, ২০১৭ ১০:১৯:৩৭