জান্নাত সম্পর্কে মহানবীর ৪০ বাণী
রোমানা আক্তার ইসলাম
অ+ অ-প্রিন্ট
১.    রাসুল (সা.) এর উম্মতের মধ্য থেকে ৭০ হাজার ব্যক্তি বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবে। (তিরমিজি)। 

২.    যারা রাতে আরামের বিছানা থেকে নিজেদের পার্শ্বদেশকে দূরে রেখেছিল, এমন অল্প সংখ্যক লোক বিনা হিসেবে জান্নাতে প্রবেশ করবে। অবশিষ্ট সব মানুষ থেকে হিসাব নেয়ার নির্দেশ করা হবে। (বায়হাকি)। 

৩.    জান্নাতে জান্নাতবাসী প্রতি জুমাবারে বাজারে মিলিত হবে এবং জান্নাতে জান্নাতবাসীর রূপ-সৌন্দর্য বৃদ্ধি পাবে। (মুসলিম)। 

৪.    জান্নাতের স্তর হবে ১০০টি এবং জান্নাতের সর্বোচ্চ স্তর জান্নাতুল ফেরদাউস। যখন তোমরা আল্লাহর কাছে জান্নাত চাইবে তখন জান্নাতুল ফেরদাউস চাইবে। (তিরমিজি)। 

৫.    জান্নাত সারা পৃথিবী থেকে উত্তম। (মুয়াত্তা)। 

৬.    জান্নাতবাসিনী কোনো নারী (হুর) যদি পৃথিবীর দিকে উঁকি দেয়, তবে গোটা জগৎ আলোকিত হয়ে যাবে এবং আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী স্থান সুগন্ধিতে মোহিত হয়ে যাবে। তাদের মাথার ওড়নাও গোটা দুনিয়া ও তার সম্পদরাজি থেকে উত্তম। (বোখারি)। 

৭.    জান্নাতে একটি চাবুক রাখার পরিমাণ জায়গা গোটা দুনিয়া ও তার মধ্যে যা কিছু আছে তা থেকে উত্তম। (মুয়াত্তা)। 

৮.    জান্নাতের একটি গাছের নিচের ছায়ায় কোনো সওয়ারি যদি ১০০ বছরও বাহন হাঁকায় তবুও তার শেষ প্রান্ত পর্যন্ত পৌঁছতে পারবে না। (বোখারি)। 

৯.    জান্নাতে মুক্তা দিয়ে তৈরি ৬০ মাইল লম্বা একটি তাঁবু থাকবে। জান্নাতের পাত্র ও সামগ্রী হবে সোনা ও রুপার। (বোখারি) 

১০.    জান্নাতিরা পূর্ণিমা চাঁদের মতো রূপ ধারণ করে তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে। (ক) তাদের অন্তরে কোন্দল ও হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না। (খ) তারা কখনও রোগাক্রান্ত হবে না। (গ) তাদের পেশাব-পায়খানা হবে না। (ঘ) তারা থুথু ফেলবে না। (ঙ) তাদের নাক দিয়ে ময়লা ঝরবে না। (চ) তাদের চিরুনি হবে সোনার চিরুনি। (ছ) তাদের ধুনীর জ্বালানি হবে আগরের। (জ) তাদের গায়ের গন্ধ হবে কস্তুরির মতো সুগন্ধি। (ঝ) তাদের স্বভাব হবে অভিন্ন ব্যক্তির ন্যায়। (ঞ) তাদের শারীরিক গঠন হবে (আদি পিতা) আদম (আ.) এর মতো। (বোখারি)। 

১১.    জান্নাতিদের খাবারগুলো ঢেঁকুর এবং মেশকের ঘ্রাণযুক্ত ঘর্ম দ্বারা নিঃশেষ হয়ে যাবে। (বোখারি, মুসলিম)। 

১২.    জান্নাতিরা সুখে-শান্তিতে স্বাচ্ছন্দ্যে ডুবে থাকবে। তাদের হতাশা, দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনা থাকবে না। পোশাক-পরিচ্ছদ ময়লা হবে না, পুরাতন হবে না। তাদের যৌবনও নিঃশেষ হবে না। (মুসলিম)। 

১৩.    জান্নাতবাসী সব সময় জীবিত থাকবে। কখনও মৃত্যুবরণ করবে না। সব সময় যুবক থাকবে, বৃদ্ধ হবে না। (মুসলিম)। 

১৪.    জান্নাতে (এমন) একদল প্রবেশ করবে, যাদের অন্তর হবে পাখিদের অন্তরের মতো। (মুসলিম)। 

১৫.    জান্নাতবাসীর প্রতি আল্লাহ বলবেন, আমি তোমাদের ওপর সন্তুষ্টি দান করেছি, তোমাদের ওপর আর কখনও অসন্তুষ্ট হবো না। (বোখারি, মুসলিম)। 

১৬.    জান্নাতের নহরে পরিণত হবে সায়হুন, জায়হুন, ফোরাত ও নীল নদ। (মুসলিম)। 

১৭.    জান্নাতে বান্দার আশা-আকাক্সক্ষার দ্বিগুণ দেয়া হবে। (মুসলিম)। 

১৮.    জান্নাতের দরজা ৪০ বছরের দূরত্বের সমান চওড়া, এমন একদিন আসবে যে, তাও ভরপুর হয়ে যাবে। (মুসলিম)। 

১৯.    জান্নাতের ইট স্বর্ণ ও রৌপ্য দ্বারা তৈরি। কঙ্কর হলো মণিমুক্তা, আর মশলা হলো সুগন্ধিময় কস্তুরী। (তিরমিজি)। 

২০.    জান্নাতের সব গাছের কা- হবে সোনালিবরণ। (তিরমিজি)। 

২১.    জান্নাতের ১০০টি স্তর আছে, দুইস্তরের মধ্যে ব্যবধান শত বছরের। (তিরমিজি)। 

২২.    জান্নাতের ১০০ স্তরের যে কোনো এক স্তরে সারা বিশ্বের সব লোক একত্রিত হলেও তা যথেষ্ট হবে। (তিরমিজি)। 

২৩.    জান্নাতের উচ্চ বিছানা আসমান-জমিনের মধ্যবর্তী ব্যবধানের পরিমাণ ৫০০ বছরের পথ। (তিরমিজি)। 

২৪.    জান্নাতি প্রত্যেক ব্যক্তিকে ১০০ পুরুষের শক্তি দান করা হবে। (তিরমিজি)। 

২৫.    জান্নাতবাসী কেশবিহীন, দাড়িবিহীন হবে। তাদের চোখ সুরমায়িত হবে। (তিরমিজ)। 

২৬.    জান্নাতবাসী ৩০ বা ৩৩ বছর বয়সীর মতো জান্নাতে প্রবেশ করবে। (তিরমিজি)। 

২৭.    জান্নাতে অবস্থিত কাওসারের পানি দুধ অপেক্ষা অধিক সাদা এবং মধুর চেয়েও মিষ্টি হবে। (তিরমিজি)। 

২৮.    জান্নাতবাসী উট ও ঘোড়া চাইলে দুটোই পাবে এবং তা ইচ্ছেমতো দ্রুত উড়িয়ে নিয়ে যাবে। তাতে তুমি সে সব জিনিস পাবে যা কিছু তোমার মন চাইবে এবং তোমার নয়ন জুড়াবে। (তিরমিজি)। 

২৯.    জান্নাতবাসী ১২০ কাতার হবে। তার মধ্যে ৮০ কাতার হবে এ উম্মতের। অবশিষ্ট ৪০ কাতার হবে অন্যান্য উম্মতের। (তিরমিজি)। 

৩০.    জান্নাতে একটি বাজার আছে সেখানে ক্রয়-বিক্রয় নেই। সেখানে নারী-পুরুষের আকৃতিগুলো থাকবে। সুতরাং যখনই কেউ কোনো আকৃতিকে পছন্দ করবে তখন সে সেই আকৃতিতে রূপান্তরিত হবে। (তিরমিজি)। 

৩১.    জান্নাতবাসীর ওপর এক খ- মেঘ আচ্ছন্ন করে ফেলবে। তাদের ওপর এমন সুগন্ধি বর্ষণ করবে যে, অনুরূপ সুগন্ধি তারা আর কখনও পায়নি। জান্নাতের বাজারে একজন আরেকজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে এবং তার পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে আশ্চর্যান্বিত হবে। কিন্তু তার কথা শেষ হতে না হতেই সে অনুভব করবে যে, তার পোশাক তার চেয়ে আরও উত্তম হয়ে গেছে। এটা এ জন্য যে, জান্নাতে দুশ্চিন্তার কোনো স্থান নেই। তাদের স্ত্রীদের কাছে ফিরে এলে তারা বলবে, তুমি আগের চেয়ে সুন্দর হয়ে ফিরে এসেছ। (তিরমিজি)। 

৩২.    ছোট্ট বয়সী বা বৃদ্ধ বয়সী লোক মারা গেলে জান্নাতে প্রবেশের সময় ৩০ বছর বয়সী হয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে। এ বয়স কখনও বৃদ্ধি হবে না। জান্নাতবাসী যখন সন্তান কামনা করবে, তখন গর্ভ, প্রসব ও তার বয়স চাহিদা অনুযায়ী মুহূর্তের মধ্যে সংঘটিত হয়ে যাবে। (তিরমিজি)। 

৩৩.    জান্নাতে হুরদের সমবেত সংগীত শোনা যাবে। এমন সুরে যা আগে কখনও শোনা যায়নি। তারা বলবে, আমরা চিরদিন থাকব, কখনও ধ্বংস হবো না। আমরা সুখে আনন্দে থাকব, কখনও দুঃখ-দুশ্চিন্তা হবে না। আমরা সব সময় সন্তুষ্ট থাকব, কখনও নাখোশ হবো না। সুতরাং তাকে ধন্যবাদ যার জন্য আমরা এবং আমাদের জন্য যিনি। (তিরমিজি)। 

৩৪.    জান্নাতে রয়েছেÑ ১. পানির নহর ২. মধুর নহর ৩. দুধের নহর ৪. শরাবের নহর। তারপর তা থেকে আরও বহু নদী প্রবাহিত হবে। (তিরমিজি)। 

৩৫.    জান্নাতে একজন কৃষি কাজ করতে চাইবে। তার পর সে বীজ বপণ করবে এবং চোখের পলকে অঙ্কুরিত হবে, পোক্ত হবে এবং ফসল কাটা হবে। এমনকি পাহাড় পরিমাণ স্তূপ হয়ে যাবে। আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! নিয়ে যাও, কোনো কিছুতেই তোমার তৃপ্তি হয় না। (বোখারি)। 

৩৬.    জান্নাতে এক ব্যক্তি ৭০টি তাকিয়ায় হেলান দিয়ে বসবে। এ শুধু তারই স্থান নির্ধারিত থাকবে। একজন মহিলা এসে সালাম দিয়ে বলবে, ‘আমি অতিরিক্তের অন্তর্ভুক্ত।’ তার পরনে থাকবে রঙ-বেরঙের ৭০ খানা শাড়ি এবং তার ভেতর দিয়েই তার পায়ের নলার মজ্জা দেখা যাবে। তার মাথার মুকুটের আলো পূর্ব থেকে পশ্চিম প্রান্তের মধ্যবর্তী স্থান আলোকিত করে দেবে। [আহমদÑ আবু সাঈদ (রা.)]। 

৩৭.     জান্নাতবাসী নিদ্রা যাবে না। নিদ্রতো মৃত্যুর সহোদর আর জান্নাতবাসী মরবে না। (বায়হাকি)। 

৩৮.    আল্লাহ তায়ালা হিজাব বা পর্দা তুলে ফেলবেন, তখন জান্নাতবাসী  আল্লাহর দিদার বা দর্শন লাভ করবে। আল্লাহর দর্শন লাভ ও তার দিকে তাকিয়ে থাকার চেয়ে অধিকতর প্রিয় কোনো বস্তুই এ যাবৎ তাদের প্রদান করা হয়নি। (মুসলিম)। 

৩৯.    বারা বিন আযেব (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেছেন, কবরে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মোমিন বান্দার কাছে দুইজন ফেরেশতা এসে তাকে উঠিয়ে বসায়। তারপর তাকে জিজ্ঞেস করে, তোমার রব কে? সে উত্তর দেয় আমার রব ‘আল্লাহ’। তারা জিজ্ঞেস করে, তোমার দ্বীন কী? সে উত্তর দেয়, আমার দ্বীন ‘ইসলাম’। তারা জিজ্ঞেস করে, তোমাদের মাঝে যিনি প্রেরিত হয়েছিলেন তিনি কে? সে উত্তর দেয় তিনি হলেন ‘আল্লাহর রাসুল’। তারা জিজ্ঞেস করে, তুমি এসব কীভাবে জানলে? সে উত্তর দেয়, আমি আল্লাহর কিতাব পড়েছি, তার ওপর ঈমান এনেছি ও তাকে সমর্থন করেছি। তখন আকাশ থেকে একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করে, আমার বান্দা সত্য বলেছে, আমার বান্দার জন্য জান্নাতের একটি বিছানা বিছিয়ে দাও, তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও এবং তার জন্য জান্নাতের একটি দরজা খুলে দাও। তখন তা খুলে দেয়া হয়। রাসুল (সা.) বলেন, ফলে তার দিকে জান্নাতের স্নিগ্ধ বাতাস এবং সুগন্ধি আসতে থাকে। তার জন্য কবরের স্থানকে দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়। (আহমদ)।

৪০.    যে ব্যক্তি কোরআন পড়েছে, তাকে (সমাজে কোরআনের বিধান) প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে, কোরআনে বর্ণিত হালালগুলোকে হালাল জেনে মেনেছে, হারামগুলোকে হারাম মনে করেছে এবং বর্জন করে চলেছে। আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন এবং তার পরিবারের জাহান্নামযোগ্য ১০ জনের বিষয়ে সুপারিশ করতে পারবেন। (তিরমিজি)।

১৬ মার্চ, ২০১৭ ১০:০৩:০৬