সব ধর্ম ও মতের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক
অ+ অ-প্রিন্ট
ময়মনসিংহের ঈশ^রগঞ্জ উপজেলার সোহাগী অঞ্চলের সরিষা ইউনিয়নের খানপুর নামক গ্রামে আহমদীয়া মুসলিম জামাতের ছোট একটি মসজিদ রয়েছে। গত ৮ মে, সোমবার এশার নামাযের পূর্বক্ষণে ৩-৪ জন মৌলবী আহমদীয়া মসজিদের ইমাম জনাব মোস্তাফিজুর রহমান-কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। ইমাম সাহেব গত দুই বছর ধরে সেখানে ইমামতির দায়িত্ব পালন করছেন। এর পূর্বে গত ১৩ই মার্চ একদল মোল্লা অত্র এলাকায় এসে ইমামসহ ওখানকার আহমদীদের বিরুদ্ধে বিষোদগার করে এবং উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। কিন্তু স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের প্রতিরোধে তারা একাজে ব্যর্থ হয়। এরই রেশ ধরে গত কিছুদিন ধরে গ্রুপে গ্রুপে মৌলবীরা আমাদের জামাত বিষয়ে জানতে আগ্রহী বলে আমাদের মসজিদে আসছিল। তেমনিভাবে, গতকাল মুসল্লিবেশে দুর্বৃত্তরা মসজিদে আসে। তখন ইমাম সাহেব তাদেরকে মুসল্লি মনে করে দরজা খুলে দেন। এরপর তিনি মসজিদের আলো জ¦ালাতে গেলে পেছন দিক থেকে তারা তাঁকে কোপানো শুরু করে। ইমাম সাহেব কোন রকমে সেখান থেকে দৌড়ে বাইরে চলে এলে সন্ত্রাসীরা অন্ধকারের মধ্যেই মসজিদের উঠানে তাঁকে এলোপাথাড়িভাবে কোপাতে থাকে।  এসময় অন্ধকারের মধ্যে তাদেরই একজনের কোপে দুর্বৃত্তদের একজন আহত হয়। অপরদিকে ইমাম সাহেবের চিৎকার শুনে আশ-পাশ থেকে লোকজন ছুটে আসে এবং আহত দুর্বৃত্তকে ধরে ফেলে, যে বর্তমানে পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এরই মধ্যে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়। তাদের সহযোগিতায় ইমাম সাহেবকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর হওয়াতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৯ মে ভোর রাতে ইমাম সাহেবকে এম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রায় সাড়ে ছয় ঘন্টা অস্ত্রপচারের পর বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তাঁর ঘাড়ে, ডান পাঁজরের নিচে, দুই হাতে এবং বাঁ দিকের তলপেটে কিডনীর কাছে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। 

 

আমরা আহমদীয়া মুসলিম জামা’তের পক্ষ থেকে এ ধরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছি। আমরা মনে করি বিভিন্ন সময়ে যারা আমাদের উপর আক্রমণ চালিয়েছে এবং হুমকি দিয়েছে তারা এই আক্রমণের  সাথে জড়িত থাকতে পারে। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর রাজশাহীর বাঘমারাস্থ আহমদীয়া মসজিদে জঙ্গীরা আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এর ফলে বোমা বহনকারী নিজেই নিহত হয় এবং বেশ কয়েকজন আহমদীয়া মুসল্লী আহত হন। আক্রমণকারীরা যে নামেই আর যে সংগঠনের সাথেই জড়িত থাকুক না কেন এরা সব মূলত এক। আক্রমণের ধরণ ইতোপূর্বে ব্লগারদের উপর পরিচালিত আক্রমণের সাথে মিল পাওয়া যায়। 

 

আমরা সরকারের কাছে আবেদন জানাই প্রকৃত অপরাধী এবং এদের মদদ দাতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং দেশের সব ধর্ম ও মতের মানুষের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। 

 

আমাদের এই দুঃসময়ে যারা এগিয়ে এসেছেন তাদের সবার কাছে আমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। 

 

নিবেদক,  আহমদ তবশির চৌধুরী, সম্পাদক, বহিঃসম্পর্ক ও গণযোগাযোগ বিভাগ, আহমদীয়া মুসলিম জামাত, বাংলাদেশ।  মোবাইল নং- ০১৭১৩০২৪৪১৩। ইমেইল: [email protected]  

১০ মে, ২০১৭ ০৫:১৫:১২