নামাজের কাতার সোজা রাখার গুরুত্ব
মাহমুদ সালেহীন খান ইসলাম
অ+ অ-প্রিন্ট
নামাজ এমন একটি ফরজ ইবাদত, যা দিনে পাঁচবার মুসলমানদের পরস্পরে একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দেয়। নামাজ পরস্পরের মাঝে সৌহার্দ সৃষ্টি করে একে অন্যের কাছাকাছি আনে। নামাজ সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করে থাকে। নামাজে ধনী-গরিবের মাঝে কোনো ব্যবধান থাকে না। নামাজের বিশেষ শিক্ষা হলো একতা, শৃঙ্খলা ও ভ্রাতৃত্ববোধ। নামাজে যাবতীয় কল্যাণ নিহিত রয়েছে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সান্নিধ্যে আসার বড় নেয়ামত। হাশরের ময়দানে শেষ বিচারের দিন প্রথম নামাজের হিসাব নেয়া হবে। যার নামাজ শুদ্ধভাবে কবুল হবে, তার অন্যান্য আমলনামা অনেক সহজ হয়ে যাবে। কোরআনের বহু আয়াতে নামাজের গুরুত্বের কথা বলা হয়েছে। বিশেষ করে জামাতে নামাজ পড়ার ব্যাপারে আমাদের নবী মুহাম্মদ (সা.) বিশেষ ফজিলতের কথা বলেছেন। মুসলমান কোনো বিপদে পড়লে, কোনো শুকরিয়া আদায় করলে নামাজের মাধ্যমই করে থাকে। নামাজ সব ধরনের পাপ কাজ থেকেও বিরত রাখে মোমিন বান্দাকে। তাই নামাজ কেন, সর্বাগ্রে এটা আমাদের বুঝতে হবে। জানতে হবে নামাজের বিধান ও নামাজে কাতার সোজা করে দাঁড়ানোর তাৎপর্য। নামাজের কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়ানো, কাতারের মাঝখানে ফাঁকা না রাখাÑ এসব নামাজের অন্যতম সৌন্দর্য। ধনী-গরিব, রাজা-প্রজা সবাই এক কাতারে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজে দাঁড়াবে। নামাজে কাতারের প্রতি উদাসীন হলে নামাজ পূর্ণ হবে না। তাই মসজিদে যখন জামাতের সময় হয়, তখন ইমাম প্রথমেই কাতার ঠিক করার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন করেন। 

সমাজের অনেক লোক আছেন, তারা গুরুত্ব দিয়ে নামাজ আদায় করেন ঠিকই; কিন্তু নামাজের কাতার সোজা হলো-না বাঁকা হলো, সেদিকে লক্ষ করেন না। তারা মনে করেন, মসজিদে তো অনেক জায়গাই রয়েছে, তাই একটু ফাঁকা হয়ে দাঁড়ালে ক্ষতি কী? এ মনোভাব ইসলামসম্মত নয়। হাদিসে এভাবে নামাজে দাঁড়ানোকে নিষেধ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে হাদিসে এরশাদ হচ্ছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কাতার সোজা করো, কাঁধের সঙ্গে কাঁধ বরাবর করো, ফাঁক বন্ধ করো, শয়তানের জন্য কোনো ফাঁক রাখবে না। যে ব্যক্তি কাতারের সংযোগ স্থাপন করে  আল্লাহ তার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেন। আর যে কাতার ছিন্ন করে, আল্লাহ তার সঙ্গে সংযোগ ছিন্ন করেন।’ (আবু দাউদ)।

আমাদের দেশে সাধারণ নিয়ম অনুসারে ইমাম একামত হওয়ার পর বলেন, ‘কাতারের মাঝখানে ফাঁকা রাখবেন না, কাছাকাছি দাঁড়ান, কাতার সোজা করে দাঁড়ান।’ তারপর আল্লাহু আকবর বলে নামাজ শুরু করে থাকেন। নামাজের জন্য ইমাম আমাদের অনুকরণীয়, ইমামের কথা অবশ্যপালনীয়। আমরা কি মানি? কাতারে সোজা হয়ে দাঁড়াই না। তাই আমাদের মধ্যে একতা নেই, সম্প্রীতি নেই, ভালোবাসা নেই। 

নামাজের কাতার সোজা করা জামাতের একটি অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। এ বিধানকে এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, নামাজের কাতারের মাঝে ফাঁকা থাকার কারণে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ ও অনৈক্যের সৃষ্টি হয়। কাতারে ফাঁকা থাকলে সেখানে শয়তান অনুপ্রবেশ করে আমাদের নামাজ ও ঐক্যে ফাটল ধরায়। ফলে আমরা নামাজের প্রকৃত শিক্ষা ও সামাজিক উপকারিতা থেকে বঞ্চিত হই, যা মোটেও কাম্য নয়।

আমাদের সমাজে এবং বিশ্বে মুসলিম জাতির মাঝে যে বিভেদ-দ্বন্দ্ব, ধনী-গরিবের যে বৈষম্য সবকিছুই দূর হয়ে যাবে নিয়মিত জামাতের সঙ্গে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের মাধ্যমে।

 

 

০৭ জুলাই, ২০১৭ ১১:০১:৪২